স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ মুক্ত দিবস উপলক্ষে ডলুরা শহীদ সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছে জেলা প্রশাসন। রবিবার সকালে সকালে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলাধীন ডলুরা শহীদ সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ। এসময় শহীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়।
পুষ্পস্তবক অর্পণকালে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইয়াসমিন নাহার রুমা, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফ আদনান, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সীমা রাণী বিশ্বাস, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার জহিরুল আলম, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোকছুদ আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মালেক হোসেন পীরসহ স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ।
মুক্তিযোদ্ধারা জানান, দক্ষিণ দিকে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর পালানোর পথ রেখে বালাট সাব সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধারা সুনামগঞ্জ শহরকে শত্রুমুক্ত করতে উদ্যোগ নেন। চারটি কোম্পানির ‘এ’ কোম্পানিকে যোগীরগাঁও, ‘বি’ কোম্পানিকে হালুয়ারঘাট, সি কোম্পানিকে হাছননগর, ডি কোম্পানিকে ভাদেরটেক লালপুর থেকে আক্রমণের নির্দেশ দেওয়া হয়। তাছাড়া এফ কোম্পানিকে বেরীগাঁও-কৃষ্ণনগরে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত অবস্থানের নির্দেশ দেওয়া হয়। শুধু দক্ষিণ দিক উন্মুক্ত রেখে যৌথ আক্রমণে নামেন মুক্তিযোদ্ধারা। কোম্পানিগুলোকে সার্বিক রসদ সরবরাহের দায়িত্ব দেওয়া হয় এডিএম কোম্পানিকে।
এছাড়াও বনগাঁও সদর দফতরে অতিরিক্ত এক প্লাটুন মুক্তিযোদ্ধা প্রস্তুত ছিলেন যে কোন পরিস্থিতি সামাল দিতে। মুক্তিযোদ্ধাদের অতর্কিত ও যৌথ আক্রমণের খবরে ভীতসন্ত্রস্ত পাকিস্তানী হানাদারবাহিনী শহর ছেড়ে পালাতে শুরু করে। ৬ ডিসেম্বর ভোরেই মুক্তিযোদ্ধাদের ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে রাস্তায় নেমে আসে দামাল মুক্তিসেনাদের অভিনন্দন জানায়। দীর্ঘদিন অবরুদ্ধ থাকার পর হাজার হাজার নারী পুরুষ রাস্তায় নেমে এসে মুক্তির উল্লাসে মেতে ওঠেন। এভাবেই শত্রুমুক্ত হয় সুনামগঞ্জ। পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী পালানোর সময় সুনামগঞ্জ পিটিআই টর্চার সেলে কয়েকজনকে হত্যা করে, কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাকে ধরে নিয়ে আহসানমারা সেতুর পাশে ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করে। এখান থেকে মুক্তিযোদ্ধারা অনেক মানুষের হাড়গোড়, নারীদের কাপড় চোপড়সহ বিবস্ত্র দেহ উদ্ধার করেন।
সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ
যথাযোগ্য মর্যাদায় সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজে সুনামগঞ্জ মুক্ত দিবস উদযাপিত হয়েছে। রবিবার সকাল ১০টায় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়।
এরপর সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেন ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক গোলাম মাওলা পিয়াস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ জমসিদ আলী, দর্শন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ ইনার উদ্দিন, ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ, অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ইফতেখার আলম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শিক্ষক পরিষদ সম্পাদক ও রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবুল কাশেম আজাদ। সমাপনী বক্তব্য রাখেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর নীলিমা চন্দ।
এসময় শিক্ষকমন্ডলী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, রোভার স্কাউট সদস্যবৃন্দ এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তাগণ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বৈষম্যমুক্ত, অন্যায়, অবিচার ও শোষণমুক্ত; অর্থাৎ অসাম্প্রদায়িক সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। শিক্ষার্থীদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জাগ্রত হওয়ার জন্য প্রেরণা দেন।
ছাত্র ইউনিয়নর
সুনামগঞ্জ মুক্ত দিবস উপলক্ষে জেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক করে জেলা ছাত্র ইউনিয়ন। সকাল ৭ টায় এই শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণকালে উপস্থিত ছিলেন জেলা যুব ইউনিয়নের সভাপতি মো. আবু তাহের মিয়া, জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নিমাই সরকার, শহর ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মো. বিনয় আমিন, সাধারণ সম্পাদক সামায়ুন কবির, সুনামগঞ্জ টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের আহ্বায়ক মো. রাকিব, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. এমরান হোসেন, সদস্য সচিব মো. আল আমিন প্রমুখ। পুষ্পাঞ্জলি শেষে সকল শহীদদের স্মরণে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।


