মহাবিপদ মোকাবেলা হয় যেভাবে

সজীব দে
মানুষই যে মানুষকে রক্ষা করতে পারে শতাব্দির ভয়াবহ বন্যা মোকাবেলায় সেটি আবারও সকলকেকে আশাবাদি করেছে। গত ১৬ জুন বন্যার যে ভয়াবহতা সুনামগঞ্জবাসী দেখেছেন, এরকম কঠিন লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা এর আগে কখনো ছিল না এই জেলাবাসীর। এদিন বিদ্যুৎহীনতায় সুনামগঞ্জের মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবা বন্ধ হয়ে জনজীবনে মহাসংকট তৈরি হয়। একতলার বাসিন্দাদের সকলের ঘরেই তিন থেকে আট- দশ ফুট পানি ছিল।
পানি যে এতটা বাড়বে, বন্যা যে এত সর্বব্যাপী হবে, সেটা কারও ধারণায় ছিল না। লোকজন স্বাভাবিকভাবেই জিনিসপত্র খাট উঁচু জায়গায় রেখে সকাল হওয়ার অপেক্ষা ছিলেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি, পানি হু হু করে বাড়তেই থাকে। তাৎক্ষণিক মুহূর্তে বিপদের সময় যার যা সাধ্য আছে, তা নিয়েই মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে মানুষ। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে যাঁরা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাতে তারা প্রশংসিত হচ্ছেন। দুঃসময়ে সাধারণ মানুষের ঐক্যেই বিপদ মোকাবিলা করে মানুষ। যাদের দুই তলা বাসা ছিল তাদের প্রায় সকলেই মানুষকে আশ্রয় দিয়েছেন, মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়িয়েছেন। পাশাপাশি ভাড়া বাসায় থেকেও অনেকেই দুঃসময়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাদের ভরসা দিয়েছেন, খাবার ভাগ করে খেয়েছেন। মানবিক বিপর্যয়ে বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষ মানুষের প্রতি সহমর্মিতার এই প্রকাশ, স্বপ্ন দেখার সাহস বাড়িয়েছে সকলকেই।
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের নতুনপাড়ায় একটি বাসার দ্বিতীয় তলায় ভাড়া থাকেন মধ্যনগর উপজেলার চামরদানী আনোয়ারপুর হীরালাল সরকার। একই পাড়ায় তার একটি ফার্নিচারের দোকানও রয়েছে। বন্যার সময় তিনি ৫৩ জন মানুষকে নিজের বাসায় আশ্রয় দেন। নিজেরা যা খেয়েছেন, তাই ভাগ করে নিয়েছেন বিপদে পড়ে আসা মানুষের সাথে। তিনি বলেন, আমরা ছাড়া বাসায় ৫৩ জন মানুষ ছিলেন। যাদের বেশিরভাগকেই আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনতাম না বা জানতাম না। মানুষ হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। বন্যার আগে বাসার জন্য মাসের বাজার করেছিলাম, তাই দিয়ে সকলের সেবা করার চেষ্টা করেছি।
একইভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন দোয়ারাবাজার উপজেলার সমুজ আলী স্কুল এন্ড কলেজের প্রভাষক বিধান চন্দ্র দাশ। তার বাড়ি দিরাই উপজেলায়। বাসা ভাড়া করে থাকেন দোয়ারাবাজার সদর ইউনিয়নের মাঝেরগাঁও গ্রামে। তিনি নিজের ভাড়া বাসা এবং পাশের একটি ভবনের কয়েকটি রুম খালি করে তিন গ্রামের ১০ টি পরিবারের ৫৩ জনকে তিনদিন থাকার ও খাওয়ার ব্যবস্থা করেন।
বিধান চন্দ্র দাশ বলেন, হঠাৎ করে পানি বাড়ায় আমিও নিরূপায় হয়ে যাই। রাতে হঠাৎ প্রতিবেশী জলিল ও তার তিন ভাই এসে বললেন আমাদের বাসায় কোমর পানি, দাঁড়াবার কোন জায়গা নেই। তারা পরিবারসহ কোন রকমে ঘর থেকে বের হয়ে আমার বাসায় আসেন। এরপর একে একে মাঝেরগাঁও, মাছিমপুর এবং বড়বন গ্রামের ১০টি পারিবারের প্রায় ৫৩ জন মানুষ এসে উঠেন আমার বাসায়। স্থান সংকুলান না হওয়ায় পাশের আরেকটি ভবনের কয়েকটি রুম খালি করে থাকার ব্যস্থা করা হয়।
