রাজনীতির আকাশের উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন জগলুল


স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ও আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সাবেক সদস্য প্রয়াত রাজনীতিবিদ আয়ুব বখত জগলুল’র ৩য় মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এই উপলক্ষে আলোচনা সভা ও আয়ূব বখ্ত জগলুল স্মৃতি মেধাবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে।
সোমবার সন্ধ্যায় জেলা শিল্পকলা একাডেমির হাছন রাজা মিলনায়তনে আয়ুব বখত জগলুল স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট। সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখ্ত’এর সভাপতিত্বে এবং জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামছুল আবেদীন’র সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন শিক্ষাবিদ যোগেশ্বর দাস, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রবিউল লেইস রোকেস, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার নুরুল মোমেন, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আক্তারুজ্জামান সেলিম, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হায়দার চৌধুরী লিটন, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুর রহমান সিরাজ, তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবলু, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. সালেহ আহমদ, অ্যাড. মনিষ কান্তি দে মিন্টু, আওয়ামী লীগ নেতা রেজাউল আলম নিক্কু, আওয়ামী লীগ নেতা অমল কর, পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বিমান রায়, পৌর কাউন্সিলর আহমেদ নূর, সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর সামিনা চৌধুরী মনি, সাংবাদিক লতিফুর রহমান রাজু, মহিলা পরিষদের সভাপতি গৌরী ভট্টাচার্য প্রমুখ।

বক্তারা বলেন আয়ূব বখত জগলুল সুনামগঞ্জ পৌরসভার উন্নয়নের রূপকার ছিল। তাঁর সময়ে পৌরসভার ব্যাপক উন্নয়ন হয়। পৌরসভার রাস্তা ঘাটসহ সকল কিছুর উন্নয়নের জন্য দিন রাত পরিশ্রম করেছেন।

বক্তারা বলেন, জগলুল সুনামগঞ্জের রাজনৈতিক সংগঠন গুলোকে ঐক্যবদ্ধ করে রেখেছিলেন। রাজনীতির আকাশের উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন তিনি। তাঁর অনেক ইচ্ছে ছিল এই পৌরসভাকে সুন্দর একটা রূপ দেওয়ার। তার অসমাপ্ত কাজগুলো তার ছোট ভাই বর্তমান পৌর মেয়র নাদের বখ্ত সমাপ্ত করবেন বলে সুনামগঞ্জবাসী আশাবাদী।
সভা শেষে আয়ূব বখ্ত জগলুল স্মৃতি মেধাবৃত্তি প্রাপ্ত ১৭ জন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, আয়ুব বখত জগলুল ৮০ এর দশকে সুনামগঞ্জের জনপ্রিয় ছাত্রনেতা ছিলেন। তিনি ১৯৮৯ সালে ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়নের ঐক্যবদ্ধ প্যানেল থেকে ভিপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। ছাত্র রাজনীতি শেষে জেলা যুবলীগের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। গণসংগঠন আওয়াম লীগে যোগদানের বছরই ১৯৯২ সালে জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন এই রাজনীতিক। ১৯৯৭ সালে জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হন তিনি।
জনপ্রিয় এই রাজনীতিক বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে ১৫ ফেব্রুয়ারি’২০১১ সালে প্রথম পৌর মেয়র হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত হন ৩১ ডিসেম্বর’২০১৬ সালে।