যথা সময়ে শুরু করা নিয়ে সংশয়

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জে হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ যথা সময়ে শুরু হওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে। হাওরাঞ্চলের বেশিরভাগ উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট অনেকেই নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। এ কারণে বাঁধের কাজ ১৫ ডিসেম্বর শুরু হওয়া নিয়ে শঙ্কা আছে।
জেলার ছোট-বড় ৫২ টি হাওরের ২ লাখ ২২ হাজার ৬৯৫ হেক্টর জমির বোরো ফসল রক্ষায় বাঁধ নির্মাণের কাজ ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে শুরু হবার কথা। এর আগে এবার জেলার ১১ উপজেলায় প্রায় ৭০০ টি হাওররক্ষা বাঁধের জন্য ৭০০ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি করতে হবে। কিন্তু বুধবার পর্যন্ত একটি প্রকল্প কমিটি গঠনের খবরও পাওয়া যায় নি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, হাওররক্ষা বাঁধের জন্য এবার প্রাথমিক বরাদ্দ হয়েছে ৬৬ কোটি ৬৩ লাখ ৬৭ হাজার টাকা। ২৪৭ টি প্রকল্প প্রাথমিকভাবে জেলা কমিটির সভায় অনুমোদন হয়েছে। এই প্রকল্পগুলোর ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৯ কোটি ২৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এবার জেলায় প্রায় ৭০০ টি হওররক্ষা বাঁধের কাজ হবে বলে জানান ওই কর্মকর্তারা।
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ২৫ নভেম্বরের মধ্যে জরিপ কাজ এবং ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে পিআইসি গঠন করে বাঁধের কাজ শুরু করতে হবে। ২৮ ফেব্রুয়ারি’র মধ্যে বাঁধের কাজ শেষ করার নির্দেশনা রয়েছে।
জেলার শাল্লা উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুস সাত্তার বললেন, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়েছে। সকলেই নির্বাচনী প্রচারণায় যুক্ত হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস থেকে গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে পিআইসিতে যুক্ত হতে আগ্রহীদের আবেদন করতে বলা হয়েছে। আজ থেকে অনেকেই আবেদন করছে। তিনি জানান, পিআইসিতে বাঁধের পাশের জমির মালিক কৃষকদের যুক্ত করার কথা থাকলেও জমি নাই, খাজনা দেয় না, এমন কৃষককেই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যুক্ত করা হয়।
শাল্লা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অবনী মোহন দাস বললেন, পিআইসি গঠন ও প্রকল্প নির্ধারণে অনিয়ম হয়েছে গেল বছরও, এবার এমনই হয়তো হবে, লুকোচুরি আছে সবকিছুতেই। গেল বছর জেলা প্রশাসককে এসব বিষয় জানিয়েছি আমি। যেখানে সাত লাখ টাকায় বাঁধের কাজ করা যায়, সেখানে ৬০ লাখ টাকা গেল বছর বরাদ্দ হয়েছে এমন উদাহরণও আছে। তিনি সময়মত বাঁধের কাজ শুরু হওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন।
শাল্লা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলামিন চৌধুরী জানালেন, বাঁধের কাজ পেছানোর কোন সুযোগ নেই, ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যেই পিআইসি গঠন করতে হবে, বাঁধের কাজ করার অভিজ্ঞতা যাদের আছে, তাদেরকেই পিআইসিতে যুক্ত করলে ভালো হয়, পিআইসি গঠনের জন্য গণবিজ্ঞপ্তি আহ্বান করা হয়েছে, আগ্রহীরা আবেদন করলে তাদের মধ্য থেকে বাছাই করে পিআইসিতে যুক্ত করা হয়ে থাকে।
জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ^জিৎ দেব বললেন, বাঁধের কাজের জরিপ শেষ হয়েছে। ২০ টি প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। আরও ১০-১২ টি প্রকল্প হবে। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি এখনো হয় নি। সপ্তাহ খানেকের মধ্যে প্রকল্প নির্ধারণ এবং পিআইসি গঠনের কাজ শেষ হবে। ১৫ ডিসেম্বর থেকেই বাঁধের কাজ শুরু এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যে শেষ হবে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম বললেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠনের কাজ করেন। এখনো কোন প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির তালিকা পাই নি। কোন কোন উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন থাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের ব্যস্ততা রয়েছে। তবে ১৫ তারিখের আগেই প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির তালিকা পাওয়া যাবে আশা করছি।