নির্বাচনী এলাকার মাধ্যমিক বিদ্যালয় সমূহের শিক্ষার্থীদের বেতনের অর্থ নিজ তহবিল থেকে পরিশোধের পূর্ব ঘোষণার অঙ্গীকার রক্ষার প্রথম পর্যায়ে তাহিরপুর-ধর্মপাশা-জামালগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বাদশাগঞ্জ পাবলিক হাইস্কুলের পাওনা ৪ লাখ ৮৮ হাজার টাকার বিপরীতে গত শুক্রবার এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এক লাখ টাকা পরিশোধ করেছেন। গত বোরো মৌসুমে সর্বগ্রাসী ফসল বিপর্যয়ের পর তিনি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধরে রাখতে এই ঘোষণা দিয়েছিলেন। অঙ্গীকার রক্ষার বিষয়ে সংসদ সদস্যের এই পদক্ষেপকে আমরা স্বাগত জানাই। তিনি এরূপ একটি ঘোষণা দিয়ে বেশ আগেই সব মহলে অভিনন্দিত হয়েছিলেন, এবার অঙ্গীকারের যৎকিঞ্চিৎ হলেও পূরণ করায় তিনি নিশ্চয়ই আরও অভিনন্দন পাওয়ার যোগ্য। আমরা আশা করি তিনি নিজ প্রতিশ্রুতির পুরোটাই পর্যায়ক্রমে পূরণ করে জনপ্রতিনিধিত্বের ইতিহাসে নতুন এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন। ভোটে নির্বাচিত হয়ে আসার আগে ছোট বড় সকল জনপ্রতিনিধিই ‘জনসেবা’ এর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। কিন্তু নির্বাচিত হয়ে গেলে তারা এসব প্রতিশ্রুতি বেমালুম ভুলে বসে থাকেন। তখন জনগণকে তার সেবা করতে হয়। এমন সাধারণ দৃশ্যের বিপরীতে রতন যখন ব্যতিক্রম তৈরি করেন তখন সেটি হয়ে উঠে আলোচনার বিষয়। এই বিষয়টি আমরা চর্চা করছি এ কারণে যে, এই উদাহরণটি যাতে সকল জনপ্রতিনিধি অনুসরণ করেন সে প্রত্যাশায়।
সংসদ সদস্য রতনের বিশাল নির্বাচনী এলাকায় বহু মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। প্রতিশ্রুতি মোতাবেক সবগুলো বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বেতন তাঁর পরিশোধ করার কথা। এই প্রতিশ্রুতি রক্ষা আমরা জানি বিশাল ব্যয়সাপেক্ষ। এজন্য প্রচুর অর্থ দরকার। তাঁর ঘোষণাটি নির্বাচনী এলাকার সকল শিক্ষার্থী ও অভিভাবক অবগত আছেন। অবগত মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর কর্তৃপক্ষও। সকলে নিশ্চয়ই অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় আছেন সংসদ সদস্য কখন নিজ প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেন। বাদশাগঞ্জের খবর পেয়ে তাদের আশাবাদ আরও বিস্তৃত হবে। আমরা অনুরোধ করব সংসদ সদস্যকে, তিনি যাতে নির্বাচনী এলাকার সবগুলো বিদ্যালয়েই এমন প্রতিশ্রুতি পূরণের জন্য দ্রুত এগিয়ে আসেন।
আমরা সকলেই জানি, ফসল বিপর্যয়ের কারণে হাওরাঞ্চলের মানুষের আর্থিক সক্ষমতা শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। তাঁরা অপরিহার্য খাদ্য চাহিদা মিটাতেই হিমশিম খাচ্ছেন। সরকার নানাভাবে খাদ্য সহায়তা কিছুটা হলেও জুগিয়ে যাচ্ছেন। এই আর্থিক সামর্থ্য হারানো কৃষকদের নিকট শিক্ষার্থীদের বেতন পরিশোধ করাটা ছিল সাধ্যাতীত। এই অবস্থায় সংসদ সদস্যের ঘোষণাটি ছিল ভাটির কৃষকদের নিকট এক বিরাট পাওনা। জনদুর্ভোগে জনপ্রতিনিধিদের কেমন ভূমিকা হওয়া উচিত, একই সাথে রতনের এই ঘোষণাটি ছিল তারই এক উদাহরণ। সকলেই এমনভাবে কাজ করলে আমাদের দেশ সত্যিকার অর্থে সোনার বাংলা হয়ে উঠতে বেশি দিন লাগত না। এরকম প্রত্যাশার জায়গা থেকেই আমরা এই সংসদ সদস্যের ভূমিকার ইতিবাচক মূল্যায়নে প্রবৃত্ত হয়েছি। যেদিন জানা যাবে তিনি নিজ প্রতিশ্রুতির শতভাগ পূরণ করেছেন সেদিনটি হবে আমাদের জন্য আরেক শুভ দিন। আমরা সেই দিনটির অপেক্ষায় রইলাম।

