Deprecated: Required parameter $month follows optional parameter $hour in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/bangla-date-display/uCal.php on line 146

Deprecated: Required parameter $day follows optional parameter $hour in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/bangla-date-display/uCal.php on line 146

Deprecated: Required parameter $year follows optional parameter $hour in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/bangla-date-display/uCal.php on line 146

Deprecated: Required parameter $display_count follows optional parameter $sharing_type in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/sassy-social-share/public/class-sassy-social-share-public.php on line 292

Deprecated: Required parameter $total_shares follows optional parameter $sharing_type in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/sassy-social-share/public/class-sassy-social-share-public.php on line 292
মহামারীতে ক্ষতিগ্রস্ত ৪ কোটির বেশি শিক্ষার্থী ইউনিসেফ – সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক

মহামারীতে ক্ষতিগ্রস্ত ৪ কোটির বেশি শিক্ষার্থী ইউনিসেফ

সু.খবর ডেস্ক
মহামারীতে লম্বা সময় ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় প্রাক-প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষার স্তর পর্যন্ত বাংলাদেশে চার কোটিরও বেশি শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ইউনিসেফের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। মঙ্গলবার জাতিসংঘের শিশু তহবিলের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, যত বেশি সময় শিশুরা স্কুলের বাইরে থাকবে- সহিংসতা, শিশুশ্রম ও বাল্যবিয়ের ঝুঁকির কারণে তাদের স্কুলে ফেরার সম্ভাবনা তত কমে যাবে।
ইউনিসেফ দ্রুত স্কুলগুলো খুলে দিতে এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সহায়তার জন্য বিস্তৃত পরিসরে পদক্ষেপ নিতে সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় গত বছরের মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। কয়েক দফা উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় গত প্রায় দেড় বছরে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ফেরানো যায়নি।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিতে শিক্ষার্থী-অভিভাবকসহ নানা পর্যায় থেকে সরকারের উপর চাপ বাড়ছে। তবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের টিকার আওতায় আনা ও সংক্রমণ পরিস্থিতি ‘সন্তোষজনক অবস্থায়’ নেমে আসলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা জানিয়ে আসছে সরকার।
কোভিড-১৯ এর কারণে যেসব দেশে দীর্ঘ সময় ধরে স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে তার মধ্যে বাংলাদেশ দ্বিতীয় বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ।
দীর্ঘ সময় সরাসরি পাঠদান বন্ধ থাকলে পড়াশোনার পাশাপাশি শিশুদের স্বাস্থ্য, সুরক্ষা ও মনস্তাত্ত্বিক সুস্থতার উপর ‘অত্যন্ত গুরুতর প্রভাব ফেলে’ বলে সতর্ক করেছেন বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি টোমো হোযুমি।
ইউনিসেফের প্রতিবেদনে তিনি বলেন, “প্রান্তিক শিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে, যা তাদেরকে অধিক দারিদ্র্য এবং অসমতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও দেবে।
“নিরাপদে স্কুল পুনরায় খুলে দেওয়া এবং সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পড়াশোনার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বিনিয়োগ করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের আজকের এই সিদ্ধান্ত এই শিশুদের পুরো জীবনকে প্রভাবিত করবে।”
সরাসরি পাঠদান বন্ধ থাকলেও সরকার অনলাইন ও টেলিভিশনে শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে ইন্টারনেট ও ডিভাইস না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী যে এর বাইরে থাকছে, সেটি বিভিন্ন জরিপে উঠে এসেছে।
ইউনিসেফ বলছে, বিশ্বব্যাপী দেশগুলো দূরশিক্ষণ পদ্ধতিতে শিক্ষা প্রদানের জন্য কিছু পদক্ষেপ নিলেও প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের কমপক্ষে ২৯ শতাংশের কাছে এই শিক্ষা পৌঁছানো যাচ্ছে না।
