সিলেট অফিস
সিলেটের দেবোত্তর সম্পত্তির তারাপুর চা-বাগান বন্দোবস্ত নিতে রাগীব আলীর বিরুদ্ধে ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক জলিয়াতির আলোচিত মামলার রায় আজ বৃহস্পতিবার দেওয়া হবে। সিলেটের মুখ্য মহানগর বিচারিক হাকিম মো. সাইফুজ্জামান হিরোর আদালতে এ মামলার যুক্তিতর্ক গতকাল বুধবার শেষ হওয়ার পরপরই রায়ের তারিখ নির্ধারণ হয়। আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি মাহফুজুর রহমান এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালত-সংশ্লিষ্ট ও আইনজীবী সূত্র জানায়, গতকাল যুক্তিতর্কের তারিখ নির্ধারিত থাকায় আসামি পক্ষের আইনজীবীরা যুক্তিতর্ক না করার আবেদন করেন। তাঁদের পক্ষের অপর একজন আইনজীবী তখন যুক্তিতর্কের জন্য সময় বাড়ানোর আবেদন করেন। আরেক আইনজীবী মৌখিকভাবে মামলা অন্য আদালতে স্থানান্তরের কথা বলেন। আসামি পক্ষের আইনজীবীদের এমন সমন্বয়হীনতার মুখে বিচারিক হাকিম যুক্তিতর্ক শুরুর বিষয়টি জানালে তখন আসামি পক্ষের আইনজীবীরা তাঁদের ওকালতনামা প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করেন। বিচারক এ আবেদন না মঞ্জুর করে যুক্তিতর্ক শুরু করেন। তবে এতে আসামি পক্ষের কোনো আইনজীবী অংশ নেননি।
রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন সিলেটের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মিসবাহউদ্দিন সিরাজ, মহানগর দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি মফুর আলী, মহানগর বিচারিক হাকিম আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি মাহফুজুর রহমান। তাঁরা জালিয়াতির সকল প্রমাণাদি আদালতে উপস্থাপন করতে সক্ষম হওয়ায় সর্বোচ্চ সাজা প্রার্থনা করেন। পাশাপাশি আসামি পক্ষের আইনজীবীদের শেষ মূহুর্তে এসে ওকালনামা প্রত্যাহার করার আবেদন বিচার প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করার চেষ্টা বলে জানান। আদালত রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য শুনে রায় ঘোষণার তারিখ দেন।
সরকারি কৌঁসুলির দপ্তর থেকে জানা গেছে, আলোচিত এ মামলার প্রায় ৪০ কার্য দিবসের পর রায় ঘোষণা হচ্ছে। মামলার মোট ১৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ১১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। এ ছাড়া, আসামি পক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রাগীব আলীর পক্ষে তাঁর মালিকানাধীন চা-বাগানের দুজন ব্যবস্থাপক আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
২০০৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সিলেটের তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম আবদুল কাদের বাদী হয়ে ভূমিমন্ত্রণালয়ের স্মারক জালিয়াতি ও সরকারের এক হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুটো মামলা করলে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে নিষ্পত্তি করে পুলিশ। গত বছরের ১৯ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের পূর্ণাঙ্গ একটি বেঞ্চ রায়ে মামলা দুটো পুনরুজ্জীবিত করে বিচার প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশ দেন।
১০ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল হলে ১২ আগষ্ট আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়।
ওই দিনই পালিয়ে ভারতের করিমগঞ্জ চলে গিয়েছিলেন রাগীব আলী ও তাঁর ছেলে। ২৩ নভেম্বর ভারতের করিমগঞ্জ ইমিগ্রেশন পুুলিশের হাতে রাগীব আলী এবং এর আগে ১২ নভেম্বর ভারত থেকে জকিগঞ্জ এসে আবদুল হাই গ্রেপ্তার হন। তাঁরা দুজনই বর্তমানে কারাবন্দী। গতকাল যুক্তিতর্ক চলাকালে রাগীব আলী ও তাঁর ছেলে আবদুল হাই আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।


