বিশেষ প্রতিনিধি
মধ্যনগর থানার চামরদানী ও মধ্যনগর সদর ইউনিয়নের মধ্যবর্তী কালাহানি (কাইলানী) জলমহালের মাছ ধরা নিয়ে সাব ইজারাদার ও জলমহালের আশপাশের গ্রামের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এনিয়ে যে কোন সময় রক্তক্ষয়ি সংঘর্ষের আশংকা করছেন স্থানীয়রা।
চামরদানী ও মধ্যনগর সদর ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত দুই ইউপি চেয়্যারম্যানের উদ্যোগে আজ শনিবার দুপুরে মধ্যবাজার বৈঠকে বসা হবে জানা গেছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, চামরদানী ও মধ্যনগর সদর ইউনিয়নের মধ্যবর্তী মাছিমপুর গ্রামের সামনে কালাহানি (কাইলানী) জলমহালে আশপাশের ১২-১৪টি গ্রামের মানুষ যুগ যুগ ধরে মাছ ধরছেন। এই জলমহালের মাছ দিয়ে এলাকাবাসী প্রতিদিনের আমিষের চাহিদা পূরণ ও জেলেরা জীবিকা নির্বাহ করেন। গেল বছর এই জলমহালটি সরকারের কাছ থেকে ইজারা নেন ধর্মপাশা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মনীন্দ্র তালুকদার। তিনি সুখাইড় সমসেরাবাদ মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির নামে এই জলমহালটিসহ আরো কয়েকটি জলমহাল উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে ৬ বছরের জন্য বন্দোবস্ত নিয়েছেন। গত বছর ওই জলমহালের মাছ ধরার সময় এলাকাবাসীর বাধা ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের হস্তক্ষেপে জলমহালটি উন্মুক্ত রাখা হয় সবার মাছ ধরার জন্য। কিন্তু এবছর এলাকার কিছু প্রভাবশালী লোক মনীন্দ্র তালুকদারের কাছ থেকে জলমহালটি সাব ইজারা নিয়ে মাছ ধরার চেষ্টা করছেন একই সাথে আশপাশের সকল গ্রামের লোকজনকে মাছ ধরতে নিষেধ করছেন। এতে এলাকারবাসীর মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
কাইলানী জলমহালের তীরবর্তী সুলেমানপুর, মজলিসপুর,রামদীঘা, দৌলতপুর, সাফারিপাড়া, নগদাপাড়া, আমজোড়া, শাহপুর, জলুসা, আবিনগর, দুগনই, মাছিমপুর, কান্দাপাড়া, সম্পদপুর গ্রামের লোকজন ঐক্যবদ্ধভাবে মাছ ধরা ও জলমহালটি উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। একই দিকে সাব ইজারাদারদের লোকজনও ঘোষণা দিয়েছেন জলমহালে মাছ ধরা বজায় ও এলাকাবাসীকে প্রতিহত করার। এ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন মধ্যনগর থানার পুলিশ।
বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধান ও সংঘর্ষ এড়াতে এলাকাবাসীদের নিয়ে বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চামরদানী ও মধ্যনগর সদর ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত ইউপি চেয়্যারম্যান প্রবীর বিজয় তালুকদার দেবল ও জাকিরুল আজাদ নান্না।
ধর্মপাশা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্তÍ সভাপতি মনীন্দ্র তালুকদার বলেন,‘আমি এই বিলের ইজারাদার নই। এটা ৬ বছরের জন্য ইজারা নিয়েছে সুখাইড় সমসেরাবাদ মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি। গত বছর নির্বাচন ছিল মাছ ধরার সময়, এলাকাবাসী খাজনার টাকা দিবেন বলায় সমিতির লোকজন তাদেরকে মাছ ধরার সুযোগ দিয়েছিল। এলাকাবাসীর সাথে আলোচনা সভায় আমি উপস্থিত ছিলাম। কিন্তু পরে তারা খাজনার টাকা পরিশোধ করেন নি। এবারও আবার এলাকাবাসী জলমহালটি উন্মুক্ত রাখার দাবি তুলছেন। কিন্তু ইজারাদার সমিতি বিলে বাঁশ-কাটা দিয়েছে এবং খাজনার টাকা পরিশোধ করেছেন। ইজারাদার সমিতি বলছে এবার তারা এলাকাবাসীকে আর মাছ ধরার জন্য দিবেন না। এনিয়ে ঝামেলা সৃষ্টি হয়েছে। মাছ ধরার সময় এখনও আসেনি তবে বিলটি উন্মুক্ত রাখার দাবি করছেন এলাকার লোকজন।’
মধ্যনগর সদর ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়্যারম্যান প্রবীর বিজয় তালুকদার দেবল বলেন,‘উন্মুক্ত এই জলমাহল থেকে এলাকার ১৪টি গ্রামের মানুষ যুগযুগ ধরে মাছ ধরে খাচ্ছেন। একই সাথে জেলেরা মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করছেন। গত বছর যখন ইজারা প্রদান করা হয়েছিল তখন এলাকার মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করেছিল, আমি নিজেও তাদের সাথে ছিলাম। আমাদের সংসদ সদস্য মহোদয় এলাকাবাসীর দাবির সাথে একমত পোষণ করেছিলেন। জলমহালটি উন্মুক্ত ছিল এবং এলাকাবাসী সারা বছরই মাছ ধরতে পেরেছেন। এবার নতুন করে এই জলমহাল নিয়ে আবারো ঝামেলা শুরু হয়েছে। সমস্যা সমাধানের জন্য আজ শনিবার মধ্যনগর বাজারে সবাইকে নিয়ে বসা হবে।’
চামরদানী ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়্যারম্যান প্রভাকর তালুকদার পান্না বলেন,‘কাইলানী জলমহালটি জনস্বার্থে উন্মুক্ত রাখা প্রয়োজন কারণ এটার উপর এলাকার দুই ইউনিয়নের হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকা জড়িত। গত বছরও মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে ইজারাদার ও এলাকাবাসীর মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত জলমহালটি উন্মুক্ত ছিল এবং সবাই মাছ ধরার সুযোগ পেয়েছেন। এলাকার সাধারণ মানুষ ও জনস্বার্থে এটি উন্মুক্ত রাখাই প্রয়োজন।’
মধ্যনগর থানার ওসি মাজহারুল হক বলেন,‘উত্তেজনার খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার এলাকায় পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। স্থানীয় লোকজন বলছেন উভয় পক্ষ বসে বিষয়টির একটা সমাধান করা হবে। যদি আলোচনায় কোন সমাধান না হয় তাহলে আইনশৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’
- ছাত্রলীগের ত্রাণ বিতরণ সার্কিট হাউসে হাতাহাতি-ভাঙচুর
- আ.লীগের সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ কমিটি গঠনে ধীরগতি


