স্টাফ রিপোর্টার
মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন হেলাল শিক্ষা ট্রাস্টের উদ্যোগে শুক্রবার বিকেলে ৩২জন মুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। পৌর শহরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে এই বৃত্তি বিতরণ অনুষ্ঠান হয়।
প্রবীণ নারীনেত্রী শীলা রায়ের সভাপতিত্বে বৃত্তি বিতরণ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা ও মুক্তিযুদ্ধকালীন ৫ নম্বর সেক্টরের বাঁশতলা সাবসেক্টর কমান্ডার লে. কর্নেল (অব.) এ এস হেলাল উদ্দিন, ভোলাগঞ্জ সাবসেক্টরের কমান্ডার প্রকৌশলী ন আ ম আলমগীর, লে. কর্নেল (অব.) আবদুর রউফ বীরবিক্রম, মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) এ মাসুদ। ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা বজলুল মজিদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রবীণ রাজনীতিক রমেন্দ্র কুমার দে, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার আবুল হাসনাত, ব্যাংকার আশরাফ হোসেন, বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী আর রাফি ভুইয়া, আলী কাওসার ও সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের আইসিটি অপারেটর মুক্তিযোদ্ধা কন্যা মমতাজ আক্তার মম।
পরে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির ১০ জন এবং অনার্স পড়–য়া ২২ জন শিক্ষার্থীকে এককালীন বৃত্তির অর্থ তুলে দেন অতিথিরা। ১৯৯৬ সাল থেকে এই ট্রাস্টের উদ্যোগে সুনামগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) এ মাসুদ বলেন,‘মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল হেলাল সেনাবাহিনীতে চাকুরি করে নিজের টাকা খরচ করে শিক্ষার অগ্রগতিতে শিক্ষা বৃত্তি দিয়ে আসছেন। শিক্ষার জন্য কাজ করলে ইতিহাস জানবে এটা কত বড় কাজ। ফেইসবুক ইউটিউব দেখলে লেখাপড়া হবে না। তিনি বলেন,‘আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করার সময় বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে দেশ স্বাধীন করি। বঙ্গবন্ধুর জনসমর্থন ছিল বলেই স্বাধীনতা যুদ্ধে মানুষ অংশ নিয়েছিল। এই কারণে একমাত্র বঙ্গবন্ধুই জাতির পিতা হয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধ সম্বন্ধে জানতে হলে বই পড়তে হবে।’
লে. কর্নেল (অব.) আবদুর রউফ বীর বিক্রম বলেন,‘মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা ভারতে ঘুরাফেরা করেছে তারাই মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে ভুয়া নাম লেখিয়েছে। আমি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের ঘৃণা করি। জাতির কুলাঙ্গার হল তারা যারা যুদ্ধে না গিয়েও মুক্তিযোদ্ধা নাম লিখিয়েছে। বিগত ১৯ বছরে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা হারিয়ে যেতে বসেছিল, ঠিক তখনই ভুয়াদের নাম ঢুকিয়েছে তালিকায়। তাদের শাস্তির জন্য ব্যবস্থা করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন,‘তোমরা সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে উঠ।’
ভোলাগঞ্জ সাবসেক্টরের কমান্ডার প্রকৌশলী ন আ ম আলমগীর বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে হলে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ের বই পড়তে হবে। অনুসন্ধান করে বই খুঁজে নিতে হবে। বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে চলতে হলে লেখাপড়ার বিকল্প নেই।’
৫ নম্বর সেক্টরের বাঁশতলা সাবসেক্টর কমান্ডার লে. কর্নেল (অব.) এ এস হেলাল উদ্দিন বলেন,‘দেশে আগের চেয়ে এখন শিক্ষার হার অনেকটা বেড়েছে। শিক্ষা গ্রহণের সুযোগও বেড়েছে। এই দেশে অনেক মেধাবী রয়েছে। দেশ বিদেশে সুনাম অর্জন করেছে। আজ দেশ ফল উৎপাদনে বিশ্বের দরবারে ২ নম্বরে, মাছ উৎপাদনে ৪ নম্বরে। দেশের মানুষ উন্নত হচ্ছে।’ তিনি বলেন,‘শিক্ষার্থীদের ভাল করে লেখাপড়া করতে হবে এবং স্বপ্ন দেখতে হবে। স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য চেষ্টা করে যেতে হবে।’


