রহস্যের জট খুলছে না

বিশেষ প্রতিনিধি
শাল্লায় পুলিশ কর্মকর্তার উপর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়কের হামলার অভিযোগের ঘটনার রহস্যের জট খুলছে না। গত কয়েকদিনে এই ঘটনায় আরও কিছু নতুন রহস্য যুক্ত হয়েছে। অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা অরিন্দম চৌধুরী অপু এবং শাল্লা থানার ওসি নূর আলমের কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার হওয়ায় এই ঘটনা নিয়ে বিব্রান্তি আরও বেড়েছে। এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির দুই সদস্য বুধবার দিনভর সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছেন।
শাল্লা থানার এসআই শাহ আলী’র উপর ১২ জুলাই রাত সাড়ে ১২ টায় থানা থেকে নিজের বাসভবনে ফেরার সময় থানার দক্ষিণ পাশের মাঠের কাছাকাছি এলে হামলা হয়েছে অভিযোগ করে ১৩ জুলাই থানায় মামলা হয়। মামলার বাদী হন এসআই শাহ আলী। আসামী করা হয় উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক যুবলীগ নেতা অরিন্দম চৌধুরী অপু, স্থানীয় তরুণ বিশ^জিৎ রায়, পলাশ সরকার পল্টু, মোটর সাইকেল চালক রতন রায় ও চন্দন রায়কে।
১৩ জুলাই ভোর রাতেই অরিন্দম ও রতনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। প্রায় এক মাস কারাগারে থাকার পর ৮ আগস্ট জামিনে মুক্ত হন অরিন্দম ও রতন। মঙ্গলবার একাধিক ফেসবুকে অরিন্দম ও শাল্লা থানার ওসির কথোপকথন উল্লেখ করে অস্পস্ট একটি অডিও প্রচার হয়। এই অডিওতে বুঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে, অরিন্দমের সঙ্গে শাল্লা থানার ওসি’র অনৈতিক (ঘুষ দেওয়া-নেওয়ার) সম্পর্ক আছে এবং ওসি এসআই শাহ্ আলীর উপর হামলার বিষয়টি তিনি (ওসিও) জানতেন। এই অডিওয়ের সত্যতা যাচাইয়ে পুলিশের উর্ধ্বতনরাও তৎপর হন। বুধবার শাল্লায় যান পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্য সিলেট ডিআইজি অফিসে কর্মরত এসপি জিদান আল মুসা এবং সুনামগঞ্জের ছাতকের এএসপি সার্কেল মো. বিল্লাল হোসেন। দিনভর সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন তারা।
অরিন্দমের ভাই অ্যাডভোকেট অমিতাভ চৌধুরী বললেন, ১৩ জুলাই ভোর রাতে অরিন্দম গ্রেপ্তার হবার পর তার মোবাইল পুলিশের কাছেই ছিল। সে জামিন পাবার পর ৮ আগস্ট মোবাইল থানা থেকে আনা হয়েছে। এই অডিও ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তৈরি করা। সঠিক তদন্ত হলেই প্রকৃত ঘটনা বের হবে।
অরিন্দম চৌধুরী অপু বললেন, ‘আমার বিরুদ্ধে একের পর এক ষড়যন্ত্র হচ্ছে। যে অডিওটি ওসির সঙ্গে আমার কথোপকথনের প্রচার হয়েছে, এর প্রথম দুই তিন শব্দ আমার সঙ্গে ওসির অনেক আগের কথোপকথন, অন্যগুলো যুক্ত করা হয়েছে।’
শাল্লা থানার ওসি নুর আলম বললেন, অডিও’র বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। কেউ অপকর্ম করলে অবশ্যই বের হবে, শাস্তিও হবে।
এএসপি সার্কেল মো. বিল্লাল হোসেন বললেন, সকাল (বুধবার সকাল) থেকে সংশ্লিষ্ট নানাজনের সঙ্গে কথা বলেছি। যেহেতু ঘটনাটি নিবিড়ভাবে তদন্ত করার কাজ চলছে। এই নিয়ে কথা বলা ঠিক হবে না। তিনি এই বিষয়ে সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলার অনুরোধ করেন।
সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বললেন, শাল্লার ঘটনাটি নিয়ে কেবল সুনামগঞ্জ পুলিশ নয়, পুলিশের উর্ধ্বতনরাও কাজ করছেন। মঙ্গলবার থেকে যে অডিও’র কথা উল্লেখ করে ইঙ্গিতে বলা হচ্ছে, শাল্লা থানার ওসি ১২ জুলাই রাতের ঘটনা জানতেন, সেটি সুনির্দিষ্টভাবে অডিওতে বুঝা যায় নি। বার বার শুনে দেখা গেছে, এই অডিওতে একবার শুধু ওপাশ থেকে অপু’র নামের উচ্চারণ বুঝা যায়, আর কিছুই স্পষ্ট বুঝা যায় না। যেহেতু এই নিয়ে তদন্ত হচ্ছে, অবশ্যই সব কিছুই বের হবে। তবে ঘটনাটিকে জটিল করার চেষ্টা হচ্ছে।