স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সদ্য জাতীয়করণকৃত রাঙ্গামাটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবুল খায়েরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অসামাজিক কার্যক্রম অনিয়ম, দুর্নীতি ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। রবিবার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে সদর উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ২১১ জন শিক্ষক এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, রাঙ্গামাটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবুল খায়ের সুকৌশলে স্কুল ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকেন। তিনি নিজ স্বার্থ হাসিলের জন্য শিক্ষকদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি এবং সৎ, নির্লোভ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রায়ই মিথ্যা বানোয়াট অভিযোগ এনে হুমকি দিয়ে নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করেন। বর্তমান উপজেলা শিক্ষা অফিসার তার অনৈতিক কাজের প্রশ্রয় না দেওয়ায় একের পর এক মিথ্যা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগ ছদ্মনামে বিভিন্ন সময়ে দায়ের করতে থাকেন।
অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, সদ্য জাতীয়করণকৃত বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে যোগ্যতা না থাকায় সরকারি শর্ত স্বাপেক্ষে যোগ্যতা অর্জনের জন্য তিনি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের অনুমতি নেন। কিন্তু তিনি অনুমতির শর্ত পালন করেননি। চাকুরীরত অবস্থায় সি-ইন-এড পাশ করার পূর্বে উচ্চ শিক্ষার অনুমতি নেওয়ার সুযোগ না থাকা সত্ত্বেও তথ্য গোপন করে তিনি উচ্চ শিক্ষার অনুমতি প্রাপ্ত হন। ২০১২ সালে তার মল্লিকপুরের বাসা হতে অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকা অবস্থায় তিন মহিলাসহ ৫(পাঁচ) জনকে পুলিশ আটক করে। এঘটনায় জালিয়াতির মামলায় তাকে ওয়েজখালী এলাকা থেকে পুলিশ গ্রেফতার করে। জামিনে বের হওয়ার পরও তার প্রভাবের কারণে উপজেলা শিক্ষা অফিস কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। ২০০১ শিক্ষবর্ষ ও ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে নিয়ম বহির্ভূতভাবে তথ্য গোপন করে তিনি দুইবার সি-ইন-এড প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন। সরকারি সকল সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করেও উভয় শিক্ষাবর্ষে সিইনএড পরীক্ষায় অকৃতকার্য হন তিনি। বিদ্যালয়ে অনুপস্থিতির কারণে এলাকাবাসীর পক্ষে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়াসহ এলাকার অভিভাবকগণ বিভিন্ন সময়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু তিনি সুকৌশলে সবকিছু ম্যানেজ করে ফেলেন। তার বিদ্যালয়ের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় শতভাগ ফেল করলেও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত রাঙ্গামাটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবুল খায়েরের সাথে কথা বলতে চাইলে তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে কথা বলতে চাইলে বেশ কয়েকবার ফোন ধরেন তিনি। কিন্তু কোন কথা না বলেই বার বার লাইন কেটে দেন তিনি। ফলে তার কোন বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।


