মধ্যনগরের ঘুরমার হাওরে ঢুকছে পানি

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
ধর্মপাশা উপজেলার মধ্যনগর থানাধীন চামরদানী ইউনিয়নের ঘুরমার হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ দিয়ে হাওরে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হাওর এলাকার নদ নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় শুক্রবার দিবাগত রাত চারটা থেকে ওই বাঁধ দিয়ে হাওরে পানি ঢুকতে থাকে। এই বাঁধের ভিতর দিকে আরো একটি বাঁধ দিয়ে স্থানীয় কৃষকেরা পানি আটকানোর চেষ্টা করছেন। স্থানীয় কৃষকেরা তাদের ফসল হারানোর ভয়ে অজানা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
জানা যায়, উপজেলার চামরদানী ইউনিয়নের ঘুরমার হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের দুই পাশে ১৫/২০ দিন আগে থেকে শুধু বাঁশের খুঁটি পুঁতে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে বাঁধের কোথাও কোনো মাটি ফেলা হয়নি। ভারি বৃষ্টিতে ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে এই অরক্ষিত বাঁধ দিয়ে হাওরে পানি ঢুকতে শুরু করে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, গেল বছরের ১৫ ডিসেম্বর থেকে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ শুরু করার কথা। কিন্তু অধিকংশ পিআইসি তাদের নির্ধারিত সময়ে বাঁধের কাজ শুরু করতে পারেনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন        
কৃষক জানান, শুক্রবার রাত চারটা থেকে হাওরে পানি ঢুকছে। চামরদানি ইউপি চেয়ারম্যান জাকিরুল আজাদ মান্না ওই পিআইসির চেয়ারম্যান। তিনি সরকার দলের চেয়ারম্যন হওয়ায় ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে কাজ শুরু করতে দেরি করেছেন। তাঁর কারণেই আজ আমাদের হাওরের ফসল ডুবতে বসেছে।
ইসলামপুর গ্রামের কৃষক আইনিছ মিয়া বলেন,‘আমি গরীব মানুষ। এই হাওরে আমার আট কেয়ার জমি রয়েছে। এই জমি যদি পানিতে তলিয়ে যায় তাহলে আমি পথে বসে যাব।’
চামরদানী গ্রামের বাসিন্দা বিদ্যুৎ কান্তি সরকার বলেন, গত বছরও অকাল বন্যায় হাওরের ফসল পানিতে তলিয়ে যায়। এবারও পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পিআইসির গাফিলতির কারণে হাওরে পানি ঢুকছে। পিআইসি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের অসাধু কর্মকর্তারা বরাদ্দকৃত টাকা আত্মসাৎ করার জন্যই বাঁধের কাজ দেরিতে শুরু করে। তারা আমাদের কৃষকের কথা চিন্তা করে না।
চামরদানী ইউপি চেয়ারম্যান ও পিআইসি চেয়ারম্যান জাকিরুল আজাদ মান্নার মোবাইল বন্ধ থাকায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শোয়েব আহমেদ বলেন,‘এই হাওরে ১৫২৪ একর জমি চাষাবাদ করা হয়েছে। হাওরে সামান্য পানি ঢুকলেও ফসল ডুবির কোনো ঘটনা এখনো ঘটেনি।’
ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইয়াছিন কবীর বলেন,‘হাওরে সামান্য পানি ঢুকলেও ফসলের কোনো ক্ষতি হয়নি। বাঁধটি রক্ষার সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে।’
জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম বলেন,‘পাহাড়ি ঢলের কারণে নদীর পানি কিছু বেড়েছিল। গতকাল থেকে পানি কমতে শুরু করছে। সকল পিআইসির দ্রুত বাঁধের কাজ শেষ করার জন্য ও পাউবোকে সার্বক্ষণিক কাজ তদারকি করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আমি নিজে সকল হাওরের খোঁজ খবর রাখছি।’