সু.খবর ডেস্ক
কথা রেখেছেন সাকিব-মোস্তাফিজ-মোসাদ্দেকরা। জয় দিয়ে মাশরাফিকে বিদায় জানাতে চেয়েছিলেন তারা। মাশরাফির বিদায়ী ম্যাচে ঠিকই জয় তুলেছে নিয়েছেন সাকিব-মোস্তাফিজরা। ৪৫ রানের বিরাট ব্যবধানে স্বাগতিকদের হারিয়ে মাশরাফির বিদায়কে স্মরণীয় করে রেখেছেন তারা। জয় দিয়েই ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা।
এই জয়ে দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজটা ১-১ সমতায় শেষ হলো। এর আগে টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজও ১-১ ড্র হয়েছিল। এই সিরিজের মাধ্যমেই শ্রীলঙ্কা সফর শেষ হলো টাইগারদের।
কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে আজ বাংলাদেশের দেয়া ১৭৭ রানের জয়ের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ১৮ ওভারে ১৩১ রান সংগ্রহ করে অলআউট হয়ে যায় স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা।
দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫০ রান করেন চামারা কাপুগেদারা। এছাড়া থিসারা পেরেরা ২৭ ও উপুল থারাঙ্গা ২৩ রান করেন। বাংলাদেশের পক্ষে মোস্তাফিজুর রহমান ৪টি, সাকিব আল হাসান ৩টি, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ১টি, মাশরাফি বিন মুর্তজা ১টি ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ১টি করে উইকেট নেন।
শ্রীলঙ্কার ইনিংসের প্রথম উইকেটের পতন ঘটান সাকিব আল হাসান। ইনিংসের প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলে ওপেনার কুসল পেরেরাকে বোল্ড করেন তিনি। শুধু তাই নয়। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের হাতে ক্যাচ বানিয়ে দিলশান মুনাবিরাকে ফিরিয়ে দেন সাকিব। এরপর শ্রীলঙ্কার দলীয় ৪০ রানে মেহেদী হাসান মিরাজের হাতে ক্যাচ বানিয়ে উপুল থারাঙ্গাকে সাজঘরে ফেরান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।
ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে মাশরাফি বিন মুর্তজা প্রথমবারের মতো বল তুলে দেন ‘কাটার মাস্টার’ মোস্তাফিজুর রহমানের হাতে। তিন উইকেটে শ্রীলঙ্কার রান তখন ৪০। বল করতে এসে ওভারের প্রথম বলেই মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের হাতে ক্যাচ বানিয়ে আসেলা গুনারত্নেকে ব্যক্তিগত শূন্য রানে ফিরিয়ে দেন মোস্তাফিজ। দ্বিতীয় বলে সৌম্য সরকারের হাতে ক্যাচ বানিয়ে মিলিন্দা সিরিবর্দনেকে ফেরান তিনি। সিরিবর্দনেও ফেরেন ব্যক্তিগত শূন্য রানে।
তারপর চামারা কাপুগেদারা ও থিসারা পেরেরা ৫৮ রানের পার্টনারশীপ গড়েন। শ্রীলঙ্কার দলীয় ৯৮ রানে নিজের তৃতীয় উইকেট শিকার করেন সাকিব আল হাসান। স্ট্যাম্পিং হয়ে সাজঘরে ফিরে যান থিসারা পেরেরা। ২৩ বল খেলে তিনি করেন ২৭ রান।
১৬তম ওভারে সেকুগে প্রসন্নকে বোল্ড করেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। ১৭তম ওভারে মোস্তাফিজুর রহমান নিজের তৃতীয় ওভারের বল করতে এসে চামারা কাপুগেদারা ও লাসিথ মালিঙ্গাকে সাজঘরে ফেরান। কাপুগেদারা ৩৫ বল খেলে ৫০ রান করেন। ১৮তম ওভারে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের বলে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের হাতে ক্যাচ হন ভিকুম সঞ্জয়া।
এর আগে বাংলাদেশ ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে নয় উইকেট হারিয়ে ১৭৬ রান সংগ্রহ করে। এদিন বাংলাদেশের পক্ষে ইমরুল কায়েস ৩৬, সৌম্য সরকার ৩৪ ও সাকিব আল হাসান ৩৮ রান করেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে লাসিথ মালিঙ্গা ৩টি, নুয়ান কুলাসেকারা ১টি, আসেলা গুনারত্নে ১টি, ভিকুম সঞ্জয়া ১টি ও থিসারা পেরেরা ১টি করে উইকেট নেন।
প্রথম দশ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ছিল দুই উইকেট হারিয়ে ১০১ রান। এরপর থেকে শ্রীলঙ্কার বোলাররা নিয়ন্ত্রিত বোলিং করতে থাকেন। ইনিংসের ১৯তম ওভারে হ্যাটট্রিক করেন লঙ্কান পেসার লাসিথ মালিঙ্গা। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৯ উইকেট হারিয়ে ১৭৬ রান।
আজ টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন টাইগার দলপতি মাশরাফি বিন মুর্তজা। ব্যাটিংয়ে নেমে ইমরুল কায়েস ও সৌম্য সরকার শুরুটা করেছিলেন দারুণ। ওপেনিং জুটিতে দুজন মিলে ৭১ রানের মধ্যে পার্টনারশীপ গড়েন। ইনিংসের সপ্তম ওভারে বোলার আসেলা গুনারত্নের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান সৌম্য সরকার। ১৭ বল খেলে চারটি চার ও দুইটি ছয়ের সাহায্যে তিনি করেন ৩৪ রান।
এরপর দলীয় ৭৮ রানে রান আউট হয়ে ফিরে যান ইমরুল কায়েস। ২৫ বল খেলে চারটি চার ও একটি ছয়ের সাহায্যে তিনি করেন তিনি করেন ৩৬ রান। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ইমরুল কায়েসের এটি এক ইনিংসে সর্বোচ্চ রান। বিশ ওভারের ক্রিকেটে এর আগে তারা এক ইনিংসে সেরা রান ছিল ২২।
তারপর সাকিব আল হাসান ও সাব্বির রহমান ৪৬ রানের পার্টনারশীপ গড়েন। দলীয় ১২৪ রানে ভিকুম সঞ্জয়ার বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফিরে যান সাব্বির রহমান। ১৮ বল খেলে একটি ছয়ের সাহায্যে তিনি করেন ১৯ রান।
দলীয় ১৩৯ রানে নুয়ান কুলাসেকারার বলে বোল্ড হন সাকিব আল হাসান। ৩১ বল খেলে চারটি চারের সাহায্যে তিনি করেন ৩৮ রান। ইনিংসের ১৮তম ওভারে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে বোল্ড করেন থিসারা পেরেরা। মোসাদ্দেকের ব্যাট থেকে আসে ১৭ রান।
এরপর ইনিংসের ১৯তম ওভারে হ্যাটট্রিক করেন লাসিথ মালিঙ্গা। ওভারের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম বলে যথাক্রমে মুশফিকুর রহিম, মাশরাফি বিন মুর্তজা ও মেহেদী হাসান মিরাজকে সাজঘরে ফেরান তিনি। মুশফিকুর রহিম ছয় বল খেলে ১৫ রান করেন। আর মাশরাফি বিন মুর্তজা ও মেহেদী হাসান মিরাজ ব্যক্তিগত শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন। ইনিংসের শেষ ওভারে রান আউট হন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। পাঁচ বল খেলে তিনি করেন ছয় রান। আর পাঁচ বল খেলে চার রান করে অপরাজিত থাকেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।
টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে টাইগার দলপতি মাশরাফি বিন মুর্তজার এটি ছিল শেষ ম্যাচ। তিনি আর টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলকে প্রতিনিধিত্ব করবেন না। এই ম্যাচ খেলেই তিনি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন।
- প্রধানমন্ত্রীর সফরে প্রতিরক্ষাসহ ২০ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক
- তাহিরপুরে চাল ও আটার দাম দফায় দফায় বৃদ্ধি


