আসাদ মনি
করোনার সংক্রামণ রোধে পথচারীদের হাত ধোয়ার জন্য পৌর শহর সহ ১১টি উপজেলা সদরে হাত ধোয়ার জন্য বেসিন স্থাপন করা হয়েছে। জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের অর্থায়নে এই বেসিনগুলো স্থাপন করা হয়। কিন্তু এই বেসিনগুলোর এখন বেহাল দশা। কোনোটিতে নেই পানি। আবার কোনোটিতে নেই সাবান। করোনা সংক্রমন প্রতিরোধে সরকারি অর্থায়নে নির্মিত এই বেসিনগুলো কোনো কাজেই আসছে না।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জনসাধারণের হাত ধোয়ার জন্য এই বেসিনগুলো স্থাপন করা হয়েছে। প্রায় চার মাস আগে করেনার সংক্রমণ ঠেকাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য সুনামগঞ্জ শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে ৮টি বেসিন নির্মাণ করা হয়। প্রতি উপজেলায় দেওয়া হয় ৩ টি বেসিন। জেলায় মোট ৪৭টি বেসিন নির্মাণ করা হয়। একটি বেসিন নির্মাণ করতে ব্যয় হয় ২৫ হাজার টাকা। মোট খরচ হয়েছে ১১ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা।
এলাকাবাসি বলছেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো ঠিকভাবে তদারকি না করায় বেসিনগুলোর এই অবস্থা হয়েছে। উদ্বোধনের পর কিছুদিন এগুলো ভালো ছিল। এক পর্যায়ে সেগুলো অকেজো হয়ে গেছে। কোনোটিতে পানি আসে না। পানি থাকলে সাবান নেই।
সরজমিনে দেখা গেছে, বেসিনের নির্মাণকারী দপ্তর জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের সামনের বেসিনটিতে পানি আসলেও, সাবান নেই। একই অবস্থা এই বেসিনগুলোর তদারকি দপ্তর সুনামগঞ্জ পৌরসভার সামনের বেসিনের। পৌর ভবনের পাশে নির্মিত বেসিনে পানি আসলেও, সাবানের দেখা মিলেনি। শহরের হোসেন বখত চত্ত্বরের বেসিনের আরো বেহাল অবস্থা। পানি, সাবান দুটোই নেই। বেসিনের পাশ থেকে আসছে দুর্গন্ধ। শহীদ কর্ণেল এলাহী মঞ্জুর চৌধুরী সড়কে স্থাপিত বেসিনে নেই পানি ও সাবান। বেসিনের ভেতরে আবর্জনার স্তূপ। চেম্বার অব কমার্স ভবনের সামনের বেসিনেরও একই দশা। পানি ও সাবানের বালাই নেই। কাজীর পয়েন্টের বেসিনে পানি থাকলেও সাবান নেই।
পৌরসভার প্রবেশপথে হাত না ধুয়ে কেন প্রবেশ করছেন, সফর আলী নামের একজনকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘বেসিন লাগানো হয়েছে, তা লাগানো পর্যন্তই শেষ। প্রথম দিকে সবকিছু সচল থাকলেও এখন আর কোনও গুরুত্ব নেই। সেখানে যে হাত ধুবো তাতে তো সাবান নেই, হাত ধুবো কীভাবে? তাই হাত না ধুয়েই প্রবেশ করছি।’
স্বপন খাঁন নামের আরেকজন বলেন, ‘করোনা প্রতিরোধে কিছুক্ষণ পরপর হাত ধোয়া কার্যকরী পদক্ষেপ, যা চিকিৎসকসহ সবাই বলছেন। মানুষের হাত ধোয়ার জন্য হাজার হাজার টাকা খরচ করে বেসিন বসানো হয়েছে শুধু মানুষকে দেখানোর জন্য। যদি তাই না হবে, তাহলে বেসিনে সাবান থাকে না, আবার পানি থাকে না কেনো?’
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তরের সামনে দেখা হওয়া মনির হোসেন বলেন, জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রকৌশল অফিসের সামনে সাধারণ মানুষের হাত ধোয়ার জন্য বেসিন বসানো হয়েছে। কিন্তু কিছুদিন ধরে বেসিনে পানির ব্যবস্থা আছে, কিন্তু সাবান নেই। এ কারণে মানুষ হাত ধুতে পারছে না।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল কাশেম বলেন, শহরের বিভিন্ন স্থানে ৮টি হাত ধোয়ার বেসিন তৈরি করে দিয়েছি। সেগুলো দেখার দায়িত্ব পৌরসভার। অন্যান্য উপজেলায় থানা ও উপজেলা পরিষদের সামনে নির্মিত হয়েছে বেশিরভাগ বেসিন। সেগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দেখাশুনা করার কথা। আমাদের বেসিনে সাবান থাকে, পড়ে গিয়েছে হয়তো, নতুন আরেকটা দিয়ে দেব।
পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মীর মোশাররফ হোসেন বলেন, পৌরসভার সামনের বেসিনে প্রথম দিকে সাবান দিয়েছিলাম, কিন্তু সেখানে সাবান থাকে না। তারপরে সেখানে নেট দিয়ে সাবান বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। এরপরেও কীভাবে হারিয়ে গেল বিষয়টি দেখা হচ্ছে।
শহরের বাকী বেসিনগুলোতে পানি ও সাবান নেই কেনো? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যে বেসিনগুলো অচল হয়ে গেছে সেগুলো খোঁজ নিয়ে সচল করার ব্যবস্থা করা হবে। সব বেসিনে পানি সরবরাহের উদ্যোগ নেয়া হবে। এছাড়াও বেসিনে সবসময় কিভাবে সাবান রাখা যায় সেই ব্যবস্থা করা হবে।


