মাওলানা ক্বারী গোলাম মাওলা (মানিক)
(পূর্ব প্রকাশের পর)
অতএব, এই রহমতের মাস পাইয়া যাহারা জীবনের গুনাহ মাফ করাইতে পারল না, তাহাদের মত হতভাগা আর কেউ হতে পারে না।
হাদীস: কাবইবনে উজরা (রা:) বলেন, একদিন রাসুল (সা:) ভাষণ দিচ্ছিলেন রাসুল (সা:) বললেন, তোমরা মিম্বরের কাছে এসো। আমরা মিম্বরের নিকটে এলাম। তিনি যখন প্রথম সিঁড়িতে উঠলেন, তখন বললেন আমীন! দ্বিতীয় সিঁড়িতে যখন পা রাখলেন, তখনও বললেন আমীন, তৃতীয় সিঁড়িতে উঠার সময় বললেন আমীন।
তিনি যখন মিম্বর থেকে নেমে আসলেন, আমরা বললাম, আজ আপনাকে এমন একটি বাক্য বলতে শুনলাম, যা আর কোনদিন শুনিনি। তিনি বললেন, জিবরাইল (আ:) আমার কাছে আসলেন এবং বললেন, ঐ ব্যক্তি আল্লাহর রহমত থেকে দূর হোক যে, রমজান পেল অথচ তাকে ক্ষমা করা হল না। আমি তখন বললাম, আমীন। তারপর যখন দ্বিতীয় সিঁড়িতে উঠলাম, জিবরাইল বললেন, আল্লাহর রহমত থেকে ঐ ব্যক্তি দূর হোক, যার সামনে আমার নাম নেয়া হল, অথচ সে দরূদ পাঠ করল না। তখন আমি বললাম, আমীন। আবার যখন তৃতীয় সিঁড়িতে উঠলাম, তখন তিনি বললেন, যে ব্যক্তি তার বার্ধক্যে উপণীত পিতা মাতা অথবা তাদের দু’জনের একজন কে পেল অথচ তাহাদের খেদমত করে জান্নাত অর্জন করতে পারলো না, সে আল্লাহর রহমত থেকে দুর হোক। আমি বললাম , আমীন।
সম্মানিত পাঠকবৃন্দ একটু চিন্তা করে দেখুন, উক্ত হাদীসে জিবরাইল (আ:) তিনটি বদ দোয়া করিয়াছেন এবং হুজুর (সা:) এই তিনটি বদ দোয়ার উপর আমীন বলিয়াছেন। এর চেয়ে কঠিন ধমক আর কি হতে পারে। আল্লাহতা’লা মেহেরবানী করিয়া আমাদিগকে এই তিন জিনিস হইতে বাঁচিয়া থাকার তওফিক দান করুন এবং এই সমস্ত গুনাহ হইতে রক্ষা করুন।
পরিশেষে মাহে রমজানের উপস্থিতি সকলের জন্যই স্বার্থক হোক। এ প্রার্থনাই করি পরম প্রিয় প্রভুর দরবারে।
লেখক: ইমাম ও খতিব ষোলঘর পুরাতন জামে মসজিদ, সুনামগঞ্জ।