তিনি বলেন, ভয়াবহ দুর্যোগের সময়ও কিছু ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত দামে জিনিসপত্র বিক্রি করেছেন। যে চালের বস্তা বন্যার আগে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে, সেই চালের বস্তা সাড়ে ৩ হাজার টাকায় কিনতে হয়েছে। তেরশো টাকার গ্যাস সিলিন্ডার কিনতে হয়েছে আড়াই হাজার টাকায়। এভাবে প্রায় প্রত্যেকটি জিনিসের দাম বেশি রাখার মানসিকতা ছিল কিছু মুনাফালোভি মানুষের। তবে এদের সংখ্যা একেবারে কম ছিল। এরকম হাজারো মানুষ নিজের সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, যাঁদের নাম লিখে শেষ করা যাবে না।
১২২ বছরের ইতিহাসে কোন জেলার ৮০-৯০ শতাংশ ডুবে যাওয়ার মতো বন্যা এর আগে বাংলাদেশে হয়নি। এর আগে যত বন্যা হয়েছে, তা মূলত হাওর এলাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এবার গ্রাম, শহর ও উঁচু এলাকাও পানির নিচে চলে যায়। এবারের বন্যার ভয়াবহতা কল্পনাতীত। সুনামগঞ্জের লাখ লাখ মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে। সড়ক-রেল যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, গ্যাস, মুঠোফোন নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সুনামগঞ্জ জেলা কার্যত সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। জনজীবনের স্বাভাবিক সব কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে আসে। চুলা ধরিয়ে রান্না করাও সম্ভব নয়। আবার হাটবাজার, দোকানপাট বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বাজার থেকে চাল, ডাল, তেলের মতো নিত্যপণ্য কিনতে পারবে, এমন পরিস্থিতিও ছিল না। টিউবওয়েল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় খাবার পানির সংকট তৈরি হয়। চলমান দুর্যোগের প্রভাব ছিল অনেক গভীর ও বহুমাত্রিক।
স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় যখন চারদিকে হাহাকার, করুণ আর্তনাদ, বানভাসি মানুষেরা ঘর বাড়ি, সহায় সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে শুধু বেঁচে থাকার জন্য মাথা গুঁজার ঠাই পেতে এদিক সেদিক ছোটাছুটি করছিল, তখনই মানবিক মানুষেরা তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
১৭ জুন শুক্রবার সকালেই সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেনকে বুক সমান পানি হেঁটেও মানুষের পাশে যেতে দেখা গেছে, সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখ্তও পানি ঠেলে প্রথম দিনই পৌরবাসীর দরজায় দরজায় যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। টাঙ্গুয়ার হাওরে বেড়াতে আসা ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীদের বৃহস্পতিবার রাতে নিজের ভবনে আশ্রয় দিয়ে অভিভাবকদের দুশ্চিন্তামুক্ত করেছিলেন জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামছুল আবেদীন।
