মমিনুল মউজদীন একজন আলোকিত মানুষ ছিলেন

স্টাফ রিপোর্টার
মরমি সাধক হাসন রাজার প্রপৌত্র ও সুনামগঞ্জ পৌরসভার তিনবারের পৌর চেয়ারম্যান প্রয়াত কবি মমিনুল মউজদীনের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকীর স্মরণসভায় বক্তারা বলেছেন, মমিনুল মউজদীন একজন আলোকিত মানুষ ছিলেন। তিনি জোছনা উপভোগ করার জন্য রাতে শহরের সড়ক বাতি নিভিয়ে দিতেন। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি সব সময় অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। মানুষের জন্য কাজ করেছেন বলেই মানুষ এখনো তাঁকে মনে রেখেছে।
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের চেম্বার ভবন মিলনায়তনে সোমবার দুপুরে এই স্মরণসভার আয়োজন করে মমিনুল মউজদীন স্মৃতি সংসদ। ২০০৭ সালের এই দিনে ঢাকা থেকে সুনামগঞ্জ ফেরার পথে বাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইলে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মমিনুল মউজদীন, তাঁর স্ত্রী তাহেরা চৌধুরী, ছেলে কাহলিল জিবরান ও ব্যক্তিগত গাড়ি চালক কবির মিয়া মারা যান। স্মরণসভার আগে তাঁদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন ও বিশেষ মোনাজাত হয় আয়োজকদের পক্ষ থেকে।
স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন প্রবীণ শিক্ষক মো. আলী হায়দার। বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জে সমাজকর্মী পারভেজ আহমদ চৌধুরী, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান ইমদাদ রেজা চৌধুরী, পৌরসভার সাবেক মেয়র নুরুল ইসলাম, পৌরসভার প্যানেল মেয়র কাউন্সিলর আহমদ নূর, সমাজকর্মী ঝুটন পুরকায়স্থ, দেওয়ান সাজাউর রাজা চৌধুরী, মোমেন চৌধুরী, মো. মহিউদ্দিন, আবু সাদাদ টিটো, মাওলানা এমদাদুল হক, ইব্রাহিম আলী, দেওয়ার রাবিন আনোয়ার প্রমুখ।
স্মরণসভা বক্তারা আরও বলেন, মমিনুল মউজদীন সুনামগঞ্জ থেকে ২০০২ সালে মাদকের বিরুদ্ধে প্রথম আন্দোলন শুরু করেন। পরে সেটি দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। একইভাবে তিনি নিরাপদ সড়কের দাবি, পরীক্ষায় নকল ও প্রশাসনিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করে দেশব্যাপী পরিচিতি পান। তিনি পৌরসভার নিয়মিত কাজের বাইরে পৌর শহরে একটি কলেজ ও ছয়টি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর সময়ে শহরের সব মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিন এবং মন্দিরের পুরহিতদের ভাতা দেওয়ার বিষয়টি চালু করেন।
কবি মমিনুল মউজদীনের প্রকাশিত দুটি কাব্যগ্রন্থ হলো: ‘এ শহর ছেড়ে পালাবো কোথায়’ ও ‘হৃদয় ভাঙ্গার শব্দ’।