সংস্থাটি মনে করে, উপকরণের ঘাটতি, সর্বকনিষ্ঠ শিশুদের প্রযুক্তি ব্যবহারের সহায়তা এবং শিক্ষার জন্য মানসম্পন্ন পরিবেশের অভাব, গৃহস্থালির কাজ করার চাপ অথবা কাজ করতে বাধ্য হওয়া এর কারণ হতে পারে।
বিশ্বের সবচেয়ে অসহায় শিশুদের ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে রয়েছে জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই শিক্ষা সংকট যাতে শিক্ষা বিপর্যয়ের দিকে না যায় সেজন্য যত দ্রুত সম্ভব স্কুল খুলে দিতে প্রচারাভিযান চালানো হবে।
নিরাপদে স্কুল খোলার লক্ষে ইউনিসেফ বাংলাদেশ সরকারের সাথে কাজ করে যাচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে জানানো হয়।
“এই কর্মযজ্ঞের অংশ হিসাবে নির্দেশিকা তৈরি করা হচ্ছে যাতে শিশু এবং শিক্ষকরা মাস্ক পরবে, সাবান পানিতে হাত ধুয়ে স্বাস্থবিধি মেনে নিরাপদে স্কুল শুরু করতে পারে। ইউনিসেফ শিশু, অভিভাবক ও শিক্ষকদের সাথেও যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে নিরাপদে স্কুল খুলে দেওয়ার বিষয়ে সবার মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়।”
এই প্রতিবেদনে ইউনিসেফ জানিয়েছে, মহামারীর কারণে প্রথমবার স্কুলে যাবে বিশ্বের এমন প্রায় ১৪ কোটি শিশুর পাঠচক্রে ঢোকার সুযোগ পিছিয়ে যাচ্ছে, যাদের প্রায় ৪০ লাখ শিশু বাংলাদেশের।
এই শিক্ষার্থীদের প্রায় ৮০ লাখ এমন স্থানে বাস করে, যেখানে মহামারীর পুরো সময় স্কুল বন্ধ রয়েছে। এ কারণে সশরীরে শিক্ষা গ্রহণের প্রথম দিনটির জন্য তারা এক বছরের বেশি সময় ধরে অপেক্ষা করছে, যা বেড়েই চলেছে।
ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটো ফোর বলেন, “যখন বিশ্বের অনেক জায়গায় ক্লাস পুনরায় শুরু হয়েছে, তখন প্রথম শ্রেণির লাখ লাখ শিক্ষার্থী এক বছরেরও বেশি সময় পর সশরীরে ক্লাসরুমে যাওয়ার অপেক্ষায় আছে। আরও লাখ লাখ শিশুর হয়তো এই মেয়াদেও স্কুলে একেবারেই যাওয়া হবে না।
“যারা সবচেয়ে ঝুঁকির মুখে রয়েছে তাদের জীবনে আর কখনোই স্কুলে ফিরতে না পারার ঝুঁকি প্রবল বেগে বাড়ছে।”
প্রথম শ্রেণির শিক্ষা যে ভবিষ্যতের সব ধরনের শিক্ষার ভিত্তি গড়ে দেওয়ার পাশাপাশি শিশুদের স্বাধীনস্বত্ত্বার বিকাশ, নতুন নিয়মের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অর্থপূর্ণ সম্পর্কে সহায়তা করে সেটিও প্রতিবেদনে তুলে ধরেছে ইউনিসেফ।
“সশরীরে উপস্থিত হয়ে শিক্ষাগ্রহণ একইসঙ্গে কোন শিশুর শিক্ষার ক্ষেত্রে ঘাটতি, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা এবং নির্যাতনের বিষয়গুলো শনাক্ত ও সমাধান করতে শিক্ষকদের সহায়তা করে।”
প্রতিবেদনে বলা হয়, মহামারী শুরুর পর বিশ্বের ১৬ কোটি ৮০ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য স্কুলগুলো প্রায় পুরো বছর বন্ধ ছিল। ফলে অনেক শিশুকে ঝরে পড়ার উচ্চ ঝুঁকি, শিশুশ্রম ও বাল্যবিয়ের মতো পরিণাম ভোগ করতে হবে।
বিশ্ব ব্যাংকের বরাদ দিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সমাধানমূলক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা না হলে এই পুরো প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ আয়ের ক্ষেত্রে যে পরিমাণ ক্ষতি হবে তা প্রায় ১০ ট্রিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ।
বিশ্ব ব্যাংক ও ইউনেস্কোর সঙ্গে মিলে ইউনিসেফ স্কুলগুলো আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য তিনটি অগ্রাধিকারের প্রতি মনোযোগ দিতে বলছে সরকারগুলোকে।
সেগুলো হচ্ছে- সব শিশু এবং তরুণদের স্কুলে ফিরিয়ে আনতে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক কর্মসূচি প্রণয়ন করা, শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করতে কার্যকর প্রতিকারমূলক শিক্ষার ব্যবস্থা করা এবং শিক্ষার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ও শিক্ষাদান প্রক্রিয়ায় ডিজিটাল প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত করার জন্য শিক্ষকদের সহায়তা দেওয়া।
হেনরিয়েটো ফোর বলেন, “মহামারী ইতোমধ্যে শিক্ষা কার্যক্রমে যে ক্ষতি করেছে, তা পুষিয়ে নিতে অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না করলে কিছু শিশু হয়তো কখনোই এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবে না।”
সূত্র : বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম