জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আকমল হোসেন (৬৫) কে ফুলেল শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় চিরবিদায় জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে সিলেট শহরের নাইরপুল জামে মসজিদে প্রথম জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে তাঁর মরদেহ নিয়ে আসা হয়। এসময় সর্বস্তরের মানুষ তাঁর মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. হায়দার চৌধুরী লিটন, সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসহযোগী সংগঠন, উপজেলা পরিষদ, উপজেলা প্রশাসন, জগন্নাথপুর প্রেসক্লাব, পৌর পরিষদ, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এসোসিয়েশনের সভাপতি তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল সহ বিভিন্ন সংগঠন শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে শ্রীরামসি স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে শোক প্রকাশ করে বক্তব্য দেন স্থানীয় পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান, বিশ্বনাথ—বালাগঞ্জ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এসোসিয়েশনের সভাপতি তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল, জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি সৈয়দ আবুল কাশেম, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাজিদুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হায়দার চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম, সাবেক পৌর মেয়র উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মিজানুর রশীদ ভূঁইয়া, উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান আবুল হোসেন লালন, মীরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক শেরিন, জেলা ছাত্র লীগ সভাপতি দ্বিপঙ্কর কান্তি দে, মীরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আতিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক বাবুল মিয়া, শ্রীরামসি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ হাজের আলী, প্রয়াতের ভাই আবাব হোসেন, ছেলে মুক্তাকীন আহমেদ। জানাযার নামাজে ইমামতি করেন হাফিজ নাফিজ আহমেদ। সভা পরিচালনা করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম মশাহিদ।

শোক প্রকাশ করে পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ২০০৫ সাল থেকে আমি আকমল হোসেনকে চিনি। তিনি একজন বিচক্ষণ ও নিবেদিত প্রাণ রাজনীতিবিদ ছিলেন। সততার সাথে তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছেন। সকল লোভ লালসার উর্ধ্বে উঠে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত। তাঁর আত্মার শান্তি ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। জানাযা শেষে মায়ের কবরের পাশে তাঁর দাফন করা হয়।
জানাযার নামাজে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য শাহীনুর পাশা চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগ সহ সভাপতি সিদ্দিক আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ ইশতিয়াক শামীম, সদস্য নুরুল ইসলাম, জেলা বারের সাবেক সভাপতি সৈয়দ শামসুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম সেফু, জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদ সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান, সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মুক্তাদীর আহমেদ, বিএনপি নেতা এম এ মতিন, সামসুল ইসলাম, পুলিশ সুপার এহসান শাহ, জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলাম, ওসি মিজানুর রহমান প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, সোমরাত রাত দেড়টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেছেন। গত ২৪ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনে যোগ দিতে ঢাকায় গিয়েছিলেন। সেখানে আকস্মিক অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি গত ৮ ডিসেম্বর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।


