এনামুল হক এনি, ধর্মপাশা
ধর্মপাশা পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের দাবি দিনদিন জোরালো হচ্ছে। নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলা হতে রেললাইন সম্প্রসারণ করে ধর্মপাশায় রেলওয়ে স্টেশন স্থাপনের দাবিতে আজ শনিবার সকাল সাড়ে এগারটায় স্থানীয় উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন সড়কে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।
ফেসবুক ভিত্তিক অনলাইন গ্রুপ ‘ধর্মপাশার দাবি’র সহযোগিতায় ‘ধর্মপাশা রেলওয়ে স্টেশন বাস্তবায়ন আন্দোলন কমিটি’ এ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। কমিটির পক্ষ থেকে দলমত নির্বিশেষে সকল শ্রেণি পেশার মানুষকে মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।
গেল কয়েকদিনে স্থানীয় শত শত ফেসবুক ইউজার তাঁদের টাইমলাইনে ‘আমি ধর্মপাশার বাসিন্দা। আমাদের প্রাণের দাবি মোহনগঞ্জ হতে রেললাইন সম্প্রসারণ করে ধর্মপাশা রেলওয়ে স্টেশন স্থাপন করা হউক’ এমন লেখা পোস্ট করেছেন। এ নিয়ে শুক্রবার বিকেল চারটায় ধর্মপাশা ডিগ্রি কলেজ মাঠে ‘ধর্মপাশার দাবি’র পক্ষ থেকে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলোচনা সভায় বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোক অংশগ্রহণ করেন।
হাওরাঞ্চলের অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার মানুষকে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয়। জেলা শহরের সাথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ট্রলার বা লঞ্চ। বর্ষাকালে ধর্মপাশা গোদারাঘাট থেকে লঞ্চ বা ট্রলারে ওঠে যাতায়াতের ব্যবস্থা থাকলেও শুষ্ক মৌসুমে তা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। তখন ধর্মপাশা বাজার থেকে রিকশায় করে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে জয়শ্রী নদীর ঘাট থেকে এবং অর্ধ শুষ্ক মৌসুমে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে মহদিপুর ঘাটে গিয়ে ট্রলার বা লঞ্চে ওঠতে হয়। এর পর দীর্ঘ ৭/৮ ঘন্টার বিরক্তিকর ভ্রমণ। তবে শীতকালে হাওরের পানি শুকিয়ে গেলে মোটরসাইকেলে তিন ঘন্টায় জেলা শহরে যাওয়া যায়। যারা এভাবে সুনামগঞ্জে যাতায়াত করেন তাদের সময় ও অর্থ অপচয়ের পাশাপাশি মানসিক যন্ত্রনাও পোহাতে হয়। তাই এ অঞ্চলের মানুষজন বিশেষ কোনো জরুরি দরকার বা দাপ্তরিক কাজ ছাড়া জেলা শহরে যাওয়ার প্রয়োজন বোধ করেন না।
এ অঞ্চলের বেশির ভাগ ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া, আত্মীয়-স্বজন, বিয়ে-শাদী, চিকিৎসাসেবা থেকে শুরু করে সব কিছুই নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ ও ঢাকা নির্ভর। তাই ধর্মপাশা উপজেলাসহ হাওরাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন নিজের প্রয়োজনে মোহনগঞ্জ হয়ে নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ ও ঢাকায় রেলপথে যাতায়াত করেন।
সীমান্তবর্তী পাহাড়ি ও ভাটি জনপদের মানুষের সহজ যাতায়াত ও মালামাল পরিবহনের লক্ষ্যে ১৯১৯ সালে নেত্রকোনার ৭২ কিলোমিটার রেলপথ তৈরি করা হয়েছিল। এর একটি ৫৫ কিলোমিটার দূরত্বের গৌরীপুর-নেত্রকোনা-মোহনগঞ্জ রেলপথ। অপরটি ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ শ্যামগঞ্জ-জারিয়া রেলপথ। নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ, বারহাট্টা, কলমাকান্দা, দূর্গাপুর, পূর্বধলাসহ পার্শ্ববর্তী ধর্মপাশা (মধ্যনগর)-তাহিরপুর উপজেলার হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে আসছে এ রুটে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মোহনগঞ্জ-ঢাকা রুটে ২০১৩ সালের ৩০ জুলাই ‘হাওর এক্সপ্রেস’ নামক একটি আন্তনগর ট্রেনের যাত্রা শুরু হলেও হাওরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ধর্মপাশা পর্যন্ত রেল লাইন সম্প্রসারণের বিষয়টি উপেক্ষিত রয়ে যায়। ফলে ধর্মপাশা উপজেলাসহ হাওরাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষকে প্রতিদিন বিভিন্ন প্রয়োজনে ৪ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে মোহনগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছাতে গিয়ে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হয়।
ধর্মপাশায় রেলওয়ে স্টেশন স্থাপনের জন্য ১৯৮১ সালে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কিন্তু পরে তা আর হয়ে উঠেনি। সাবেক রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত’র আমলে এ অঞ্চলের মানুষজন বড় আশায় বুক বেঁধেছিলেন যে, ধর্মপাশা পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণ করা হবে কিন্তু জনগণের সেই আশায় গুড়েবালি। মোহনগঞ্জ থেকে ধর্মপাশা পর্যন্ত আড়াআড়িভাবে রেললাইন সম্প্রসারণ করা হলে ৪ কিলোমিটারের দূরত্ব প্রায় আড়াই কিলোমিটারে চলে আসবে। হাওরাঞ্চল ধর্মপাশা উপজেলা সুনামগঞ্জ জেলার অধীনে হলেও ভৌগোলিক কারণে এ অঞ্চলের মানুষকে সুনামগঞ্জ বা সিলেট হয়ে রাজধানী ঢাকায় যাতায়াত করা ব্যয়বহুল ও সময় সাপেক্ষ।
শুক্রবার বিকেলে আলোচনা সভা শেষে আপন দেবনাথকে আহ্বায়ক, জাকির তালুকদারকে সদস্য সচিব ও যুগ্ম আহ্বায়ক শাকিল আহমেদ মুন, আব্দুল্লাহ আল সানি, শাহরিয়ার আহমেদ ইমন ও রাজেশ দেবনাথকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ১০১ সদস্য বিশিষ্ট ‘ধর্মপাশা রেলওয়ে স্টেশন বাস্তবায়ন আন্দোলন কমিটি’র আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির উপদেষ্টারা হলেন, সাংবাদিক এনামুল হক এনি, সাংবাদিক চয়ন কান্তি দাস, কবি আনিসুল হক লিখন, শিক্ষক প্রসুনজিৎ বিশ্বাস পলাশ, শিক্ষার্থী ইকরামুল হক রাকিব।
‘ধর্মপাশা রেলওয়ে স্টেশন বাস্তবায়ন আন্দোলন কমিটি’র আহ্বায়ক আপন দেবনাথ জানান, ধর্মপাশা পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণ হাওরাঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি, সময়ের দাবি। এ দাবি পূরণ হলে হাওরাঞ্চলের প্রতিটি মানুষ সহজে রাজধানী ঢাকার সাথে যোগাযোগ রক্ষার পাশাপাশি ব্যবসা বাণিজ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে নানান সুযোগ সুবিধার সৃষ্টি হবে। তাই মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ্রগ্রহ করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
- বেয়াইর বাড়িতে রাগীব আলী- ফন্দি আঁটছেন যুক্তরাজ্যে পালানোর
- পৌরসভায় থেকেও অন্ধকারে বিদ্যুৎহীন পাঠানবাড়ি


