মাংস ব্যবসায়ীদের ধর্মঘটে অতিষ্ট ভোক্তারা

আকরাম উদ্দিন
মাংস ব্যবসায়ীদের ধর্মঘটে অতিষ্ট ভোক্তারা। সকল প্রকার গবাদী পশুর মাংস বিক্রি করা এবং মাংসের মূল্য বৃদ্ধি করার দাবিতে শহরের মাংস ব্যবসায়ীরা এমন ধর্মঘট পালন করেছেন।  
মাংস ব্যবসায়ীদের দাবির প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার সমন্বয়ে মূল্য নির্ধারণ করে গরুর মাংসের কেজি মূল্য ৪শত টাকা, মহিষ ৩৮০ টাকা, খাসী ৫শত টাকা ও ভেড়া ৪৫০ টাকা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। সেই সাথে মা জাতীয় গবাদি পশু জবাই করতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
মা জাতীয় গবাদি পশু জবাই করতে নিষেধাজ্ঞা জারি করায় ধর্মঘট অব্যাহত রাখা হয়েছে বলে জানান শহরের কাজীর পয়েন্ট এলাকার মাংসের ব্যবসায়ী মো. আব্দুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘মা গবাদী পশু যদি আমরা জবাই করতে না পারি, তাহলে নির্ধারিত মূল্যে আমাদের কোনো লাভ হয় না। তাছাড়া এই শহরের আশপাশ এলাকায় ঢেকা গরু পাওয়া খুবই মুশকিল। যদি কোনো দিন কোনো ব্যবসায়ী ঢেকা গরু পান, তবে অবশ্যই জবাই করে মাংস বিক্রি করবেন।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ঢেকা গরু না পেলে দোকান খুলে লাভ নেই। আর ঢেকা গরু পেলে মূল্যে পুষিয়ে উঠা যায় না।’  
একাধিক মাংস ক্রেতা অভিযোগ করে বলেন, ‘মাংস ব্যবসায়ীরা ভেজাল মাংস বিক্রি করে ও পরিমাপে কম দিয়ে মানুষকে টকিয়ে যাচ্ছে দিনের পর দিন। খাসীর মাংসের নাম করে বেড়া ও ছাগলের মাংস বিক্রি করে। আবার ঢেকা গরুর মাংসের নাম করে ঢেকি গরু ও বয়স্ক ঢেকি গরুর এবং মহিষের মাংস বিক্রি করে। এটা প্রতিরোধ করা একান্ত প্রয়োজন।’
ইব্রাহীমপুরের মাংসের ক্রেতা বাবুল মিয়া ও নবীনগরের সোহেল আহমদ বলেন, ‘আজ দুই সপ্তাহব্যাপী বাজারে মাংস পাইনি। ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট চলছে। এখন আমরা সম্মিলিতভাবে গবাদী পশু কিনে জবাই করে মাংস বণ্টন করে খাই। নিজে জেনে-শুনে নিরাপদ মাংস খাচ্ছি। গরুর মাংস কিনলে প্রায়ই মহিষের মাংসের টুকরা পাওয়া যেতো। খাসীর মাংসের কথা তো বলেই লাভ নেই, সবই ছাগী বা ভেড়ার মাংস পাওয়া যেতো।’
হাছননগর এলাকার বাসিন্দা মজনু মিয়া বলেন, ‘মাংসের দোকানের বর্জ্য ও খোলা জায়গায় জবেহ করা বা মাংস টুকরা করা অত্যন্ত বিশ্রী ব্যাপার। এসব পশুর রক্তের ছিটা পথচারীদের গায়ে পড়ে। পথচারী শিক্ষার্থীদের নজরে পড়ে প্রতিনিয়ত। মাংসকে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে রাখা হয়। তাও আইনের আওতায় আনতে হবে। ব্যবসায়ীদের বিধি-বিধান মেনে চলতে হবে।’  
শহরের কাজীর পয়েন্ট এলাকার মাংসের ব্যবসায়ী মো. আব্দুর রহমান বলেন, ‘মা গবাদী পশু যদি আমরা জবাই করতে না পারি, তাহলে নির্ধারিত মূল্যে আমাদের ব্যবসায় কোনো লাভ হয় না। তাছাড়া এই শহরের আশপাশ এলাকায় ঢেখা গরু পাওয়া খুবই মুশকিল। এখন আমাদের ব্যবসায় যদি লাভ না হয় তাহলে পশু জবাই করার প্রয়োজন নেই।’