যে সড়ক ৩০ বছর ধরে অবহেলিত

আকরাম উদ্দিন
সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের হালুয়ারঘাট বাজার থেকে রহমতপুর হয়ে পাঁচকেয়ারী গ্রাম পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার মাটির সড়কে দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে কোনো উন্নয়ন কাজ হয়নি। এই কারণে বর্ষায় সড়ক ডুবে গেলে ৫ গ্রামের মানুষকে নৌকায় চলাচল করতে হয়। বছরের পর বছর এই সড়ক উন্নয়নের দাবি জানিয়ে আসলেও কোনো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি উদ্যোগ নেন নি।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, হালুয়ারঘাট বাজার থেকে শুরু হওয়া এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হালুয়ারগাঁও, রহমতপুর, পাঁচকেয়ারী, বিরামপুর, বালিকান্দি গ্রামের মানুষ চলাচল করে থাকেন। এ ছাড়া এই সড়ক বেলাবরহাটী হয়ে হালুয়ারঘাট বাজারে আসার সহজ মাধ্যম। ১৯৮৯ সালে সৈয়দপুর গ্রামের বাসিন্দা ইউপি চেয়ারম্যান মো. আব্দুছ সাত্তার এই সড়কে মাটি ভরাটের কাজ করেছিলেন। কিন্তু এর পর সড়কে কোনো মাটি ভরাটের কাজ হয়নি। ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভূক্ত এই সড়ক। এই ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য আবুল কালামও বালিকান্দি গ্রামের বাসিন্দা। এলাকার জনগণের দীর্ঘ প্রত্যাশিত এই সড়কের উন্নয়ন নিয়ে নির্বাচিত দুই প্রতিনিধির কোনো ভাবনা নেই বলে জানান অনেকে।
এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন একটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের, একটি বেসরকারী কিন্ডারগার্টেন স্কুলের এবং একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা আসা-যাওয়া করেন। এই সড়কে ৭টি মসজিদের মুসল্লিরা চলাচল করে থাকেন। এছাড়াও নানা শ্রেণী পেশার মানুষজন ও রোগীরা চলাচল করেন।
হালুয়ারগাঁও গ্রামের ব্যবসায়ী মুজিবুর রহমান, সাবাজুর রহমান, জহুর উদ্দিন, কাছম আলী, জহুর মিয়া সহ আরও অনেকে জানান, সৈয়দপুরের বাসিন্দা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুছ সাত্তার এই সড়কে মাটি ভরাটের কাজ করেছিলেন। এরপর থেকে কেউ উন্নয়ন কাজ করেননি। এই সড়কে বর্ষায় বুক পানি ও মাথা পানি থাকে। নৌকা দিয়ে ৫ গ্রামের মানুষ চলাচল করেন। একই গ্রামে রয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান ও ওয়ার্ড সদস্য। তারাও এই সড়ক দিয়ে শুকনায় মাঝে মধ্যে আসা-যাওয়া করেন। বালিকান্দি গ্রামের মানুষ বেলাবরহাটী হয়ে হালুয়ারঘাট বাজারে আসেন। যুগ যুগ ধরে ভোগান্তি শিকার হচ্ছেন ৪ গ্রামের মানুষ।
গ্রামের বাসিন্দা শাহ নুর বলেন, সড়ক উন্নয়নে জনপ্রতিনিধিদের আন্তরিকতা নেই। মানুষের ভোগান্তি নিরসন নিয়ে কেউ ভাবতে চাননি। ইউনিয়ন এলাকার উন্নয়ন হবে সকল স্থানে সঠিকভাবে। এটা আমাদের দাবি। কিন্তু আমাদের প্রতি অবহেলা করা হয়েছে।
ফারুক আহমদ বলেন, হালুয়ারঘাট বাজার থেকে বালিকান্দি পর্যন্ত এলাকার মানুষ চলাচলের অতি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। এই সড়কের কোনো উন্নয়ন নেই। বর্ষায় মানুষ চলাচলে ভোগান্তির শেষ নেই। কেউ এক মুঠো মাটি কোনো সময় ফেলতেও দেখা যায় নি।
সাবেক ইউপি সদস্য ফিরোজ মিয়া বলেন, আমি ইউপি সদস্য থাকাকালীন সময়ে সামান্য কাজ করেছিলাম সড়কে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এই সড়কের উন্নয়ন কাজ হয়নি। মানুষের ভোগান্তি এখন চরমে। এই সড়ক উন্নয়নে কোনো জনপ্রতিনিধির উদ্যোগ নেই।
৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবুল কালাম বলেন, এই সড়কের বিষয়ে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুছ সাত্তারের সাথে কথা বলুন।