ধর্মপাশা প্রতিনিধি
নির্মাণের পর থেকেই অযত্ম আর অবহেলায় পড়ে আছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত স্মৃতিসৌধটি। কখনও কখনও জাতীয় দিবসে সেখানে কোনো কর্মসূচি থাকলে তা করা হয় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন। এরপর কেটে যায় দিনের পর দিন, মাসের পর মাস। আর কারও ফিরে তাকানোর সময় হয়না স্মৃতিসৌধের দিকে। রক্ষণাবেক্ষণ ও সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় দৃষ্টিনন্দন স্মৃতিসৌধের সৌন্দর্য্য ম্লান হচ্ছে দিন দিন। এরই মধ্যে স্মৃতিসৌধের অভ্যন্তরে গড়ে উঠেছে অবৈধ স্থাপনা। সবিজ চাষের জন্য তৈরি করা হয়েছে মাচা। গর্ত করে কেটে নেওয়া হয়েছে মাটি। ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ময়লা আবর্জনা। এমন স্মৃতিসৌধের অবস্থান সুনামগেঞ্জর ধর্মপাশা উপজেলার মধ্যনগর থানাধীন বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের মহিষখলায়।
মুক্তিযুদ্ধে ১১নং সেক্টরের ১নং সাবসেক্টরের অধীনে থাকা মহিষখলায় সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের অর্থায়নে প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১২-১৩ সালে একটি নির্মিত হয়। ২০১৪ সালে ১৬ ডিসেম্বর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বপ্রথম এ স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এরপর কোনো কর্মসূচি থাকলেই কিছুটা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করা হয়। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে কোনো সংস্কার না করায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত স্মৃতিসৌধটির সৌন্দর্য্য বিনষ্ট হচ্ছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, স্মৃতিসৌধের অভ্যন্তরে উত্তর-পূর্ব কোণ দখল করে একটি ছোট টিনশ্যাড ঘর নির্মাণ করেছেন বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক। শুধু তাই নয় তিনি সেখানে সবজি চাষের জন্য তৈরি করেছেন মাচা। স্মৃতিসৌধের অভ্যন্তরে উত্তর-পশ্চিম কোণ থেকে কে বা কারা গর্ত করে মাটি উত্তোলন করে নিয়েছে। সরেজমিনে স্মৃতিসৌধের অভ্যন্তরে নির্মিত ঘরে আব্দুল খালেকের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহৃত একটি জেনারেটর স্থাপনসহ মাচা তৈরির সত্যতা পাওয়া যায়। তবে কে বা কারা মাটি উত্তোলন করেছে তা কেউ জানাতে পারেনি।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা নূর হোসেন বলেন, ‘যদি এমনটি হয়ে থাকে তাহলে বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।’
বংশীকুন্ডা উত্তর ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন জানান, স্মৃতিসৌধের অভ্যন্তরে থাকা ঘরটি সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল খালেকের। তবে কে বা কারা মাটি উত্তোলন করেছে তা তিনি বলতে পারেন না।’
জেলা পরিষদ সদস্য সেলিনা আবেদীন বলেন, এ স্মৃতিসৌধের অযত্ম অবহেলার বিষয়টি নিয়ে জেলা পরিষদের গত সভায় কথা বলেছি। কিন্তু ধর্মপাশা এসে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পারলাম স্মৃতিসৌধের জায়গা দখল করে ঘর নির্মাণ ও মাটি উত্তোলন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলবো।’
এ ব্যাপারে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল খালেকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগযোগের চেষ্টা করা হলে মুঠোফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য জানা যায়নি। তবে বিকল্প একটি নম্বরে যোগাযোগ করা হলে নিজেকে আব্দুল খালেকের স্ত্রী পরিচয় দিয়ে একজন নারী জানান, আব্দুল খালেক বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনতাসির হাসান বলেন, ‘খোঁজ নিয়ে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’


