সুনামগঞ্জের সরকারি মহিলা কলেজের প্রায় আড়াই হাজার ছাত্রীর জন্য দুইটি হোস্টেলে মাত্র ১১০ জন ছাত্রীর আবাসিক ব্যবস্থা রয়েছে বলে গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত একটি সংবাদ থেকে জানা যায়। জেলার মেয়েদের সবচাইতে বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন আবাসিক সংকট নারী শিক্ষার প্রসারে একটি বড় বাধা। শুধুমাত্র আবাসন সংকটের কারণে বহু ছাত্রী কলেজে ভর্তি হয়েও নিয়মিত ক্লাস করতে পারেন না। বহু ছাত্রী আর্থিক অনটনের কারণে বাসা ভাড়া কিংবা মেসবাড়ি করে থাকার সংগতি রাখেন না। খোঁজ নিলে দেখা যাবে এমন প্রান্তিক অবস্থানের শিক্ষার্থী সংখ্যাই কলেজে বেশি। ফলে ইচ্ছা থাকা সত্তে¡ও উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পর্যায়ে এসে এইসব ছাত্রীরা পিছিয়ে যাচ্ছেন। অনেকে ঝরে পড়ছেন শিক্ষা জীবন থেকেই। কলেজ কর্তৃপক্ষ যদি আবাসিক সংকটের কারণে বিপর্যস্ত শিক্ষার্থীদের পরিসংখ্যান সংগ্রহ করতেন তাহলে একটি পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেত এ সম্পর্কে। তখন বিষয়টির গভীরতা সম্পর্কে সরকারকে বুঝানোও সহজ হত। কিন্তু কলেজ কর্তৃপক্ষের সেই ধরনের ইচ্ছা অথবা রুটিন কাজের বাইরে যেয়ে অতিরিক্ত কিছু করার মত তাড়না নেই। অথচ জেলা শহরের এই নারী শিক্ষায়তনটি নিয়ে মানুষের আগ্রহের কোনো কমতি নেই। শহরের পুরাতন জেলখানাটি যখন পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয় তখন স্থানীয় নাগরিক সমাজ বহু দেন-দরবার করে ওটি কলেজের বর্ধিত ক্যাম্পাস হিসাবে ব্যবহারের অনুমতি এনে দেন। কিন্তু ওই বর্ধিত ক্যাম্পাসটিকে কলেজ কর্তৃপক্ষ পরিকল্পিতভাবে ব্যবহারে স্পষ্টতই ব্যর্থ হয়েছেন। মহিলা কলেজ কর্তৃপক্ষের চিন্তা-ভাবনার মধ্যে সৃজনশীলতার অভাব রয়েছে বলেই আমাদের মনে হয়। তাঁরা নিছক নিয়ম রক্ষার বাইরে যেয়ে আন্তরিকভাবে কোনো সমস্যার সমাধান চেয়েছেন বলে আমাদের জানা নেই। তাঁরা এরকম চাইলে সহযোগিতা করার মতো বহু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এখন আমাদের রয়েছেন। কলেজ কর্তৃপক্ষকে দোষারোপ করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। আমরা চাই বহু সমস্যায় জর্জরিত, যেমন- শিক্ষক সংকট, শ্রেণিকক্ষ সংকট, আবাসন সংকট ইত্যাদি; কলেজটির যাবতীয় সমস্যার সমাধান হোক। আর এজন্য মূল উদ্যোগ আসতে হবে কলেজ কর্তৃপক্ষের তরফ থেকেই।
মহিলা কলেজের পুরাতন জেলখানার বর্ধিত ক্যাম্পাসটিকে নতুনভাবে তৈরি করা এখন একান্ত প্রয়োজন। বর্তমানে যেখানে মহিলা কলেজের অবস্থান সেটি কোনো অবস্থাতেই আড়াই হাজার ছাত্রীর শিক্ষা গ্রহণের ন্যূনতম সুযোগসম্পন্ন নয়। এক্ষেত্রে বর্ধিত ক্যাম্পাসে বহুতলবিশিষ্ট কয়েকটি ভবন নির্মাণ করে অনায়াসে বিদ্যমান শ্রেণিকক্ষ ও আবাসন সংকট নিরসন সম্ভব। কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের অনুরোধ, আপনারা যথাযথ পরিকল্পনা তৈরি করে সুনামগঞ্জের সুসন্তান পরিকল্পনামন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের সহযোগিতা কামনা করুন। আপনাদের পরিকল্পনাটি স্থানীয় নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমে সরবরাহ করুন। তখন আপনাদের সাথে সকলেই সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসবেন। আর যেকোনো যৌথ উদ্যোগই একসময় সফলতার মুখ দেখে। আমাদের সজ্জন পরিকল্পনামন্ত্রী প্রায়শই বলেন, আমাদের টাকার কোনো অভাব নেই, দরকার জ্ঞান সৃষ্টির। জ্ঞান সৃষ্টির জন্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে যে উপযুক্তভাবে সক্ষম করে গড়ে তুলতে হবে সেই কথা তাঁর চাইতে আর কে বেশি বুঝতে পারবে? তাই কলেজ কর্তৃপক্ষকে বলিÑ নিজেদের খোলশের ভিতরে আটকে না রেখে খোলশ ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসুন। দেখবেন, সমাধান আপনাদের হাতের নাগালেই রয়েছে।
সুনামগঞ্জে অনেক নতুন নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে। এই জায়গায় পুরোনো প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা কেন বাড়ানো হবে না, এই প্রশ্নটি আমরা জোরালোভাবে সরকারের নজরে আনতে চাই। কারণ এই প্রতিষ্ঠানটির উন্নতির সাথে জাতীয় পর্যায়ের তুলনায় অনেক পিছিয়ে থাকা জেলার শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতির প্রশ্নটি জড়িত।
- সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ প্রতিষ্ঠার ৭৫ বছর পূতি উৎসব ৭-৮ ফেব্রুয়ারি
- দ. সুনামগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধে হামলা ও লুটপাট, আটক ১

