যে স্বপ্ন দেখিনি

হিরন্ময় রায়
মুখ্য আধিকারিকের বারান্দায় যখন
একজন জনযোদ্ধা ধর্ণায় বসেন
সবুজ শ্যামলিমা বিবর্ণ হয়
বিবর্ণ হয়ে লাল সূর্য ফিকে হতে হতে
কালো মেঘে হারায়- হতমানে, অপমানে।
যে স্বপ্নে মায়ের আচঁল আর চেনা জনপদ ছেড়ে
দুই কিশোর পাড়ি দিলে মইলামের তরে।
ঘুম ভাঙ্গা বাস্তবতায় – এখন তা ধূসর মরীচিকা।
আঁতাতের যুগে- রক্তে বহন করা বেয়াড়াপনা
তোমাদের কেবলি ছিটকে ঠেলে দেয়
রাজপথ থেকে গলিতে,
তোমার ঘরখানি টালি খসে পরিণত হয় ঘুপসিতে।
খানেদের মিয়ারা আজ ন্যায়কর্তা-
বাহন, মহল আর হুরে আজ পূর্ণ তাঁরা।
জনকের প্রস্থানের পর হতে
কালের চাকা ঘুরে ভেসে যাই আমরা।
আফিমে বুঁদ রেখে ইতিহাস পাল্টে দিতে
চলে অনুভূতির সুড়সুড়ি।
খান পুঙ্গবের রমণলিপ্সায় যুবতী কাঁদে
কাঁদে শহীদের আত্মা, শহীদ জায়া ও জননী।
দ্বিতীয় সম্ভ্রমহানিতে স্বাধীন ভূমিতে
আছড়ে পরেন বীরঙ্গনারা।
আমাদের বীর্যবান যুবকেরা কি স্বমেহনে সুখ পায়
এতো কিছুর পরও শুকতারা দেখে হাল ধরে কেউ-
প্রতিবিপ্লবের ব্যারিকেড ভেঙ্গে
আগুনের মতো জ্বলে উঠে
ভোট, ভাত ও হারানো গণতন্ত্র ফিরাতে।
তারপর…. সুখস্বপ্নের সাথে
রাত্রির বাসর মিসকিনের তকমা ঝেড়ে
শরিক হই আলোর মিছিলে
সেই মিছিলে হাঁটছি সবাই-
ময়ুরপুচ্ছে ঢাকা কাক, পুরনো ঘাতক
আর মৌতাতে মগ্ন মধু মক্ষিকাদের দল।
খেই হারানো যোদ্ধাদের পা মিলানো হয় না
দিন শেষে আত্মজের হেরে যাওয়া চোখ
তাড়া করে ফিরে-
ন্যায়ের তরে মাধুকরি, চলে দ্বারে দ্বারে ধর্ণা।
নিজেদের সাজানো রাজদরবারে  
জনযোদ্ধারা বসেন হাটু গেঁড়ে।
আমরা নত হই, গৌরব হারানোর গ্লানিতে।
দু:স্বপ্নের শেষ হয় না,
সেই স্বপ্ন যে স্বপ্ন আমরা দেখিনি।