স্টাফ রিপোর্টার
মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত দুই এসএসসি পরীক্ষার্থী সহ ২ জনের মৃত্যুতে নিহতদের গ্রামের চলছে বাড়িতে শোকের মাতম। এলাকা জুড়ে শোক আর আহাজারি। সেখানে তাদের প্রতিবেশি ও স্বজনরা ভিড় করেছেন। দুই শিক্ষার্থীর বাড়ি সদর উপজেলার মাইজবাড়ি গ্রামে। গ্রামের তালেব আলী বলেন, ফাতেমুল রহমান পাভেল’র বাবা গাড়ী চালিয়ে সংসার চালান। তার বাবার স্বপ্ন ছিলো পাভেলকে নিয়ে। কিন্তু হঠাৎ আঁধার নেমে আসলো।
লাল মিয়া বলেন, ছেলেগুলো খুব ভালো ছিলো। কেন যে মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরতে গিয়েছিলো। পাভেল পড়াশুনায় খুব ভালো ছিলো। সোহাগ আহমদের কাঠের নকশার কাজে দক্ষতা ছিলো।
এমদাদুল হক বলেন, সোহাগ আহমদ সম্পর্কে আমার ভাতিজা লাগে। আমাদের ফার্নিচারের দোকানে নকশার কাজ করতো। রবিবারে দোকানে এসে আবার দোকান না খুলে ঘুরতে চলে গিয়েছিলো বন্ধুদের সাথে মটরসাইকেলে।
তাদের বন্ধু কয়েছ আহমেদ বলেন, আমার বন্ধু খুব ভালো ছিলো। সে আমাদেরকে ছেড়ে চলে গেছে ভাবতে পারছি না । আমার বিশ্বাস হচ্ছে না ।
মিনহাজুল ইসলাম আবেদিন বলেন, আমার বন্ধুর স্বপ্ন ছিলো পড়াশোনা করে সে ইঞ্জিনিয়ার হবে । কিন্তু সব স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেলো। সোমবার দুপুরে আলহেরা জামেয়া মাদ্রাসা মাঠে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত সদর উপজেলার মাইজবাড়ি গ্রামের নাসির উদ্দিনের ছেলে সোহাগ মিয়া (১৭) ও শামসুন্নুরের ছেলে পাভেল আহমদ (১৫) এর দাফন সম্পন্ন হয়। জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়।
আলহেরা জামেয়া ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার মাঠে জানাযায় অংশ নেন মুসল্লিসহ এলাকাবাসী। আল-হেরা জামেয়া মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মাও. তোফায়েল আহমদ খান’র পরিচালনায় জানাযায় উপস্থিত ছিলেন কোরবাননগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল বরকত, আলহেরা জামেয়ার অধ্যক্ষ মাও. আবুল কালাম আজাদ, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাড. আবুল হোসেন, ইমাম মাও. ফজলুল হক ও মাও. আনোয়ার হোসেনসহ এলাকাবাসী।
উল্লেখ্য, গত রবিবার বিকালে সুনামগঞ্জে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা লেগে ঘটনাস্থলেই দুই মোটরসাইকেল আরোহী মারা যান। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুনামগঞ্জ-দোয়ারাবাজার সড়কের বাক্ষ্রণগাঁও এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় একই গ্রামের আতিক (১৭) ও শাকিলনূর (১৮) গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।


