ধর্মপাশা প্রতিনিধি
ধর্মপাশা উপজেলার সদর ইউনিয়নের আতকাপাড়া গ্রামে নেংটা ফকিরের মাজার দখল ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে নারী-পুরুষসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে ওই মাজার প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গত কয়েক মাস ধরে মাস মাজারে মারমুখী অবস্থা বিরাজ করছে। এ ব্যাপারে মাজারের মোতাওয়াল্লি (মাজার ব্যবস্থাপনার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি) হিসেবে দাবিদার বাবুল মিয়া গত ১ অক্টোবর দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছিলেন।
বাবুল মিয়ার মা প্রয়াত দুলামান্নেছা ওরফে আছিয়া খাতুন ১৯৭৩ সালে আতকাপাড়া গ্রামে ৩৫ শতাংশ জায়গা কেনেন। এর পরের বছর নেংটা ফকিরের মাজারের জন্য সেই জমি ওয়াকফ করে দেন এবং তিনি (আছিয়া) মোতাওয়াল্লি নিযুক্ত হয়ে মাজার পরিচালনা করেন। মায়ের মৃত্যুর পর বাবুল মিয়া মোতাওয়াল্লির জন্য সংশ্নিষ্টদের কাছে আবেদন করেন। এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাবুল মিয়াকে তিন বছরের জন্য মোতাওয়াল্লি নিযুক্ত করা হয়। কিন্তু বাবুল মিয়ার প্রতিপক্ষ মৃত লিলু মিয়ার (বাবুলের আপন বড় ভাই) ছয় ছেলে শফিকুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, রাব্বিকুল ইসলাম, খায়রুল ইসলাম, জহিরুল ইসলাম ও কামরুল ইসলামের সাথে কয়েক মাস ধরে বিবদমান অবস্থা বিরাজ করছে। এ নিয়ে প্রায়ই তাদের মধ্যে বাকবি-াসহ মারামারির ঘটনা ঘটে চলেছে। ফলে উভয় পক্ষই মামলা মোকাদ্দমায় জড়িয়েছে।
শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে বাবুল মিয়া ও মৃত লিলু মিয়ার ছেলেদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষে বাবুল মিয়াসহ উভয় পক্ষের নারী-পুরুষসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে জুয়েল মিয়া, মর্তুজ আলী, শাহিনূর ইসলাম মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও রফিকুল ইসলাম, জহিরুল ইসলাম, আব্দুল হক, মঞ্জুরা বেগম ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছে।
ধর্মপাশা থানার ওসি মো. খালেদ চৌধুরী বলেন, মাজারে আধিপত্য বিস্তার ও মোরগ, গরু, ছাগলের ভাগবাটোয়ারা নিয়ে দু’পক্ষের মাঝে দীর্ঘদিন ধরে বিবদমান অবস্থা বিরাজ করছে। এ ব্যাপারে পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের অগ্রণী ভূমিকা প্রয়োজন।


