মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ সমুন্নত রাখার অঙ্গিকার

স্টাফ রিপোর্টার
নানা আয়োজনে সুনামগঞ্জ মুক্ত দিবস উদ্যাপন হয়েছে। জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচী শুরু হয়। সকাল সাড়ে দশটায় শহরে বের হয় মুক্ত দিবসের বর্ণাঢ্য র‌্যালি। র‌্যালিতে পাকবাহিনীর আত্মসমর্পনের ডিসপ্লে, লাঠিখেলা, গরুর গাড়ীসহ উৎসবমুখরতা ছিল। র‌্যালিটি স্টেশনরোড, পুরাতন বাসস্টেশন এলাকা ঘুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান করে। পরে শহীদ আবুল হোসেন মিলনায়তনে এই উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন- জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট, সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখ্ত, সিভিল সার্জন ডা. আশুতোষ দাস, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হায়াতুননবী, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা আইনজীবী আলী আমজাদ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক জেলা কমান্ডার নুরুল মোমেন, মুক্তিযোদ্ধা আতাউর রহমান প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ সমুন্নত রাখতে হবে। মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত সকল স্থাপনার উন্নয়ন শুরু হয়েছে। এই উন্নয়ন কার্যক্রমকে গতিশীল রাখার জন্য স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গুবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও সকলে সহযোগিতা করতে হবে।
জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের দরজা সব সময় খোলা রয়েছে।’ অসুস্থ অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা সহায়তার জন্য তাঁর সহযোগিতা সব সময় অব্যাহত রাখার আশ^াস দেন তিনি। তিনি বলেন, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের জন্যই আমরা স্বাধীন ভূখ- পেয়েছি, বাঙালি মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে।
পৌরসভার মেয়র নাদের বখ্ত বলেন, এই সমাবেশে এসে আমি আবেগাপ্লুত। আমার বাবা এবং আমার বড় ভাইদের কথা মনে পড়ছে। যারা আপনাদের সঙ্গে যুদ্ধে শরিক ছিলেন। একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে বলছি, আপনাদের মুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে ¯েœহ করতে হবে, সহযোগিতাও দিতে হবে। একইভাবে রাজাকারের সন্তানকেও ঘৃণা করতে হবে। তিনি পৌরসভায় বসবাসরত মুক্তিযোদ্ধাদের মুজিব বর্ষের প্রথম দিন থেকে সম্মানী দেবার কথা জানিয়ে বলেন, অন্য এলাকার জনপ্রতিনিধিরা যেন আমাদের বীর সন্তানদের সম্মানীত করেন। তাহলে তাঁরা নিজেরা সম্মানীত হবেন। দেশমাতৃকার প্রতি সম্মান দেখানো হবে।
সভাপতি’র বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন, মুক্তিযুদ্ধাদের বাড়ির নামফলক স্থাপন প্রকল্পের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। বধ্যভূমিগুলোর উন্নয়ন কাজও চলমান। টেকেরঘাট, মহেষখলা, বাঁশতলা’র উন্নয়ন হবে। মুক্তিসংগ্রাম স্মৃতি ট্রাস্টের সহযোগিতায় ৪৮ শহীদের কবরস্থান ডলুরা’র উন্নয়ন শুরু হয়েছে। ওখানে তিন তলা ডাকবাংলো নির্মাণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তিনি মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য সকলকে সক্রিয় থাকার অনুরোধ জানান।
মুক্ত দিবসে এবার সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের যৌথ আয়োজনে অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের ফ্রি চিকিৎসা দেওয়া হয়।