যাদুকাটা ও ধোপাজান নদীতে বোমা-ড্রেজার বন্ধের দাবি

জেলা বারকি শ্রমিক সংঘের সভায় যাদুকাটা ও ধোপাজান চলতি নদী থেকে অবৈধ সিন্ডিকেট ও বোমা-ড্রেজার-শ্যালো মেশিন বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মিয়ারচর গ্রামে বারকি শ্রমিক সংঘের সহ-সভাপতি মো. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক রজত বিশ্বাস এবং সুনামগঞ্জ জেলা সভাপতি বাদল সরকার ও সুনামগঞ্জ জেলা বারকি শ্রমিক সংঘের সভাপতি মো. নাছির মিয়া।
সভায় বক্তব্য রাখেন, সুনামগঞ্জ জেলা বারকি শ্রমিক সংঘের নেতা মো. ফরিদ মিয়া, আজমত উল্লাহ, উমর আলী, মধু মিয়া প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, যাদুকাটা নদীর বারকি শ্রমিকরা অবৈধ সিন্ডিকেটের নিকট জিম্মি হয়ে আছেন। সিন্ডিকেটের কারণে বারকি শ্রমিকরা তাদের কষ্ঠার্জিত বালি-পাথর অর্ধেক মূল্যে সিন্ডিকেটের নিকট বিক্রি করতে বাধ্য হন। এর প্রতিবাদ করতে গেলেই স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের মদদে পুলিশ প্রশাসন বারকি শ্রমিকদের নানাভাবে নাজেহাল করেন। বাধ্য হয়ে বারকি শ্রমিকরা মাস      
 দুয়েক পূর্বে যাদুকাটা নদী থেকে বালূ-পাথর উত্তোলন বন্ধ করে দিয়েছিলেন। ২২ দিন নদী থেকে বালি-পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকার পর স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন যাদুকাটা নদীতে বালি-পাথর উত্তোলনের সীমানা নির্ধারণ করে অবৈধ সিন্ডিকেট উচ্ছেদ করা হবে উল্লেখ করে শ্রমিকদের কাজে যোগদানের আহ্বান জানালে শ্রমিকরা কাজ শুরু করেন। কিন্তু বারকি শ্রমিকরা কাজ শুরু করার পর থেকেই আবারও নানাভাবে নাজেহাল করা হয়। শ্রমিকরা বাধ্য হয়ে অবৈধ সিন্ডিকেটের নিকট অর্ধেকমূল্যে বালি-পাথর বিক্রি করতে হয়। অন্য দিকে ধোপাজানের বারকি শ্রমিকরা বারবার জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বিজিবি অধিনায়কসহ সরকারের সংশ্লিষ্ঠ দপ্তরে লিখিতভাবে আবেদন করে পরিবেশবান্ধব উপায়ে হাতের সাহায্যে নদী থেকে বালু পাথর উত্তোলনের সুযোগ প্রদানের দাবি জানিয়েও কোন প্রতিকার পাননি। উপরন্তু নদীতে অবাধে পরিবেশ বিধ্বংসী বোমা-ড্রেজার চলছে।
গত ১৭ জুন জেলা প্রসাশকসহ প্রশাসনের ঊর্দ্বতন কর্মকর্তাগণ ডলুরা সীমান্তে জিরো পয়েন্ট থেকে ৩০০ গজ ভিতরে বালু পাথর উত্তোলনের জন্য বারকি শ্রমিকদের সীমানা নির্ধারণ করে দেন। কিন্তু দুই দিন নির্ধারিত সীমানায় কাজ করার পরে নানা রকম ছলছাতুরির আশ্রয় নিয়ে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আবার বারকি শ্রমিকদের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেই সময় প্রশাসনের সাথে অবৈধ যোগসাজসে বোমা-ড্রেজারের বিকল্প হিসেবে নৌকায় শ্যালো মেশিন বসিয়ে নদী থেকে অবাধে বালু-পাথর উত্তোলন শুরু হয়। প্রশাসনের নির্বাকার ভূমিকায় বারকি শ্রমিকরা অসহায় হয়ে পড়েন।  
সর্বশেষ গত ১৮ জুলাই জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে ধোপাজান চলতি নদীতে অভিযান চালিয়ে ১০ টি নৌকা জব্দ করা হয়। কিন্তু ভুক্তভোগী শ্রমিকরা মনে করছেন এসব অভিযান আসলে লোক দেখানো, তাতে কাজের কাজ কিছুই হবে না। কারণ অতীতেও এধরনের অভিযানে কোন কাজ হয়নি। তাই শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে তুলে সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে অগ্রসর হতে হবে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি