Deprecated: Required parameter $display_count follows optional parameter $sharing_type in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/sassy-social-share/public/class-sassy-social-share-public.php on line 292

Deprecated: Required parameter $total_shares follows optional parameter $sharing_type in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/sassy-social-share/public/class-sassy-social-share-public.php on line 292
মঙ্গলকাটায় ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক চলাচলে চরম ভোগান্তি – সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক

মঙ্গলকাটায় ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক চলাচলে চরম ভোগান্তি

আকরাম উদ্দিন
সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের পাহাড়ি ঢলে ভেঙে যাওয়া মঙ্গলকাটা-মীরেরচর এলাকার মূল সড়ক এখনও সংস্কার হয়নি। গত জুন মাসে পাহাড়ি ঢলে সড়কের বিভিন্ন স্থান ভেঙে যাওয়ার পর যানবাহন ও মানুষ চলাচলে মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হয়ে আসছে। স্থানীয়দের উদ্যোগে সড়কে নির্মিত বাঁশের সাঁকো’র বিভিন্ন স্থান এখন ভেঙে পড়ছে। এই সাঁকো দিয়ে চলাচলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে। সড়কের দ্রুত সংস্কারের দাবি নানা শ্রেণী পেশার মানুষের।
স্থানীয়রা জানান, চলতি বছরের জুন মাসে দলাই নদীর পানি উপচে পাহাড়ি ঢলের প্রবল বেগে মঙ্গলকাটা-মীরেরচর এলাকার মূল সড়ক ভেঙে যায়। এতে যানবাহন ও মানুষজন চলাচলে মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়েন। এই খবর পেয়ে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে সড়ক সংস্কারের আশ্বাস দিয়ে আসেন। এই সড়কের একাধিক স্থানে স্থানীয়রা মাটি ভরাট ও বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে মানুষ ও যানবাহন চলাচলের সুবিধা করে দেন। দীর্ঘ পাঁচ মাস যাবত অপেক্ষার পরও সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন মঙ্গলকাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের, মীরেরচর ইয়াকুবিয়া দাখিল মাদ্রাসার, মঙ্গলকাটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের, কৃষ্ণনগর হোসেনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থী যাতায়াতে ভোগান্তির শিকার হয়ে আসছেন। এছাড়াও নারায়নতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী, সড়কের ভাঙন এলাকার ২টি হাফিজিয়া মাদ্রাসার ও ৫টি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষার্থীরা এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করে থাকেন। এই সড়ক দিয়ে হালুয়ারঘাট-মঙ্গলকাটা বাজার-মীরেরচর হয়ে চৌমুহনী ও ডলুরা আসা-যাওয়া করেন বিভিন্ন শ্রেণী পেশার প্রায় ৫০ হাজার মানুষসহ যানবাহন।
মীরেরচর মাদ্রাসার শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস ও মঙ্গলকাটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শান্তনা বেগম বলেন,‘আমরা এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন আসা-যাওয়া করি। প্রায় সময় বাঁশের সাঁকো থেকে পড়ে আঘাত পাই।’ মঙ্গলকাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী নুর মোহাম্মদ ও আফরোজা আক্তার আঁখি বলেন,‘বাঁশের সাঁকো এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন সাঁকো থেকে পড়ে ৩-৪টি দুর্ঘটনা ঘটে।’
মঙ্গলকাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলাম বলেন,‘এলাকার কয়েকটি বিদ্যালয়ের এবং মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা আসা-যাওয়া করেন এই সড়ক দিয়ে। তবে সড়কের ভাঙনের অংশ সহ বাঁশের সাঁকো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।’
মীরেরচর দাখিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাও. জমির উদ্দিন মাসুক বলেন,‘আমার মাদ্রাসার সামনে থেকে মঙ্গলকাটা বাজার এলাকা পর্যন্ত সড়কে একাধিক স্থানে ভাঙন রয়েছে। এই ভাঙনের সংস্কার না হওয়ায় মানুষের ভোগান্তি এখন চরমে। সড়ক সংস্কারে উদ্যোগ নেয়া জরুরি প্রয়োজন।’
সুনামগঞ্জ উত্তর সুরমা উন্নয়ন পরিষদের আহ্বায়ক মো. আব্দুর রব বলেন,‘চলতি বছরের জুন মাসের বন্যায় মঙ্গলকাটা বাজারের পশ্চিম পাশ থেকে শুরু করে মীরেরচর মাদ্রাসার সামনে পর্যন্ত সড়কে ভয়াবহ ভাঙন সৃষ্টি হয়। এ সময় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত সড়কের সংস্কার না হওয়ায় যানবাহন ও মানুষ চলাচলে চরম ভোগান্তির শিকার হয়ে আসছেন।’
সদর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন,‘মঙ্গলকাটা-মীরেরচর এলাকার মূল সড়ক বন্যার সময় ভেঙে যাওয়ার পর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। বাজেট আসলে কাজ হবে।’ সড়কে যাতায়াত সুবিধার্থে স্থানীয়দের উদ্যোগে নির্মাণ করা বাঁশের সাঁকো ভেঙে পড়ার আশংকা রয়েছে। এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,‘জরুরি কোনো বরাদ্দ করা যায় কিনা নির্বাহী প্রকৌশলী মহোদয়ের সাথে আলাপ করে দেখব।’