সু.খবর ডেস্ক
মাঠে ছিলেন, এমন কেউই যেন সুস্থভাবে নাশতার টেবিলে বসতে পারছেন না। গোলরক্ষক মাহফুজ হাসানের এক হাতে চামচ, আর অন্য হাত ধরে আছে হাফপ্যান্টের কোনা। না হলে বাঁ পায়ের পেশির বড় ক্ষতে লাগানো মলম মুছে যাচ্ছে। পাশের টেবিলেই সুফিলের অ্যাঙ্কেলে বরফের প্যাক বাঁধা। একবার খাবার মুখে দিচ্ছে, আবার বরফের প্যাকটা জায়গামতো ঠিক করে নিচ্ছে। তাজিকিস্তানের বিপক্ষে কী পরীক্ষা দিতে হয়েছে তাদের, সকালের নাশতার টেবিলেই ফুটে উঠছিল সেটা। তবু মুখগুলো স্বস্তির ছায়া, স্বাগতিকদের কাছ থেকে পয়েন্ট বের করে নিয়ে আসার আনন্দ।
গতকাল এএফসি অনূর্ধ্ব-১৯ বাছাইপর্বে কনকনে ঠান্ডার মধ্যে স্বাগতিক তাজিকিস্তানের বিপক্ষে যেভাবে শেষ পর্যন্ত লড়াই করে গোলশূন্য ড্র করল বাংলাদেশ, তা দেখে যেকোনো সমর্থকই গর্ব করতে পারে। হাল না ছেড়ে হাসিমুখেও যে দাঁতে দাঁত চেপে রক্ষণ সামলানো যায়, তা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এক হয়ে দেখিয়েছে পুরো বাংলাদেশ। আক্রমণভাগের তিন ফরোয়ার্ড জাফর ইকবাল, মাহবুবুর সুফিল ও রহিমউদ্দিন নিচে নেমে রক্ষণভাগকে যেমন সহায়তা করেছে, ঠিক তেমনই দুই ফুলব্যাক বিশ্বনাথ-রহমতও অ্যাটাকিং থার্ডে গিয়ে প্রেসিং করেছে। পুরো ম্যাচের সারাংশ, ‘দশে মিলে করি কাজ, হারি জিতি নাহি লাজ।’
সবচেয়ে বেশি পরীক্ষা দিতে হয়েছে গোলরক্ষক মাহফুজকে। তাঁর মুখ থেকেই শুনুন ম্যাচের গল্প, ‘আমাদের লক্ষ্য ছিল জয়। কিন্তু যখন দেখলাম ওদের বোঝাপড়া অনেক ভালো, সঙ্গে প্রচুর ঠান্ডা পড়ছে, তখন আমরা নিজেরাই বলি, না জিতলেও পয়েন্ট ছাড়া মাঠ ছাড়ব না।’
ঘরের মাঠে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৯ বাছাইপর্বে ভালো ফলাফলের আশায় তাজিকিস্তানের যুব দলটি প্রিমিয়ার লিগের বারকি তাজিক দুশানবের হয়ে খেলছে চলতি মৌসুমে। বাংলাদেশের ওপরে যেভাবে ‘গেগেং প্রেসিং’ করেছে, তাতেই বোঝা গিয়েছে দুর্দান্ত বোঝাপড়ার এক দল। তাদের সঙ্গে কোনো প্রস্তুতি ম্যাচ ছাড়াই স্বল্প প্রস্তুতির পুঁজি নিয়ে লড়াই করে ড্র করাটা বাংলাদেশের জন্য জয়ের মতোই প্রাপ্তি। যেখানে শেষ দুবার তাজিকিস্তান থেকে ৫-০ গোলের হারের লজ্জা নিয়ে ফিরেছিল জাতীয় দল। যুবারা পুরোপুরিই উল্টো। তারা তাজিকদের বুলেট-গতির শটের সামনে বুক চিতিয়ে এগিয়েছে। বারবার স্লাইডিং করেছে বিনা দ্বিধায়। দু-দুটি গোল লাইন সেভ তো তারই প্রমাণ।
তারা যে লড়াই করতে জানে, তা দেখানো শুরু করেছে ভুটানে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৮ সাফে। ভারতের বিপক্ষে প্রথমার্ধে তিন গোল হজম করে, দ্বিতীয়ার্ধে গুনে গুনে চার গোল দিয়ে জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছিল। এরপরে হারিয়েছিল মালদ্বীপ ও ভুটানকেও। আর নেপালের বিপক্ষে হেরে শিরোপা না পেলেও ১০ খেলোয়াড় নিয়ে যে লড়াইটা করেছিল যুবারা, তা চোখে লেগে থাকার মতো।
এএফসি অনূর্ধ্ব-১৯ বাছাইপর্বে জয় দিয়ে শুরু না করা গেলেও লড়াকু ড্রটাই জয়ের সমান। সবচেয়ে বড় কথা যে লড়াকু বাংলাদেশকে দেখা গিয়েছে, তা বাছাইপর্বের শেষ পর্যন্ত থাকলে চূড়ান্ত পর্বের আশা করা যেতেই পারে। যদিও সে পথ এখনো অনেক দূরে।


