মুক্তিযোদ্ধা উপত্যকা খুবলে খাচ্ছে পাথরখেকোরা

বিশেষ প্রতিনিধি
দোয়ারাবাজার সীমান্তের মুক্তিযোদ্ধা উপত্যকা হিসাবে পরিচিত বাঁশতলা হকনগর খুবলে খাচ্ছে পাথর খেকোরা। মাঝে মাঝে ওখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পাথর খেকোদের জরিমানা বা দ- দিলে দুয়েক দিন পাথরের কোয়ারি খনন বন্ধ থাকে। কিন্তু জব্দ পাথর নিলামে কেনার পর আরও বেশি জনবল নিয়ে পাথর উত্তোলনে নামে পাথরখেকোরা। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নিলামকৃত পাথর উঠিয়ে নেবার অজুহাতে কয়েক’শ শ্রমিক লাগানো হয় বাশতলা এলাকায়। নিলামের পাথর তুলে নেবার অজুহাতে এরা আরও বেশি পরিমাণে পাথর উত্তোলন করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। পাথর খেকোদের কারণে সীমান্তের এই পর্যটন এলাকার সৌন্দর্য বিনষ্ট এবং সরকারও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
বাঁশতলা এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, গত প্রায় ৬ মাস হয় বাঁশতলা এলাকায় অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করে বিক্রি করা হচ্ছে। এ কারণে এই মুক্তিযোদ্ধা উপত্যকা এলাকা এখন পাথর কোয়ারির এলাকা হিসাবে পরিচিত হয়ে ওঠেছে। গত মঙ্গলবার ঐ এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে একজন গ্রেপ্তার এবং ১৫ হাজার ফুট পাথর জব্দ করা হয়। এর পরদিন থেকে আরও বেপরোয়া হয়ে নামে পাথর খেকোরা। স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রভাবশালীদের বেশিরভাগেই এই ব্যবসার নেপথ্যে থাকায় এই নিয়ে বাঁশতলা এলকায় প্রকাশ্যে কেউ কথা বলেন না।
স্থানীয় একজন স্কুল শিক্ষক বললেন,‘পাথর জব্দ করলে লাভ আরও বেশি। যাদের পাথর জব্দ করা হয়, তারাই এই পাথর নিলামে কিনে নেয়। নিলামের এই পাথর গাড়িতে করে নেবার আগে দিনে রাতে কয়েক’শ শ্রমিক লাগিয়ে নিলামের পাথরের কয়েকগুণ পাথর ওখান থেকে ওঠিয়ে নেয় পাথর খেকোরা।’
স্থানীয়ভাবে এই ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ রয়েছেন ১৫-১৬ জন। এদের মধ্যে প্রভাবশালীরা হলেন সাবেক ইউপি সদস্য হাছিব উদ্দিন, খুরশেদ আলম, মানিক মাষ্টার, আব্দুল আহাদ, মজিদ মিয়া, ফজলু মিয়া প্রমুখ। এরা স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতা। দোয়ারাবাজার উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জসিম আহমেদ চৌধুরী রানার বিরুদ্ধেও পাথর খেকোদের সহযোগিতা দেবার অভিযোগ রয়েছে।
সাবেক ইউপি সদস্য হাছিব উদ্দিন এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন,‘আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়। আমরা জব্দ করা পাথর নিলাম হলে নিলামে অংশ নেই। নিলামকৃত পাথর তুলে নেবার সময় শ্রমিকদের কাজে লাগালে অনেকে মনে করে আমরা পাথর উত্তোলন করছি। আসলে তা সত্য নয়।’
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন চৌধুরী রানা অবশ্য বলেছেন,‘মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত এই এলাকার সৌন্দর্য নষ্ট হোক এটা আমরা চাই না। এখানকার মানুষরা না খেয়ে থাকুক সেটাও চাই না। সীমান্তের যে অংশ থেকে মানুষ পাথর উত্তোলন করে সেখানে কিছু বালু-পাথর রয়েছে। মানুষের নিজস্ব বাড়ি জমিতেও পাথর আছে। গত মঙ্গলবার ভ্রাম্যমাণ আদালত যাকে ১ মাসের দ- দিয়েছেন, শুকুর আলী নামের সেই ব্যক্তি তার নিজের বাড়ি থেকেই পাথর উত্তোলন করেছিল। অথচ. তাকে এক মাসের কারাদ- দেওয়া হয়েছে। আমি মনে করি ঐ এলাকা খাস খালেকশনে বা ইজারায় আওতায় এনে পাথর উত্তোলন করে মানুষের জীবিকা নির্বাহের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। তাতে সরকারও রাজস্ব পাবে, জীবিকার জন্য শ্রমিকদের ঝুঁকি নিয়ে সীমান্তের ওপারে ভারতে যেতে হবে না।’
দোয়ারাবাজার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস বলেন,‘বাঁশতলা এলাকায় অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন বন্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। উত্তোলন বন্ধ না হলে বার বারই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।’