মাননীয় প্রধানমন্ত্রী স্বপ্নভাঙা মানুষগুলোকে আশার বাণী শুনান

জেলায় ব্যাপক বিস্তৃত এবং স্মরণকালের ভয়াবহ বোরো ফসল হানির পর দুর্গত এলাকা ও পীড়িত মানুষজনের দুঃখ-কষ্ট নিজ চোখে দেখতে আজ দেশের সরকার প্রধান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুনামগঞ্জ পরিদর্শনে আসছেন। এই জেলার ২৫ লাখ মানুষ সহ পুরো হাওর অঞ্চলের প্রায় এক কোটি মানুষ আজকের দিনটির দিকে তাকিয়ে রয়েছেন। দেশের প্রধান খাদ্যভা-ার এই হাওর এলাকা। জাতি আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের যে গর্ব করে তার পিছনে সবচাইতে বড় অবদান এই হাওরাঞ্চলের। হাওরের বোরো ফসল বিনষ্ট হলে নিশ্চিতভাবেই সেটি দেশের খাদ্যভা-ারে বিরূপ প্রভাব ফেলে থাকে। অবর্ণনীয় দুর্ভোগ আর সীমাহীন অভাবে নিপতিত হন হাওরাঞ্চলের কৃষি নির্ভর পরিবারগুলো। এ বছর সুনামগঞ্জের প্রায় ৯০ ভাগ ফসল পাকার আগেই পানিতে ডুবে গেছে। কোন কৃষকই এক মুঠো ধান ঘরে তুলতে পারেন নি। পুরো হাওরজুরে আজ হাহাকারের মাতম। কৃষক পরিবারগুলোতে শুরু হয়েছে তীব্র খাদ্য সংকট। এরকম প্রেক্ষাপটে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই সফর মানুষের মনে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। মানুষ মনে করছেন হাওরকে অনাহুত প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে তিনি স্থায়ী সমাধানের দিকনির্দেশনা দিবেন, অন্যদিকে আপাত ভয়াবহ অভাব মোকাবিলায় পর্যাপ্ত সহায়তার ঘোষণা দিবেন। প্রধানমন্ত্রীর এই গুরুত্বপূর্ণ সফরকে উপলক্ষ করে আমরা কিছু জিনিস তাঁর সদয় নজরে নিতে চাই।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ফসলহারা কৃষক পরিবারগুলোর জন্য এখনই প্রয়োজন পর্যাপ্ত খাদ্য ও জীবনধারণের প্রয়োজনীয় উপকরণাদির সহায়তা প্রদান। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দেয়া তথ্য অনুযায়ী জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত বোরো চাষি পরিবারের সংখ্যা ১ লাখ ৭২ হাজার ৬১৭ টি, ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ ১ লাখ ২ হাজার ৪৩৬ হেক্টর (সূত্র: দৈনিক সমকাল, ২৯ এপ্রিল ২০১৬)। মন্ত্রণালয়ের পরিবেশিত এই ক্ষতির তথ্য বাস্তবানুগ নয়। ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ এর চাইতে ঢের বেশি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারগুলোকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করে তালিকা প্রণয়নের মাধ্যমে তাদের সহযোগিতা শুরু করতে হবে যথাশীঘ্র।
এবার বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের আকার ছিল ব্যাপকতর, একথা সত্য। কিন্তু এর বাইরে যে সত্য তা হলো, ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্য যে ৬৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল তার যথাযথ ব্যবহার হলে এত তাড়াতাড়ি হাওরের ফসল ডুবে যেত না। বহু হাওর রক্ষা পেত। অনেক বাঁধে কোন কাজই করা হয় নি।  অধিকাংশ বাঁধে কাজ হয়েছে নামে মাত্র। অর্থাৎ বাঁধ নির্মাণে ঠিকাদার ও পিআইসি সীমাহীন দুর্নীতি করেছে। এই অঞ্চলের মানুষের প্রধান দাবি এই দুর্নীতিবাজদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।
বছর বছর বাঁধ-বছর বছর দুর্নীতি, হাওর রক্ষার এই লুটপাট বন্ধ করে স্থায়ী সমাধানের উপায় উদ্ভাবন ও কার্যকর করা হাওরেবাসীর অন্যতম প্রধান দাবি। বিশেষজ্ঞরা এজন্য ব্যাপকভাবে নদী খনন, বিল ও খাল খনন, স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ; এরকম বহু বিষয়কে সামনে এনেছেন। আমরা মনে করি হাওরকে রক্ষা করতে হলে অবশ্যই স্থায়ী সমাধানের দিকে যেতে হবে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি এই দেশের মহান রূপকার বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্যা কন্যা। আপনি হৃদয়ে অপরিমেয় দেশপ্রেম ধারণ করে নিরন্তর দেশসেবায় নিয়োজিত রয়েছেন। তাই মানুষ শেষ অর্থে আপনার মুখের দিকেই তাকিয়ে থাকে। যেমন তাকিয়ে আছে আজ। স্বপ্নভাঙা মানুষগুলোকে আশার বাণী শুনান আপনি। এদের অন্তত একটি বছর বাঁচিয়ে রাখুন। এরা নিজের শ্রম-ভালবাসা দিয়ে এর প্রতিদান দিবে।