সোহানুর রহমান সোহান
পৌর শহরের সর্বাধিক জনগুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক পয়েন্ট, কালীবাড়ি পয়েন্ট, পুরাতন বাস-স্টেশন, উকিলপাড়া ও ষোলঘর পয়েন্ট। এই পয়েন্টগুলোকে শহরের প্রাণ বলা চলে। শহরের মানুষ ঘর থেকে বের হলে এগুলোর যে কোনো একটি পয়েন্ট পার হতে হয়। এই পয়েন্ট ও সড়কগুলোর ব্যস্ততার শেষ নেই। ইদানীং এসব স্পটে দিন দিন বেড়েই চলছে যানজট। শহরের প্রবেশ এবং বের হওয়া একমুখী হওয়ায় সড়কে ট্রাফিক জ্যামে পড়ে নাকাল হয়ে পড়েন শহরবাসী। কোনো বিশেষ দিন ছাড়া সাধারণ দিনে এমন জ্যাম থাকতে এর আগে কেউ দেখেন নি। শহরবাসী বলছেন, যত দিন যাচ্ছে পরিবহন বাড়ছে, কিন্তু সড়ক সেই একই জায়গায় আছে। সড়ক প্রশস্ত হওয়ার পরিবর্তে অবৈধ পার্কিং এবং ফুটপাত দখলের কারণে আরও ছোট হচ্ছে। আছে ট্রাফিক ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ার অভিযোগও।
সরেজমিনে গত কয়েকদিন শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, ইজিবাইক আর সিএনজি অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল যানজটের মূল কারণ। অবৈধ পার্কিং আর যত্রতত্র ব্রেক ভোগান্তি বাড়াচ্ছে অন্যান্য চলাচলকারিদের। শহরের প্রাণকেন্দ্র আলফাত উদ্দিন স্কয়ারের (ট্রাফিক পয়েন্ট) ত্রিমুখী সড়কের তিন দিকেই আছে ইজিবাইক ও সিএনজির অবৈধ পার্কিং। যেখান থেকে যাত্রী তোলা ও নামানো হয়। অন্যদিকে একই ভাবে দখলে আছে থানা ও স্টেডিয়ামের সামনের সড়ক। স্টেডিয়ামের সামনের সড়কের উপর রীতিমতো গড়ে তোলা হয়েছে সিএনজি স্ট্যান্ড। স্কুল সময়ে শিক্ষার্থীদের চাপে প্রতিনিয়ত যানজট হচ্ছে উকিলপাড়া ও ষোলঘর পয়েন্টে। কালীবাড়ি পয়েন্ট থেকে হাসপাতালে রোডে চলাচলরত ইজিবাইকগুলো দখল করে রাখে পিউরিয়ার দক্ষিণ পাশের সড়ক। কালীবাড়ি সড়ক মোড়ে করা হয় মটরসাইকেল, ইজি বাইক, সিএনজির অবৈধ পার্কিং। অপরদিকে পুরাতন বাস-স্টেশন থেকে ট্রাফিক পয়েন্ট হয়ে উকিলপাড়া পর্যন্ত সড়কের দুইপাশের ফুটপাত দখল করে বসছে দোকানপাঠ। যার কারণে সড়কে চলাচলরত যানবাহন পার্কিং এর জায়গা না পেয়ে বাধ্য হয়ে সড়কের পাশে পার্ক করতে হয়। এতে সরু হয়ে যায় দুইপাশের সড়ক। বিঘিœত হয় যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচল।
শুধু ফুটপাত দখল আর পার্কিং নয়, যানজট সৃষ্টির অন্যতম প্রধান কারণ ইজিবাইক, অটোরিকশা, সিএনজি চালকদের যত্রতত্র করা ব্রেক। ট্রাফিক আইন কানুন সম্পর্কে অসচেতন চালকরা ইচ্ছে মতো যেখানে খুশি সেখানে যাত্রীদের নামিয়ে দিচ্ছেন, আবার যাত্রী তুলছেন। অর্থাৎ হাত তুললেই থামছে, নামতে চাইলেই নামাচ্ছে। কোনো কোনো পরিবহন সড়কের মাঝখানে ব্রেক কষেই যাত্রী তুলেন। এসব বিড়ম্বনার মধ্যে নতুন করে যোগ হয়েছে শহড়জুড়ে বিটিএসএলের খোঁড়াখুঁড়ি। পয়েন্টে পয়েন্টে বড় করে গর্ত খোঁড়া হচ্ছে। এতে যেমন যানজট সৃষ্টি হচ্ছে, তেমনি ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা, বাড়ছে ভোগান্তি।
সিএনজি চালক বাহারুল বললেন, শহরে রেজিষ্ট্রেশন বিহীন অনটেস্ট ইজিবাইক, সিএনজি গাড়ি বেশি হয়ে গেছে। পাশাপাশি বাইর থেকেও শহরে অনেক গাড়ি ঢুকে। যার জন্য ইদানিং ট্রাফিক জ্যাম হচ্ছে।
