মানবিক ভালবাসায় ভরে উঠুক চারপাশ

গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে সমাজ হিতৈষী বেশ কয়েকটি ইতিবাচক খবর প্রকাশিত হয়েছে। উল্লেখযোগ্য সংবাদগুলো হলোÑ‘সায়েন্স ক্লাবের গণিত উৎসবে ৮০০ শিক্ষার্থী’, ‘সারেগামা শিশু সংগঠনের উদ্যোগে ফ্রি চিকিৎসা সেবা অনুষ্ঠিত’ ও ‘ছাতকে ৩ দিন ব্যাপী ফ্রি চিকিৎসা’। কতিপয় ব্যক্তি ও সংগঠনের উদ্যোগে সমাজসেবা ও সমাজ গঠন সংক্রান্ত এসব উদ্যোগ নিঃসন্দেহে উৎসাহব্যঞ্জক। বিচ্ছিন্নতা ও স্বার্থবাদিতায় আক্রান্ত এই সময়ে এসব ব্যতিক্রমী উদ্যোগ মানুষকে আশাবাদী করে। গণিতশাস্ত্র হলো বিজ্ঞানের ভিত্তি। শিক্ষার্থীদের মধ্যে গণিত নিয়ে এক ধরনের ভীতি কাজ করে। সায়েন্স ক্লাব নামক সুনামগঞ্জের একটি সংগঠন শিক্ষার্থীদের এই গণিত ভীতি দূর করে গণিতপ্রীতি গড়ে তুলতে ২০১৬ সন থেকে গণিত উৎসবের আয়োজন করে চলেছে। জেলার ৩ উপজেলার তিনটি কেন্দ্রে এই গণিত উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমরা সর্বাবস্থায় একটি বিজ্ঞানমনস্ক, যুক্তিবাদী ও প্রগতিশীল সমাজ দেখার প্রত্যয় ব্যক্ত করি। একটি জনপদকে প্রকৃত অর্থে উন্নত করে তুলতে হলে এই প্রত্যয় জরুরি। বিজ্ঞান ভিন্ন কোনো দেশ বা জাতি আধুনিক বিশ্বে জায়গা করে নিতে পারবে না। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমাদের দেশে বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদিতা চর্চার জায়গাটি খুব দুর্বল। ফলে দেশে একটি শক্তিশালী বিজ্ঞানমনস্ক প্রজন্ম গড়ে উঠতে দেখি না আমরা। এই জায়গায় কিছু সংগঠন কাজ করছে। গণিত অলিম্পিয়াড এর বড় উদাহরণ। ছোট পরিসরে সায়েন্স ক্লাবের এই গণিত উৎসবও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে একটি যুক্তিবাদী সমাজ গঠনের কাজে। সায়েন্স ক্লাব নামক সংগঠনটির কার্যক্রমের আরও প্রসার কামনা করি আমরা। তাদের অভিনন্দন।
সারেগামা নামে জেলা শহরের একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন সম্প্রতি সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য একটি চিকিৎসাসেবা কাজ শুরু করেছেন। শহরেরই একজন চিকিৎসক ডা. জহরলাল দাস এই কাজে তাকে প্রধান সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন। ডা. জহরলাল দাসকে সহযোগিতা দিচ্ছেন আরও তিন চিকিৎসক যথাÑ মো: তরিকুল ইসলাম, মাজহারুল ইসলাম ও আব্দুর রহমান। তারা নির্দিষ্ট দিনে এই চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। আমাদের স্বাস্থ্য পরিসেবায় চিকিৎসাসেবাটি যখন উচ্চ মূল্যের পণ্য হয়ে উঠেছে এবং চিকিৎসাসেবার সাথে জড়িতরা যখন একে ব্যবসার বাইরে কিছু ভাবতে পারছেন না তখন কতিপয় ব্যক্তি ও চিকিৎসকের এমন উদ্যোগ আমাদের আশান্বিত করে যে, সমাজের সবকিছু এখনও নষ্ট হয়ে যায়নি। শুধু পয়সার অভাবে আমাদের দেশের একটি বড় জনগোষ্ঠী ন্যূনতম চিকিৎসাসেবা গ্রহণে অপারগ। এই সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কিছু অংশকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিয়ে তারা যে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন আমরা তার ধারাবাহিকতা বজায় থাকার আশাবাদ ব্যক্ত করছি। এই সুযোগে এমন মহতী কর্মকা-ে জড়িত ব্যক্তিবৃন্দকে আমাদের শুভেচ্ছা জানাই।
ছাতকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের উদ্যোগে ৩ দিন ব্যাপী একটি ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পের আয়োজন করেছে সৈয়দ রাবেয়া খানম ট্রাস্ট নামের একটি সংগঠন। এই ক্যাম্পে পর্যায়ক্রমে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী মেডিসিন কনসালটেন্ট ডা. গোলাম ইয়াহিয়া, জাতীয় চক্ষু ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. জহিরুল ইসলাম, সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. সৈয়দ দিদার হাসান ও ডা. ফারিহা তাসনীম। ট্রাস্টের এমন জনহিতকর কর্মকা- নিঃসন্দেহে প্রশংসাযোগ্য। আমরা আয়োজক ও সেবাপ্রদানকারী চিকিৎসকবৃন্দকে অভিনন্দন জানাই।
মানুষের ভিতর একটি নরম মন থাকে। ওই মন সমাজের জন্য ভাল কিছু করতে চায়। কিন্তু সমাজ বাস্তবতা অনেক সময় মনের ওই সুকুমার বৃত্তিগুলোকে ঢেকে রাখে। আর্থ-রাজনৈতিক আগ্রাসী নীতিও মানুষকে মানবিক হওয়ার জায়গা থেকে সুনিপুণভাবে সরিয়ে রেখেছে। এরকম সময়েও অনেকে নিজের মত করে সমাজ ও মানুষের জন্য কিছু করার চেষ্টা করেন। মনুষ্যগোষ্ঠী যে পুরোপুরি অমানবিক হয়ে উঠতে পারেনি এসব আয়োজন তার প্রমাণ। এই ধরনের ছোট্ট ছোট্ট উদ্যোগগুলোই একসময় আমেেদর পুরো সমাজকে মানবিক ভালবাসায় ভরিয়ে দিবে এই বিশ্বাস রাখতে মন চায়।