হীরকদ্যুতির লাবন্য প্রভায় ভাসছে আজ সতীশের আঙ্গিনা। আকাশ-সূর্য সব আলো বিলিয়ে দিচ্ছে আজ এইখানে-এই মিলনমেলায়। সূর্যতাপ হার মানতে বসেছে প্রাণের উত্তাপের কাছে। বয়সহৃদ্ধ জ্ঞানপুষ্ট তারুণ্যদীপ্ত এই মেলা আজ শীতের সূর্যের মুখ থেকে মেঘের ভেলায় ভেসে সাতরঙা রঙধনু হয়ে ফুঠে আছে আকাশের গায়ে। বেনী দুলানো হাসি ছড়ানো মেয়ের দল সবুজ দুর্বাদল মাড়িয়ে ধুসর ধুলো উড়িয়ে খৈ ফুটানোর মতো কথার তুবড়ি ছুটিয়ে বের করে আনবে ছাইচাপা ইতিহাসের আগুন। উনিশ শতকের চল্লিশ দশক থেকে এই ষোড়শী তিলোত্তমা অব্ধি খোলা হবে ইতিহাসের পাতা। এই ইতিহাসের বহু পাতা আজ হারিয়ে গেছে একেবারে। হারিয়ে যাওয়া ওইসব পাতার শূন্যস্থানে চোখ মেলে নিরব অশ্রুপাতে বুক ভাসাবে অনেকে। বহু পাতা জীর্ণ হয়েছে মলিন হয়েছে অস্পষ্ট হয়েছে। সেইসব পাতাগুলো আজ অনেক প্রাণময় হবে নবীন পত্র পল্ববের মাঝে। প্রাণের এই মেলাকে দুই হাত প্রসারিত করে গুচ্ছ গুচ্ছ ফুলের বন্দনায় আমরা স্বাগত জানাই। সুস্বাগতম হে সতীশ কন্যা ভগ্নি মাতা আপনাদের।
জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিদেশ বিভুঁই থেকে নানা অবস্থান থেকে আপনারা ছুটে এসেছেন সতীর্থ-শরীরের ঘ্রাণ পেতে। এ নিছক কোন বিনোদন নয়, নয় আনুষ্ঠানিকতা। এ হলো চিরন্তন মানব মনের মিলনাঙ্ক্ষার এক অনিবার্য প্রকাশ। এ হলো জীবনের একঘেয়েমী থেকে বেরিয়ে এসে একটুখানি নিরুদ্বিগ্ন ভালবাসায় মেতে উঠা। আপনাদের এই দুইদিনের সম্মীলন সার্থক হোক এই আমাদের কামনা।
একটি প্রতিষ্ঠানের ৭৫ বছরপূর্তি কম কথা নয়। বলা যায় এ সময় একজন স্বাভাবিক মানুষের পুরো জীবৎকাল প্রায়। বিদ্যালয়ের হিসেবে এই ৭৫ বছরে এখান থেকে ৭০টি ব্যাচ বেরিয়ে গেছে। এঁদের অনেকেই স্বনামধন্য হয়ে সুনামগঞ্জের আকাশে জ্বলজ্বলে তারা হয়ে ফুটে আছে। যারা ওরকম তারকা হতে পারেন নি তাঁরাও জ্যোতিস্কের ছুঁয়া পাওয়া একজন মনে করে আলোর দাবিদার হয়ে তৃপ্তি পাচ্ছেন। আপনাদের সকলের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা শুভেচ্ছা ভালবাসা।
আজ যারা সতীশের ছাত্রী তারা এই মিলনমেলা দেখে জেনে যাবে নিজেদের ঐতিহ্য অহংকার। তারা সতীশ-তারকাদের সান্বিধ্য পেয়ে নিজের অন্তর্গত আলোকে বের করে আনার অনুপ্রেরণা পাবে। এদের অনুপ্রেরণার অন্তহীন রসদ হয়ে আপনারা নিজেদের বিলিয়ে দিন এই বিদ্যানিকেতনে।
আপনাদের এই প্রয়াসে আমরাও শুভার্থী ছিলাম নিত্যদিনের। গত তিনটি মাস ধরে সতীশ-গর্বদের কলমে উঠে আসা অনেক স্মৃতিচারণ প্রকাশ করে আমরা নিজেদের আপনাদেরই একজন হয়ে উঠার চেষ্টা করেছি। আমাদের প্রয়াস আপনাদের সামান্য ভাল লেগে থাকলে ধন্য হবো। পরিশেষে আপনাদের আমাদের ভালবাসার এই বিদ্যায়তনের আরও সমৃদ্ধি কামনা করি।


