রাতের আঁধারে কোচা দিয়ে মাছ শিকার

জামালগঞ্জ প্রতিনিধি
অন্ধকার রাতে হঠাৎ দূর থেকে দেখা গেলো অনেকগুলো আলো জ্বলছে। গ্রামের খোলামাঠে মানুষজন কি যেন খুঁজছেন। প্রথম দর্শনে এমনটাই মনে হতে পারে। কাছে গিয়ে দেখা গেলো চারিদিকে ক্ষেত-মাঠ। আছে খাল-বিল-নালাও। বৃষ্টিতে খাল-বিল ভরে গেছে পানিতে। আছে পানির নিরিবিলি ¯্রােত। আবার কোথাও চুপেচুপে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে শিকারীদের মাছ ধরার উপলক্ষে তৈরি হয়েছে। উৎসবে মেতে উঠেছে সোখিন ও পেশাদার শিকারীরা। হাতে কোচা নিয়ে মাছ শিকার করছেন তারা।
গত শনিবার রাতে জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের পাকনার হাওরে বিভিন্ন এলাকার এমন চিত্র দেখা যায়। কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে খালবিল পুকুর পানিতে ভরে গেছে। যার কারণে খোলা জলাশয়। ধানের জমি, ছোট ছোট খালে মাছের আনাগোনা।
এই সব খালে বিলেও ধানের জমিতে রাতের আঁধারে টর্চ লাইট আর কোচা নিয়ে ঘুরছেন শিকারীরা। মিলছে নানা জাতের মাছ। পাওয়া যাচ্ছে কৈ, গজার, বোয়াল, শিং, মাগুর ইত্যাদি।
সদর ইউনিয়নের কাশীপুর গ্রামের আবুল আলা বলেন, বৃষ্টির পানিতে গ্রামের খাল-বিল নদী নালা ভরে যায়। তখন মাছের বিচরণ বেড়ে যায়। আর শিকারীরা কোচা দিয়ে মাছ ধরতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। দুই থেকে তিন ঘন্টা কোচা দিয়ে মাছ শিকার করে পাওয়া যায় ১ থেকে ২ কেজি বিভিন্ন ধরনের মাছ। কোচা দিয়ে মাছ শিকারীর অধিকাংশ সৌখিন শিকারী। আবার কেউ কেউ এ মাছ বিক্রি করে সংসার চালায়।
একই এলাকার ইয়ার আলী বলেন, এক হাতে টর্চ লাইট অন্য হাতে কোচা দিয়ে মাছ শিকার এটি আনন্দের বিষয়। খালে বিলে ক্ষেতে মাছ শিকারের উদ্ধোশ্যে শিকারীরা ঘুরে বেড়ান। এই পদ্ধতিতে শুধু রাতের বেলায় মাছ শিকার করা হয়। তিনি আরও বলেন, কোচা দিয়ে মাছ শিকারে সাপের ও আতংক থাকে।
কোচা দিয়ে মাছ শিকার জামালগঞ্জের তথা সুনামগঞ্জের অঞ্চলে একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি। এক সময় এই অঞ্চলে এর প্রচলন বেশী ছিল। গ্রামের মানুষ দলবেঁধে কোচা দিয়ে মাছ শিকার করতো। আস্তে আস্তে কালের আবর্তনে মাছ ধরার এই সনাতনী পদ্ধতি হারিয়ে গেছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান ইকবাল আল আজাদ বলেন, আমাদের এলাকায় এসময় হাওরে পানি ঢোকার সাথে সাথে খাল বিলের মাছ হাওরে চলে আসে। তখন সৌখিন মাছ শিকারীরা কোচা ও টর্চ লাইট দিয়ে রাতে মাছ শিকার করেন। আগেকার দিনে টুকরি ভরে মাছ পাওয়া যেতো। বর্তমানে মাছের পরিমান অনেক কমে গেছে।