‘মেয়েডারে রাখতে পারলাম না’

স্ত্রী, পুত্র ও কন্যা শোকে কাতার আব্দুল ওয়াহাবের আহাজারি

স্টাফ রিপোর্টার
‘‘টাকা দিয়ে কী হবে, আমারতো সবই গেছে, মেয়েটা গলায় ধরে কেঁদে কেঁদে বলছিল- ‘আব্বাগো আমারে ছাইড়ো না’, আমিতো মেয়েডারে রাখতে পারলাম না।’’
কলমাকান্দার রাজনগর গ্রামের পাশে ট্রলারডুবির ঘটনার পর বিকালে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ ও নেত্রকোণার জেলা প্রশসক কাজী মো. আব্দুর রহমান যখন সরকারের পক্ষে সহায়তা তুলে দিচ্ছিলেন দিনমজুর আব্দুল ওহাব তখন আহাজারি করে মর্মস্পর্শি এই কথাগুলো বলছিলেন। তার কান্নায় ওই সময় অনেকের চোখের কোনেই পানি জমেছিল। আব্দুল ওহাব আহাজারি করে বলেন, ‘ট্রলারটা যখন ডুইবা যায়- লুৎফার ( স্ত্রী লুৎফুনন্নাহার) কোলে চিৎকার দিয়ে ওঠে আমার পুত রফিক, হের পরে আর এরা দুইজনের কিতা অইছে কইতে পারি না, মেয়েডা (৭ বছরের মনিরা আক্তার) তখন আমার গলায় জড়াইয়া ধইরা কয় আব্বাগো আমারে ছাইড়ো না, কোন সময় মেয়েডারে ছাইরা দিছি আমি নিজেও কইতে পারি না, আমি আর টেকা দিয়া কিতা করতাম, আমি আর বাইচ্চাই কেনে থাকতাম।’
স্থানীয় মধ্যনগর ইউপি চেয়ারম্যান প্রবীর বিজয় তালুকদার জানালেন, ট্রলার ডুবির পর ঘটনাস্থলে যাবার পর থেকে আব্দুল আহাদ আহাজারি করে যখন মেয়েটির কথা বলছিল, ধৈর্য্য ধরতে পারছিলাম না, বিকাল পর্যন্ত সে একই কথা বলে আহাজারি করেতে থাকে।
তিনি জানান, ট্রলারডুবিতে আব্দুল ওহাবের স্ত্রী লুৎফুনন্নাহার (২৬), শিশু পুত্র রফিকুল হাসান (৩)’এর মৃত্যু ঘটেছে। তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আব্দুল ওহাবের অপর সন্তান মনিরা আক্তার এখনো নিখোঁজ রয়েছে।
ইউপি চেয়ারম্যান প্রবীর বিজয় তালুকদার জানান, আব্দুল ওয়াহাব স্ত্রীকে ডাক্তার দেখানোর জন্য নেত্রকোণা যাচ্ছিলেন। পথে বারহাট্টার বাউসি গ্রামে তার স্ত্রী’র বোনের কাছে দুই সন্তানকে রেখে স্বামী-স্ত্রী নেত্রকোণা যাবার কথা ছিল।