ইয়াকুব শাহরিয়ার, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ
আগামী শনিবার দক্ষিণ সুনামগঞ্জের পূর্ব বীরগাঁওয়ে খেতাশাহ্’র মাজারকে কেন্দ্র্র করে বসছে উপজেলার সবচেয়ে বড় বাউল গানের আসর। স্থানীয়রা এ গানের আসরকে উরুস বলেই সম্মোধন করে থাকেন। জেলা, বিভাগ তো বটেই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটবে এ উরুসকে কেন্দ্র করে। দোকানপাট, ক্রেতা আর উৎসুক দর্শনার্থীর উপস্থিতিতে গিজগিজ করবে চারদিকে। সব আয়োজন গুটিয়ে এনে এখন মাহেন্দ্র্রক্ষণের (তাদের ভাষায়) অপেক্ষায় আয়োজক কমিটি। শুধু যে আয়োজক কমিটিই অপেক্ষায় রয়েছেন তা নয়, অপেক্ষায় উপজেলার বিভিন্ন মাদকচক্রও। এ উরুসকে কেন্দ্র করে আগের দিন ও বিশেষ করে উরুসের দিন প্রকাশ্যে বসবে মদ, গাঁজা ও জুয়ার আসর। এটা এক রকম অপেন সিক্রেট বিষয়ে পরিণত হয়েছে এখানে। প্রশাসন যেনো সব কিছু দেখেও দেখছেন না। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে দাঁড়ায় যে, মনে হয় আয়োজক কমিটি মদ, গাঁজা আর জুয়ার আসরের অনুমতি দিয়েই এখানে আসর বসান। এসব ছাড়া যেনো চলেই না।
স্থানীয়রা জানান, শুধু মদ, গাঁজা, জুয়াই নয় নারী কেলেঙ্কারির মতো ঘটনাও ঘটে একদিনের এ আয়োজনে। এসব অনৈতিক কাজের সাথে গোপনে যোগসাজশও আছে কথিত মাজার কমিটির। তারা দোকানপাট বসতে দেয় এবং মাজারের নাম করে চাঁদা উঠায়। এসব চাঁদার টাকার কোনো অংশই সরকারী কোষাগারে, ইউনিয়ন পরিষদ তহবিলে কিংবা গ্রামের কোনো উন্নয়নে ব্যয় হয় না, এমন কি শেষমেশ এসব টাকা পয়সার কোন হিসাবও পাওয়া যায় না। সূত্র জানিয়েছে, মাজারের উরুস কমিটিতে থাকা প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নিজেদের মাঝে ভাগবাটোয়ারা করে নেন এসব টাকা।
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূর কালাম বলেন, ‘শুনেছি একটু আধটু গাঁজা খাওয়া হয়। বাকী অনৈতিক কাজের কথা জানি না। তবে যদি কোনো অনৈতিক কাজ হয়, তা বন্ধ হওয়া দরকার। আমাদের পরিষদ এখান থেকে কোনো টাকা পায় না।’
টিপু সুলতান নামের একজন নিজেকে উরুস কমিটির সহ-সভাপতি দাবী করে বলেন, ‘এখানের উরসের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন, চেয়ারম্যান, পুলিশ প্রশাসনসহ সকলেই অবগত থাকেন। তারা অনেকে এখানে আসেনও। মদ, জুয়াতো একদম নিষেধ। নারী কেলেঙ্কারির ঘটনা জীবনেও ঘটেনি। গাঁজা কেউ কেউ খায়। এখানে বাধ্যতামূলক কোনো টাকা উঠানো হয় না। শিন্নীর নামে কেউ টাকা দিলে আমরা তা নেই। এবং তা মাজার উন্নয়নের জন্য ব্যবহার করা হয়। অনৈতিক কাজ যেনো না হয় তার জন্য আমরা বরাবর প্রশাসনের সাহায্য কামনা করি।’ সাবেক ওয়ার্ড মেম্বার শহিবুর রহমান ও আবুল খয়ের নামের আরো দুই আয়োজক টিপু সুলাতানের সাথে সুর মিলান।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা মাদকের ব্যাপারে একদম জিরো টলারেন্সে আছি। আমরা কোনো ভাবেই ছেড়ে কথা বলবো না।’
- দক্ষতা ও কর্মতৎপরতায় জেলার শ্রেষ্ঠ ইউনিয়ন পরিষদ সাচনাবাজার
- বংশীকুন্ডা মমিন উচ্চ বিদ্যালয়- ম্যানিজিং কমিটির ভোটার তালিকা প্রণয়নে পালাপাল্টি অভিযোগ


