যাদুকাঁটা ও মাহারাম নদীতে অবৈধভাবে বালি-পাথর উত্তোলন বন্ধে গণসমাবেশ

স্টাফ রিপোর্টার
তাহিরপুরের সীমান্তনদী জাদুকাঁটা ও মাহারাম নদীর তীর কেটে এবং নদী দু’টিতে অবৈধ ভাবে ড্রেজার, সেইভ বোমা মেশিন দিয়ে বালি-পাথর উক্তোলন বন্ধে উপজেলা প্রশাসনের আহবানে গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে মঙ্গলবার বিকেল মাহারাম ও জাদুকাঁটা নদীর তীরে উপজেলা প্রশাসন, থানা পুলিশ, জনপ্রতিনিধি, শ্রমিক ও উপজেলা আ.লীগ ও বিএনপির নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান, থানার ওসি মো: শহীদুল্লাহ, উপজেলা আ.লীগের সভাপতি আবুল হোসেন    
 খাঁ, বড়দল উত্তর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাসেম, বড়দল দক্ষিণ ইউপি চেয়ারম্যান আজাহার আলী, শ্রীপুর উত্তর ইউপি চেয়ারম্যান খসরুল আলম, বাদাঘাট ইউপি চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন, উপজেলা আ. লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক মোশারফ হোসেন, পরিবেশ ও মানবাধিকার উন্নয়ন সোসাইটির উপ-পরিচালক হাবিব সরোয়ার আজাদ,আ. লীগ নেতা সুজাত মিয়া, মজিবুর রহমান, দুলাল মিয়া প্রমুখ।
গণসমাবেশ বক্তারা অভিযোগ করেন, বিগত এক যুগেরও বেশী সময় ধরে বালি পাথর খেকো একাধিক চক্র সিন্ডিকেট তৈরী করে যাদুকাটা নদী, বড়টেক এলাকা, মাহারাম নদীতে নিজেদের মালিকানা দাবি করে অবৈধ ড্রেজার, সেইভ ও বোমা মেশিন দ্বারা প্রতিদিন কোটি টাকার বালি পাথর লুট ও চাঁদাবাজি করছে। ঐ চক্রটির কারণে নদীতে প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক হাতের দ্বারা বালি পাথর উক্তোলন করতে গিয়ে অসংখ্য বার হামলার শিকার হয়েছেন। বক্তারা আরো বলেন, অপরিকল্পিতভাবে কিছু সংখ্যক চাঁদাবাজের কারণে উভয় নদীর আকার বড় হয়ে গেছে, নদীর তীরবর্তী কয়েকটি গ্রাম , রাস্তাঘাট, স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ছোট হয়ে গেছে এলাকার আবাদী জমি, আদর্শগ্রাম ও বড়টেক এলাকা। এসব কারণে পাহাড়ি ঢল ও আগাম বন্যায় উপজেলার ২৩টি বোরো ফসলী হাওরের ধান বিগত দিনে তলিয়ে গিয়ে প্রায় কোটি কোটি টাকার ফসলহানি হয়েছে। নি:স্ব হয়েছে উপজেলার ছোট বড় অনেক কৃষক পরিবার। বক্তারা নদীর সীমানা চিহ্নিতকরণ, নদীতে অবৈধ সেইভ ড্রেজার , বোমা মেশিন সহ সব ধরনের যন্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে বালিপাথর উক্তোলন বন্ধে ও চাঁদাবাজ চক্রের  সদস্যদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের প্রতি দাবি জানান।   
সমাবেশে উপজেলা প্রশাসন, থানা পুলিশ ও জনপ্রতিনিধিরা আশ্বস্থ করেছেন আজ বুধবার থেকে দুই নদীতে কোন প্রকার তীর কাটা, বোমা, সেইভ, ও ড্রেজার মেশিন দ্বারা বালি পাথর উত্তোলন ও জমির মালিকানা দাবি করে চাঁদাবাজি করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এমনকি সাধারণ শ্রমিকরা নদীর তীর না কেটে সীমানা চিহ্নিত করে দেয়ার পর বেলচা ও বালতি দ্বারা পুর্বের ন্যায় হাতে বালি-পাথর উক্তোলন করতে পারবেন।