পথচারী আদনান হোসেন বললেন, রাস্তার দুই পাশের সড়ক দখল করে সড়কের প্রশস্ততা কমানো হচ্ছে। দিন দিন যানবাহন বেড়েই চলছে। যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে পারলে ট্রাফিক জ্যাম কমে আসবে।
ষোলঘরের বাসিন্দা বিন্দু তালুকদার বললেন, শহড়জুড়ে বিটিএসএলের লাইনের খোঁড়াখুঁড়ির কারণে যানজট তীব্র আকার ধারণ করছে। ষোলঘরে ঘন্টায় ঘন্টায় জ্যাম লাগে। এলাকার মানুষ ও ব্যবসায়ীরা জ্যামের কারণে অতিষ্ঠ।
নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের সভাপতি মহিম তালুকদার বললেন, প্রতিনিয়ত সুনামগঞ্জ শহরে যানবাহনের সংখ্যা বেড়েই চলছে। বিশেষ করে ইজিবাইক ও অটোরিকশা। এছাড়া কোর্ট পয়েন্ট থেকে আলফাত উদ্দিন স্কয়ার পর্যন্ত যত সামনে এগোবেন দেখবেন ফুটপাত দখল করে দোকান বসে আছে। এতে যারা প্রাইভেট গাড়ি কিংবা মোটরসাইকেল নিয়ে বের হয় তারা গাড়ি পার্ক করার জায়গা না পেয়ে সড়কের পাশেই পার্ক করতে হয়। যার কারণে সড়ক আরও ছোট হয়ে আসে। পাশাপাশি শহরের যে মূল পয়েন্ট আলফাত উদ্দিন স্কয়ার, এ চত্বরটি এতো ছোট যে মাইক্রোবাস, ট্রাক, কার কিংবা অন্য গাড়ি চাইলেও রাইট ওয়েতে মোড় নিতে পারবেনা। তাকে বাধ্য হয়েই রঙ ওয়েতে মোড় নিতে হয়। এসব বিষয়গুলোই ট্রাফিক জ্যামের মূল কারণ।
ট্রাফিক পরিদর্শক হানিফ মিয়া বলেন, অতিরিক্ত পরিবহন, ফুটপাত দখল এসবই আসলে যানজটের প্রধান কারণ। আমরা প্রতিনিয়ত অভিযান চালাই, মালামাল, গাড়ি আটক করে থানায় নিয়ে আসি। তখন এদের পরিবার অনাহারে দিন কাটায়। এছাড়াও যখন অভিযান পরিচালনা করি উপর মহল থেকে মানবিক দিক বিবেচনা করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়।
সুনামগঞ্জ ছোট্ট একটি শহর উল্লেখ করে তিনি বলেন, শহরে মেয়র মহোদয় সাড়ে ৭শ’ ইজিবাইক চলার অনুমোদন দিয়েছেন। অনুমোদন ছাড়াও বেআইনি ভাবে চলছে ইজিবাইক। তিনি বলেন, আগে হকারদের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা করে দিতে হবে এবং মেয়র মহোদয়ের প্রতি অনুরোধ থাকবে আর যেন কোনো ইজিবাইক, অটোরিকশা চলাচলের অনুমতি না দেন। তাহলেই সুনামগঞ্জ যানজট মুক্ত থাকবে।
ট্রাফিক পরিদর্শক হানিফ মিয়া বলেন, অতিরিক্ত পরিবহন, ফুটপাত দখল এসবই আসলে যানজটের প্রধান কারণ। আমরা প্রতিনিয়ত অভিযান চালাই, মালামাল, গাড়ি আটক করে থানায় নিয়ে আসি। তখন এদের পরিবার অনাহারে দিন কাটায়। এছাড়াও যখন অভিযান পরিচালনা করি উপর মহল থেকে মানবিক দিক বিবেচনা করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়।
সুনামগঞ্জ ছোট্ট একটি শহর উল্লেখ করে তিনি বলেন, শহরে মেয়র মহোদয় সাড়ে ৭শ’ ইজিবাইক চলার অনুমোদন দিয়েছেন। অনুমোদন ছাড়াও বেআইনি ভাবে চলছে ইজিবাইক। তিনি বলেন, আগে হকারদের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা করে দিতে হবে এবং মেয়র মহোদয়ের প্রতি অনুরোধ থাকবে আর যেন কোনো ইজিবাইক, অটোরিকশা চলাচলের অনুমতি না দেন। তাহলেই সুনামগঞ্জ যানজট মুক্ত থাকবে।


