স্টাফ রিপোর্টার
দোয়ারাবাজারের যুবক সোহেল আহমদ অর্থনৈতিক টানাপোড়নে কর্মসংস্থানের জন্য পাড়ি জমিয়েছিলেন মালয়েশিয়ায়। সেখানে প্রায় এক দশক শ্রম বিক্রি করেছেন তিনি। কিন্তু ভাগ্য বদলায়নি তার। ২০১৬ সালে দেশে ফিরে দুশ্চিন্তায় পড়েন তিনি। পরে বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ করে ভাগ্য বদলে যায় দোয়ারাবাজার উপজেলার আলীপুর গ্রামের এই যুবকের। এলাকার ধনাঢ্য মানুষের একজন এখন এই ৩৩ বছর বয়সী পরিশ্রমি মানুষটি।
সুনামগঞ্জের হাওরপাড়ের বাসিন্দারা একমাত্র ফসল বোরোর উপর নির্ভরশীল থাকেন। বছরে একবার বোরো ধান চাষাবাদ করে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলহানির ভয়ে আতঙ্কে থাকেন বেশিরভাগ মানুষ। দারিদ্রতা ও বেকারত্ব দূর করতে কর্মসংস্থানের খুঁজে কেবল রাজধানী শহর ঢাকায় নয়। সাগর পাড়ি দিয়ে মৃত্যু ঝুঁকি নিয়ে দলে দলে তরুণরা মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমায়। এভাবে কারো কপাল খুলে, কেউবা বিপৎগামী হয়, কেউ অকালে প্রাণ হারায়। ১০ বছর মালয়েশিয়ায় কাটানো যুবক সোহেল দেশে এসে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মাছের চাষ করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বি হয়ে প্রমাণ করলেন, পরিশ্রম ও বুদ্ধিমত্তায় দেশে থেকেই ভাগ্য বদলানো যায়। অন্যদের কর্মসংস্থান দেবার সুযোগ তৈরি হয় ।
প্রথমে বাড়ির পাশে ছোট একটি পুকুরে মাছ চাষ শুরু করলেও বর্তমানে ৩০০ শতাংশ জমিতে করা বিশাল পুকুরসহ ছোট বড় ৫ টি পুকুরে মাছ চাষ করছেন সোহেল। এই বছর সাত প্রকারের মাছ চাষ করেছেন এই উদ্যোক্তা। বছরে এখন সকল খরচ বাদে ৮-১০ লাখ টাকা আয় তার।
সোহেল আহমদের ৫ টি পুকুরে এবার তেলাপিয়া, ঘাসকাপ, রুই,পাঙ্গাস, ব্রিগেট, কাতলাসহ নানান জাতের মাছ চাষ করেছেন। বেশিরভাগ মাছের ওজন এই সময়ে চার থেকে পাঁচ কেজি। আড়ৎদাররা পুকুরেই যাচ্চেন মাছ কিনতে।
দোয়ারা বাজার উপজেলার লক্ষীবাউর গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম বললেন, একটা সময় ছিল মাছ আনতে আমাদের অনেক দূরে যেত হতো। যাতায়াত ভাড়াসহ দ্বিগুণ টাকা খরচ হতো। তবে এখন সোহেল আহমদের পুকুর থেকে মাছ কিনে দোয়ারাবাজারে বিক্রয় করছি আমরা। তাতে সোহেল আহমদের যেমন ভাগ্য বদলেছে। আমাদেরও জীবিকায় সহায়তা হয়েছে।
বিদেশ ফেরৎ মাছ চাষী সোহেল আহমদ বললেন, দশ বছর আগে মালয়েশিয়ায় না গিয়ে দেশে থেকে মাছের চাষ শুরু করলে, আরও অনেক কিছু হতো। অনেক বেকারের কর্মসংস্থানও দেওয়া যেতো। তিনি বললেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো থাকলে এবং মৎস্য অফিসের দায়িত্বশীলদের নিয়মিত পরামর্শ পেলে আরও বেশি লাভবান হতে পারতাম।
দোয়ারাবাজার উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তুষার কান্তি বর্মণ বলেন, বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষের আগ্রহীর সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে। দোয়ারাবাজারে ৪ হাজার ৬৬৬টি মাছ চাষের পুকুর রয়েছে। সোহেল আহমেদের উদ্যোগ দেখে অন্যরা উৎসাহিত হচ্ছেন। আমরা তাদেরকে পরামর্শ দেব।


