আশিক মিয়া, দোয়ারাবাজার
দোয়ারাবাজার উপজেলার পান্ডারখাল বাঁধের দুই দিকে মরা সুরমা নদীর জলমহালে হরিলুটের কারণে লাখ লাখ টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। এক বছর যাবৎ সমিতির নাম ভাঙ্গিয়ে কোন ধরনের লিজ ছাড়াই অবৈধ ভাবে লাখ লাখ টাকার মাছ ধরছে এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তিরা। এব্যপারে দোহালীয়া ইউনিয়নের জীবনপুর কুমারনি কান্দি মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সদস্য আইজুল হক জেলা প্রশাসক বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগও করেছেন।
গত ২৮ সে নভেম্বর কোনা জাল দিয়ে মঙ্গলপুর গ্রামের পাশে মরা সুরমা নদীতে আড়াআড়ি ভাবে বেড় দিয়ে মাছ ধরার সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে নৌকা ও জাল আটক করেন। এসময় আটককৃত কোনা জাল পুড়ানো হয় এবং নৌকা বাজিতপুর গ্রামের মলি হোসেনের কাছে জিম্মায় দেয়া হয়।
অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, গত বৈশাখ মাস
থেকে দোহালীয়া ইউনিয়নের জিবনপুর কুমারনি কান্দি গ্রামের মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক ‘আজাদ মিয়া, রগুরামপুর সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামাল মিয়া, বাজিতপুর গ্রামের ফয়জুন নুর, নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল লোক প্রতিদিন কোনা জাল ও কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ ধরছে।
জীবনপুর কুমারনি কান্দি মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সদস্য আইজুল হক বলেন, ‘আমাদের সমিতির নাম ভাঙ্গিয়ে আমাদের সমিতির সাধারণ সম্পাদক আজাদ মিয়া ও রগুরামপুর সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামাল মিয়া তারা দুই সারা বছর লাখ লাখ টাকার মছ মারছে।’
রগুরামপুর সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামাল মিয়া বলেন, ‘আমরা মরা সুরমা নদীতে ঝোপ জঙ্গল ফেলো নদীর মাছ সংরক্ষণ করিয়া আসছি। সেই সুবাদে আমরা সমিতি পক্ষে সরকারী নিয়ম অনুযায়ী লিজ পাবার জন্য কাজ করে যাচ্ছি।’
দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মহুয়া মমতাজ বলেন, ‘এবছর মরা সুরমা নদীর জল মহাল লিজ হয়নি। সেহেতু নদীটি সরকারের নিয়ন্ত্রনে থাকার কথা, কারও দখল থাকার কথা নয়। যে বা যারা নদীতে মাছ ধরবে আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’


