পৌর শহরের মল্লিকপুর আব্দুজ জহুর সেতুর নীচের পশ্মিম পাশের সড়কের একটি অংশ নিয়ে গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। মল্লিকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও আইডিয়াল একাডেমির সামনের এই সড়কটুকু ভেঙে গিয়ে জলাবদ্ধ হয়ে রয়েছে বলে সংবাদে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়। শিশুদের দুইটি বিদ্যায়তন ও একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কার্যালয় থাকার কারণে সড়কের এই ভগ্নদশা শিশু শিক্ষার্থী ও পথচারীদের দুর্ভোগের কারণ হয়ে আছে। ময়লা পানি মাড়িয়ে শিক্ষার্থীদের চলাচল করতে হয়। আব্দুজ জহুর সেতু হওয়ার পর এই সেতুর নিচের রাস্তাটি শুরু থেকেই অবহেলার শিকার হয়ে আসছে বলে আমরা দেখতে পাই। বর্ণিত সড়কের বেহাল দশাও এই অবহেলার কারণেই তৈরি বলে মনে করা যেতে পারে। শিশু ও বয়স্করা যে রাস্তা দিয়ে যাতয়াত করে থাকে সেই রাস্তাটি বিশেষ মনোযোগ পাওয়ার দাবি রাখে। কিন্তু কার্যত আমরা আমাদের দেশে কর্তৃপক্ষের সেই ধরনের সচেতনতা দেখতে পাই না। সংবাদের সাথে প্রকাশিত ছবি থেকে পরিষ্কার বুঝা যায় সড়কটিতে পানি জমে রয়েছে। অথচ গত দুই সপ্তাহ ধরে কোনো বৃষ্টিপাত হচ্ছে না। তাহলে জমে থাকা এই পানি আসে কোত্থেকে? সংবাদে বলা হয়েছে, পাশর্^বর্তী একটি রেস্টুরেন্ট থেকে নিষ্কাষিত পানি রাস্তায় এসে জমে থাকে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভাল না থাকার কারণে পানি নিষ্কাষণের সুযোগ পায় না। আমরা ধারণা করতে পারি, শুধু ওই রেস্টুরেন্ট নয় বরং সড়ক পাশর্^বর্তী সকল বাসা-বাড়ি থেকেও পানি এসে রাস্তায় জমে থাকে। ময়লা পানি জমে থাকার কারণে সড়কের এই অংশে সবসময় দুর্গন্ধ থাকে। জমে থাকা ময়লা পানি মশা প্রজননের আবাসস্থল। রোগ-জীবাণু তৈরি ও ছড়ানোর উৎকৃষ্ট জায়গা হিসাবে একে চিহ্নিত করা যায় সহজেই। সুতরাং সড়কের এই অবস্থা জনস্বাস্থ্যের জন্য প্রচ- ক্ষতিকারক। বিশেষ করে শিশু শিক্ষার্থীরা সড়কের এই বেহাল দশার কারণে প্রচ- স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে। বুঝা যায়, সড়কটির দুই সমস্যা বিদ্যমান যার আশু সমাধান বাঞ্ছনীয়। এক হলো, সড়কটি মেরামত করতে হবে, দুই হলো সড়কের পাশের ড্রেনেজ ব্যবস্থারও উন্নয়ন ঘটাতে হবে।
পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও ওই এলাকার কাউন্সিলর বলেছেন, সড়কটি যেহেতু সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের তাই মেরামতের ব্যবস্থা তাদেরই করতে হবে। কিন্তু আমরা যতদূর জানি পৌর শহরের মধ্যস্ত সকল ড্রেনই পৌর কর্তৃপক্ষের আওতাধীন। সুতরাং সড়কটিকে ভাল করতে হলে দুই কর্তৃপক্ষকেই এগিয়ে আসতে হবে। এই সামান্য পরিমাণ সড়ক মেরামত কিংবা ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা কঠিন কোনো বিষয় নয়। কর্তৃপক্ষ একটু সদিচ্ছা পোষণ করলেই সমাধান হয়ে যাবে বলে আমরা মনে করি। যে সড়কের পাশে দুইটি শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও একটি সরকারি কার্যালয় রয়েছে সেই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দ্রুত সংস্কার করে ভাল অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে বলে আমরা প্রত্যাশা ব্যক্ত করি। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং সুনামগঞ্জ পৌরসভাকে এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য আমরা অনুরোধ জানাই।

