সিলেট অফিস
সিলেটে দেবোত্তর সম্পত্তির তারাপুর চা বাগান দখল করে সরকারের হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ মামলার রায় ঘোষণা দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেট মূখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মো. সাইফুজ্জামান হিরোর আদালতে মামলার যুক্তিতর্ক শেষে ২৬ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণার দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হয়। এরপরই উচ্চ আদালতের নির্দেশনা আসায় রায় ঘোষণা দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।
মহানগর আদালতের জিআর শাখা সূত্র জানায়, রায় ঘোষণার দিনক্ষণ চূড়ান্ত হওয়ার পর উচ্চ আদালত থেকে একটি নির্দেশনা আদালতে পৌঁছায়। এতে রাগীব আলীর ছেলে মানসিক রোগী আখ্যায়িত করায় তাঁর স্বাস্থ্যগত পরীক্ষা সিলেটের সিভিল সার্জনের মাধ্যমে করানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ পরীক্ষা গ্রহণকালীন পর্যন্ত রায় ঘোষণা স্থগিত রাখতে বলায় আদালত আরেকটি আদেশে ইতিপূর্বে ঘোষিত তারিখে রায় ঘোষণা স্থগিত করেন। যোগাযোগ করলে আদালতের জিআর শাখায় কর্তব্যরত কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, রাগীব আলীর ছেলে আবদুল হাইয়ের স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হলে পরে দুই সপ্তাহ পর আত্মসাৎ মামলার রায় ঘোষণার তারিখ ধার্য করা হবে।
এর আগে আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে আদালতে উপস্থিত ছিলেন রাগীব আলী, ছেলে আবদুল হাই, জামিনে থাকা তারাপুর চা-বাগানের বৈধ সেবায়েত পংকজ কুমার গুপ্ত ও ভুয়া সেবায়েত রাগীব আলীর আত্মীয় দেওয়ান মোস্তাক মজিদ। এ মামলার দুই আসামি রাগীব আলীর মেয়ে রোজিনা কাদির ও তাঁর স্বামী আবদুল কাদির পলাতক রয়েছেন।
যুক্তিতর্কে সরকার পক্ষে উচ্চ আদালতের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে মুখ্য মহানগর বিচারিক হাকিম আদালতে মামলা পুনরুজ্জীবিত করার আবেদনকারী মহানগর দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি মফুর আলী, মহানগর বিচারিক হাকিম আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি মাহফুজুর রহমান এবং সেবায়েত পংকজ কুমার গুপ্তের পক্ষে সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলাম অংশ নেন। যুক্তিতর্ক শেষে রায় ঘোষণার জন্য তারিখ ধার্য করা হয়েছিল।
মুখ্য মহানগর বিচারিক হাকিম আদালতে গত ২ ফেব্রুয়ারি তারাপুর চা-বাগান বন্দোবস্ত নিতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক জালিয়াতির মামলায় ছেলেসহ রাগীব আলীকে ১৪ বছর করে কারাদ- দেওয়া হয়। রায়ে রাগীব আলীকে মানবিক মুখোশ পরে অবৈধ প্রক্রিয়ায় জনসম্পদ আত্মসাৎ তথা লুটপাটকারী বলে আখ্যায়িত করা হয়। একই আদালতে রাগীব আলী ও ছেলের বিরুদ্ধে মামলায় পলাতক অবস্থায় সিলেটের স্থানীয় দৈনিক সিলেটের ডাক সম্পাদনা ও প্রকাশনা করে প্রতারণার অভিযোগে আরেকটি মামলার অভিযোগ গঠন করে আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ধার্য রয়েছে।
২০০৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সিলেটের তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম আবদুল কাদের বাদী হয়ে ভূমিমন্ত্রণালয়ের স্মারক জালিয়াতি ও সরকারের হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুটো মামলা করেন সিলেটের কোতোয়ালি থানায়। উচ্চ আদালতের নির্দেশে দীর্ঘদিন এই মামলা দুটির কার্যক্রম স্থগিত ছিল। এক পর্যায়ে রাগীব আলীর প্রভাবে স্থানীয় পুলিশ মামলা দুটোর চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে ‘ডিসমিস’ (নিষ্পত্তি) করেছিল।
গত বছরের ১৯ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের পূর্ণাঙ্গ একটি বেঞ্চ রায়ে মামলা দুটো পুনরুজ্জীবিত করে বিচার প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশ দেন।
গত বছরের ২২ মার্চ মহানগর দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি মফুর আলীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে মামলার তদন্ত করে পুলিশের বিশেষায়িত শাখা পিবিআই ১০ জুলাই অভিযোগপত্র দাখিল করে।
১২ আগষ্ট আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। ওই দিন বিকেলে সিলেটের জকিগঞ্জ ইমিগ্রেশন হয়ে পালিয়ে ভারতের করিমগঞ্জ চলে গিয়েছিলেন ছেলেসহ রাগীব আলী। ২৩ নভেম্বর ভারতের করিমগঞ্জ ইমিগ্রেশন পুুলিশের হাতে রাগীব আলী এবং এর আগে ১২ নভেম্বর ভারত থেকে জকিগঞ্জ এসে আবদুল হাই গ্রেপ্তার হন।
- ২৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের ৭ম জাতীয় সম্মেলন সফল করার আহবান
- জামালগঞ্জে ৪০ বোতল ভারতীয় মদসহ গ্রেফতার ১


