মৌসুম শুরু না হতেই পানি ঢুকছে হাওরে

                                      হয়নি বাঁধ নির্মাণ               হুমকির মুখে সমসার
                                                                                   হাওরের ধান
গোলাম সরোয়ার লিটন ও এম এ রাজ্জাক, তাহিরপুর
তাহিরপুর উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের সমসার হাওরের বৈঠাখালি বাঁধে পানি উন্নয়ন বোর্ড কোন প্রকল্প গ্রহণ করেনি। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরাও বাঁধ নির্মাণে কোন উদ্যোগ নেননি। তাই বৃহস্পতিবারের বৃষ্টি ও শুক্রবার পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলে নদীর পানি বেড়ে ভাঙ্গা বৈঠাখালি বাঁধ দিয়ে পানি ঢুকতে শুরু করেছে এই হাওরে। তবে হাওরপাড়ের কৃষকরা নিজ উদ্যোগে বেড়ি বাঁধটি অস্থায়ীভাবে নির্মাণ করে হাওরে পানি প্রবেশ সাময়িকভাবে আটকে দিয়েছেন। তবে আরো বৃষ্টি হলে বা নদীর পানি বাড়লে কৃষকদের দেওয়া এই অস্থায়ী বাঁধ ভেঙ্গে তলিয়ে যাবে সমসার হাওরটি। এ কারণে দুশ্চিন্তায় আছেন সমসার হাওরপাড়ের কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জানান, এক ফসলী সমসার হাওরটিতে এ বছর ১৩ শ’ একর বোরো ধানের চাষ হয়েছে।
স্থানীয় উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য হাসান মিয়া জানান, হাওরে পানি ঢুকছে এ খবর পেয়ে হাওরপাড়ের কৃষকরা বাঁধটি রক্ষায় ভোর থেকে কাজ শুরু করেন। তিনি ও আরেক ইউপি সদস্য সুধাংশু দাশ ১৬ হাজার টাকার বাঁশ কিনে নৌকা করে বাঁধে নিয়ে আসেন। কৃষকরা বাঁশ আর মাটি ফেলে বাঁধটি অস্থায়ীভাবে রক্ষা করেছে। তিনি জানান, বাঁধটি গুরুত্বপূর্ণ তবে এটি রক্ষায় কোন ধরনের কাজ হয়নি। এখন ইউনিয়ন পরিষদ ও কয়লা আমদানীকারক সমিতির অর্থে কাজ হবে। এই মুহূর্তে বৃষ্টি হলে বা নদীর পানি বাড়লে বাঁধ ভেঙ্গে তলিযে যাবে হাওরটি।
হাওরপাড়ের কৃষক তোতা মিয়া বলেন, এ হাওরেই আমার জমি। এ জমি থেকে উৎপন্ন ধান দিয়েই আমার পরিবারের সারা বছরের খাবার ও অন্যান্য খরচ জোগাড় হয়। এখন যদি হাওর ডুবে যায় সারা বছর না খেয়ে থাকতে হবে পরিবারসহ।
হাওরপাড়ের কৃষাণী রহিম খাতুন বলেন, বছরের ছয়মাস আমাদের এলাকা পানিতে ডুবে থাকে। একফসলী এ ধানের খড় থেকেই গরুর সারা বছরের খাবার হয়। হাওর ডুবলে আমাদের সঙ্গে উপোস থাকবে গরুও।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারী প্রকৌশলী শাহ আলম বলেন, এ বাঁধটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাভুক্ত নয়।
আমরা হাওরবাসী সংগঠনের প্রধান সমন্বয়কারী রুহুল আমিন বলেন, দায়িত্বশীলদের গাফিলতি আর লুটপাট চিন্তার কারণে প্রতি বছরই কোন না কোন হাওর ডুবে। আর সারা বছর বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন একফসলী বোরো ধান হারিয়ে আহাজারি করে কৃষক। আমরা চাই ইউনিয়ন পরিষদ এই বাঁধটি রক্ষায় সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করুক। প্রয়োজনে কৃষকরা অর্থ সহায়তা দিতেও প্রস্তুত রয়েছে।
স্থানীয় উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান খসরুল আলম বলেন, অর্থ বরাদ্দ না থাকায় বাঁধটি নির্মাণের উদ্যোগ নিতে পারেনি ইউনিয়ন পরিষদ। তবে এখন আমরা বাঁধটি নির্মাণে কাজ শুরু করেছি।
জেলা পরিষদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি আবুল হোসেন খান বলেন, প্রতিবছর বাঁধটি নির্মাণে ইউনিয়ন পরিষদ ও কয়লা আমদানীকারক সমিতি উদ্যোগ গ্রহণ করে। এ বছর দেরী করায় সমস্যা হয়েছে। তবে এখন বাঁধটি রক্ষায় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তাহিরপুরে নতুন যোগদানকৃত ইউএনও সাইফুল ইসলাম বলেন, বাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশের কথা শুনে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান কে বলা হয়েছে এটি রক্ষায় সবধরনের উদ্যোগ নিতে। উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে এ বাঁধে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।