মজুরী বৈষম্যে নারীরা

মো. ওয়ালী উল্লাহ সরকার, জামালগঞ্জ
রোদ বৃষ্টি উপেক্ষা করে ও মানুষের নেতিবাচক কথার পরেও পরিবারের দিকে তাকিয়ে বছরের পর বছর বিভিন্ন খাতে শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন জামালগঞ্জের নারী শ্রমিকরা। একজন পুরুষ শ্রমিকের সমান কাজ করেও বেতন পাচ্ছেন কম। প্রতি নিয়তই বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন তারা।
জামালগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নারী শ্রমিকরা ধানের চারা রোপন ও পরিচর্যা, পাথর ভাঙা, বালি পাথর ও মাটি কাটা কাজ সহ বিভিন্ন কাজ করছেন। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত কাজ করলে একদিনের কাজ ধরা হয়। এই একদিনের বেতন পুরুষ পাচ্ছে ৬শত’ টাকা আর নারীরা পাচ্ছেন ৪শত টাকা। দু:খ জনক হলেও সত্য কর্মক্ষেত্রে পুরুষ ও নারী শ্রমিক একই দলে একই কাজ করে যাচ্ছেন। তিনজন মাটি কাটলে বাকীরা মাটি মাথায় করে যথাস্থানে নিয়ে ফেলেন। টুকরিতে যে মাটি বা বালি তুলে দেন, সেই টুকরি মাথায় বদল করে নারী ও পুরুষের মাথায় করে যথাস্থানে নিয়ে ফেলেন। একই ওজন, একই টুকরী, একই রাস্তা- কিন্তু তারপরেও নারীরা বৈষম্যের শিকার। পরিবারের ক্ষুধা নিবারনে বৈষম্য উপেক্ষা করে কাজ করতে হচ্ছে তাদের। অসুস্থ হলে কিংবা কাজে একটু ক্রুটি হলে বেতন কাটা হতে শুরু করে কাজও হারাতে হয় তাদের।
উপজেলা জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নে চাঁনপুর গ্রামের পাথর শ্রমিকের কাজ করেন রহিমা খাতুন। তিনি বলেন, আমরা পুরুষের সমান কাজ করি। তার পরও টেহা কম দেয় মালিকরা। টেহা বেশী চাইলে তারা আমাদেরকে বাদ দিয়ে দেয়। তাই তাদের ইচ্ছা মতো বেতন নিয়ে কাজ করি।
তেলিয়া গ্রামের বালি শ্রমিক তাহেরা বেগম বলেন, আমরা সকাল ৮টায় কাজে যাই, বিকাল ৫টায় আসি। সারাদিন কাজ করে ৩-৪শত’ টাকা পাই। আর পুরুষরা সারা দিন কাজ করে ৬-৭শত’ টাকা পায়। আমরা যে টাকা পাই তা দিয়ে সংসার চলে না। জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় একটা কিনলে আর একটা কেনা হয় না।
চাঁনপুর গ্রামের পুরুষ শ্রমিক লাল মামুদ বলেন, নারীরা আমাদের সমান কাজ করলেও মজুরী কম পায় সত্যি। কিন্তু যুগযুগ ধরে এভাবেই চলে আসছে। তাই তারা কম টাকায় কাজ করে।
উপজেলা মহিলা পুরুষের সভানেত্রী শেখ আয়েশা বেগম বলেন, স্বাধীনতার ৫৩ বছরেও নারী প্রতি বৈষম্য দূর হয়নি। বছরের পর বছর বিভিন্ন খাতে নারীরা শ্রম দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু একজন পুরুষ শ্রমিকের সমান কাজ করেও বেতন পায় কম। এটা আসলেও অত্যন্ত দুঃখজনক।
উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বীনা রানী তালুকদার বলেন, সমাজের বিভিন্ন স্তরে নারীদের ক্ষমতায়ন হয়েছে এবং পদায়নও হয়েছে। নারী পুরুষ সমন্বয়ে কাজের মাধ্যমে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। নারীরা আন্তরিকতার সাথে কাজ করে, তারা কাজে ফাঁকি দেয় না। তাই মজুরী বৈষম্য এটা মেনে নেওয়া যায় না। আমি সংশ্লিষ্টদের কাছে জোর দাবি জানাই, নারী পুরুষ বৈষম্য দূর করে মজুরী সমান দেওয়ার জন্য।