অসুস্থ্যতা নিয়ে ঢাকায় উৎকণ্ঠায় কাটিয়েছেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি, ফোনের নেটওয়ার্ক চালু হবার পর স্থানীয় প্রশাসনকে দিক নির্দেশনা দেওয়া ছাড়াও অনেকের কাছেই ফোন দিয়ে খবর নিয়েছেন তিনি। সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিকের নির্বাচনী এলাকা আগে আক্রান্ত হওয়ায় বেশি উদ্বিগ্ন ছিলেন তিনি। সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ্ ঝুঁকি নিয়ে ঢাকা থেকে ফিরেছেন। ড. জয়া সেন গুপ্তা এমপি অসুস্থ্য থাকলেও এলাকার খোঁজ নিয়েছেন। সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য শামিমা আক্তার খানম, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানগণসহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধিরা খোঁজ খবর নেওয়াসহ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টায় ছিলেন। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান অসুস্থ্যতার জন্য সুনামগঞ্জে আসতে পারেন নি। ফোনের নেটওয়ার্ক চালু হবার পর খোঁজ খবর নিয়েছেন, দলের কর্মীদের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি জেলা পরিষদ প্রশাসক নুরুল হুদা মুকুট অসুস্থ্যতার জন্য ঢাকায় থাকলেও ফোনের নেটওয়ার্ক চালু হবার পর সুনামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে ত্রাণ সহায়তা দেওয়াসহ নানাভাবে মানুষের পাশে কর্মীদের দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন দলের নেতা কর্মীদের নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। জেলা বিএনপির সভাপতি কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নুরুল, দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান চৌধুরী, জেলা বিএনপির সহসভাপতি আনিসুল হক, জেলা সিপিবি, জাসদ এবং বামফ্রন্টের নেতারাসহ সাংবাদিক, আইনজীবী সকলেই ছিলেন বিপদে পড়া মানুষের প্রতি সহানুভুতিশীল। পেশাজীবী সংগঠনের নেতারাও মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। জেলা বিএমএ’র সাধারণ সম্পাদক ডা. নুরুল ইসলামকে শুরু থেকেই বানভাসি মানুষের পাশে দেখা গেছে। সুনামগঞ্জের কৃতি মানুষেরা যারা রাজধানী ঢাকাসহ পৃথিবীর বিভিন্ন এলাকায় রয়েছেন, তাদের সকল মনোযোগ ছিল সুনামগঞ্জমুখী। পিএসসি’র সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিকসহ সুনামগঞ্জে সাবেক ও বর্তমান সরকারি কর্মকর্তাদের অনেকেই অর্থ সহায়তা পাঠিয়ে নিরবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট বিমান কান্তি রায় স্মৃতিচারণ করে বললেন, নতুনপাড়া রাধাগোবিন্দ মন্দিরের ২য় তলায় প্রায় দেড়শ থেকে ২শ’ মানুষকে আশ্রয় দিয়েছেন গোবিন্দ কুমার পাল। সপ্তাহ খানেক সময় সামর্থ্য অনুযায়ী খাবারদাবারও দিয়েছেন। ধনী গরিব কোন শ্রেণি বিন্যাস ছিল না। তিনি বলেন, যাদের দুই তলা আছে তারা প্রায় সকলেই বন্যার সময় বাসাবাড়িতে মানুষকে আশ্রয় দিয়েছেন। প্রায় সব বাড়িতেই ৩ পরিবার, ৪ পরিবার, ৫ পরিবার, ১০ পরিবার মানুষ ছিলেন।
বন্যায় বিপর্যস্ত মানুষকে উদ্ধার করে সাধ্যমতো মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন আরও অনেকে। যাদের অনেকের নাম বলে শেষ করা যাবে না। পানি কমলে আশ্রিত মানুষ বাড়ি ফিরে যাওয়ার সময় কেউবা আবার খাদ্য সামগ্রী ও নগদ অর্থ দিয়েও সহায়তা করেছেন। তেমনই একজন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কুরবানগর ইউনিয়ন এলাকায় খাইমতিয়র গ্রামের বাসিন্দা আলমগীর আলম। তিনি বললেন, ১৬ জুন বৃহস্পতিবার বিকাল থেকেই পানি দ্রুত বাড়তে থাকে। রাত সাড়ে এগারোটার মধ্যেই গ্রামের সবার ঘর বাড়িতে প্রবেশ করে। কারও ঘরে বুক পানি, কারো ঘরে গলা পানি হয়। অনেকে বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করতে থাকে। এসময় আমি ও আমার এস.এস.সি পরীক্ষার্থী ছেলে নৌকা নিয়ে বানভাসি মানুষকে উদ্ধার করি।
তিনি বলেন, আমার দ্বিতল ভবনে ধারারগাঁও, গোদারগাঁও এবং খাইমতিয়রের প্রায় দুই শতাধিক মানুষ এসে ওঠেন। আমি আমার সাধ্যমত তাদেরকে সামান্য ডাল ভাত খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেছি। পানি কমে গেলে মানুষ ফিরে যাওয়ার সময় আমার সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষকে চাল ও নগদ টাকা দিয়ে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি। একই এলাকার আবু সুফিয়ান ও তার বড় ছেলে বৃহস্পতিবার রাতে নৌকা নিয়ে গ্রামে বের হয়ে বানভাসি মানুষকে উদ্ধার করেন। এখানেও দুই তলা ভবনে প্রায় ২শ’ পরিবার ছিলেন। দুর্যোগের প্রথম দুই দিন তিনি আশ্রয় ও খাদ্য দিয়ে দুর্গত মানুষের সেবা করেন।
এছাড়াও কালীপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল মোমেন, হাসননগরের বাসিন্দা দেওয়ান ইমদাদ রেজা চৌধুরী, পিপি খায়রুল কবির রুমেন, সমাজসেবক দেওয়ান গনিউল সালাদিন, দেওয়ান সাজাউর রাজা চৌধুরী সুমন, তেঘরিয়ার বাসিন্দা ব্যবসায়ী জিয়াউল হকসহ মহল্লায় মহল্লায় সামর্থবানরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন বানভাসি মানুষের প্রতি।
ইকবালনগরে লন্ডন প্রবাসী ফরহাদ আহমেদ তার সাত তলা বিল্ডিং বানভাসিদের জন্য খুলে দেন। প্রায় ৭০০ জন বানভাসি মানুষ সেখানে আশ্রয় নেন। চারদিন সবার জন্য খিচুড়ির ব্যবস্থা করেন। বানভাসিদের বেশিরভাগই ছিলেন ওয়েজখালি, গনিপুরের বাসিন্দা। ব্যবসায়ী খোকন মিয়া একই এলাকায় চার তলা বিল্ডিংয়ে ১২০টি পরিবারের প্রায় ছয়শ’ জনকে আশ্রয় দেন। একবেলা খাবারের ব্যবস্থা করেছেন তিনি। দুর্গতদের বেশিরভাগই ছিলেন ইকবালনগরের বাসিন্দা। মল্লিকপুরে ব্যবসায়ী নবী হোসেন তার চার তলা বিল্ডিং এ অর্ধশতাধিক বানভাসিকে আশ্রয় দেন এবং শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি দিয়ে সহায়তা করেন। বহুতল ভবনের মালিক অনেকেই এভাবে সহায়তার হাত বাড়ান।
বন্যার ক্ষত কাটিয়ে কখন আবার মানুষ আগের অবস্থায় ফিরে যেতে পারবে, তা এখনো অনিশ্চিত হয়ে আছে। অনেকে ঘরবাড়ি হারিয়ে এখনো আশ্রয়ে আছেন। সরকারি হিসাবে সুনামগঞ্জে শুধু ৪৫ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাস্তবে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ির সংখ্যা আরও বেশি। অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে রাস্তাঘাট. কৃষি, মৎস্য সহ সকল ক্ষেত্রে। তবে করোনা পরিস্থিতির পর বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে শিক্ষাক্ষেত্রে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, স্কুল খুললেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার কম। শিক্ষা উপকরণও হারিয়েছে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীরা। অনেক মানুষ ধান, গবাদিপশু ও খামারের মাছ হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে। জীবিকার একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে অনেকে হয়ে পড়েছেন কর্মসংস্থানহীন। এরপরও বিপন্ন মানুষ তার অদম্য মনোবলে ঘুরে দাঁড়াবার চেষ্টা করছে।