বিশেষ প্রতিনিধি
দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী না থাকায় সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ৫০ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নানা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। প্রায় প্রতিবছরই এসব বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটছে। মূল্যবান শিক্ষা সামগ্রী নিয়ে যাচ্ছে চোরেরা। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের এ কারণে নানা হয়রানির মধ্যে পড়তে হচ্ছে।
গত ১৩ নভেম্বর সুনামগঞ্জ শহরতলির কোরবাননগর ইউনিয়নের ধারারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দরজা ভেঙে বিদ্যালয়ের প্রজেক্টারসহ শিক্ষা সামগ্রী চুরি হয়। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মামলা করলেও মালামাল উদ্ধার হয় নি। শনিবার (২০ নভেম্বর) পর্যন্ত কোন চোরও গ্রেপ্তার হয় নি।
এর আগে গত ২৪ আগস্ট সুনামগঞ্জ শহর বালিকা বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটে। বিদ্যালয়ের ৩২ টি চেয়ার এবং সিসি ক্যামেরার রেকর্ডার চোরেরা নিয়ে যায়। প্রধান শিক্ষক থানায় জিডি করলেও মালামাল উদ্ধার বা চোর গ্রেপ্তার হয় নি।
কেবল এই দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নয়। নৈশ প্রহরী নেই এমন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায়ই চুরির ঘটনা ঘটে। চুরি হলে নতুন করে মূল্যবান জিনিষপত্র বা শিক্ষা সামগ্রী আর কেনাও হয় না। বিদ্যালয়ের লেপটপ-প্রজেক্টর কিংবা শিক্ষা সামগ্রী কারো বাড়িতে নিয়ে রাখাও নিরাপদ নয়। আবার বিদ্যালয়ে রেখেও চুরি যাচ্ছে। দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী না থাকায় বিদ্যালয়ের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমও ঠিকভাবে হয় না।
শহরতলির পুরাতন লক্ষণশ্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমান বললেন, ২০১৪ সালে ১৫০০ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পের আওতায় আমাদের বিদ্যালয় হয়েছে। বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম নৈশপ্রহরী না থাকায় দপ্তরীর কাজ করতে হয় শিক্ষকদের। নৈশপ্রহরী না থাকায় লেপটপ, প্রজেক্টরসহ শিক্ষা সামগ্রী নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। এসব সামগ্রী বাড়িতে নিয়ে রাখা আরও বেশি বিপদ। বাড়ি থেকে চুরি গেলে আরও হয়রানি হবে।
সুনামগঞ্জ শহর বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসরিন আক্তার খানম জানালেন, তার বিদ্যালয়ে দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরীর পদ নেই। অনেক আগে থেকেই এই বিদ্যালয়সহ শহরের রাজগোবিন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কেবি মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অফিস সহায়কের পদ ছিল। ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত তার বিদ্যালয়ে একজন অফিস সহায়ক (ওই পদের নাম ছিল পিয়ন) ছিলেন। তিনি অবসরে যাবার পর আর কাউকে পদায়ন করা হয় নি। গেল আগস্টের ২৪ তারিখ রাতে বিদ্যালয়ে চুরি হয়। এর আগে আরও কয়েকবার ঘণ্টাসহ চুরি হয়েছে। চুরি হলে আরও হয়রানি বাড়ে।
শহরতলির মাসতুরা মবশি^র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উজ্জ্বল চন্দ বললেন, বিদ্যালয়ে দপ্তরী ও নৈশপ্রহরী থাকা জরুরি। নৈশ প্রহরী থাকলে প্রজেক্টরসহ শিক্ষা সামগ্রী চুরি হতো না।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, এই উপজেলায় ১২৯ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। এরমধ্যে দপ্তরী কাম নৈশপ্রহরী আছে ৭৯ টি বিদ্যালয়ে। জাতীয়করণকৃত ৪১ টি, ১৫০০ শ’ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পের আওতায় হওয়া মাসতুরা মবশ্বির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চাঁনপুর-চাতলপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মোল্লাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পুরাতন লক্ষণশ্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাহাদুরপুর-ছলিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দেওয়াননগর মোহনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাজগোবিন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শহর বালিকা বিদ্যালয় ও কেবি মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী কাম নৈশপ্রহরী নেই।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এনামুর রহমান বাবর বললেন, জাতীয়করণকৃত ৪১ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং ১৫০০ প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পের আওতায় ৬ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এখনো দপ্তরী কাম নৈশপ্রহরীর পদ সৃজন হয় নি। রাজস্বের মাধ্যমে সৃজনকৃত ৩ টি বিদ্যালয়ে অফিস সহায়ক নিয়োগ হচ্ছে না। এসব কারণে এই বিদ্যালয়গুলোতে কিছুটা সমস্যা আছে। আমরা এসব বিষয় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। দপ্তরী কাম অফিস সহকারীর পদ আগে সৃজন হবে। পরে নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিয়োগ সম্পন্ন করতে হবে। তিনি জানান, এ ধরনের সমস্যা জেলার অন্য উপজেলার কিছু স্কুলেও আছে।
- এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষার্থীদের করোনা টিকা দেওয়া শুরু
- স্বাস্থ্যসেবার ৬৮ ভাগ খরচ রোগীর: স্বাস্থ্যমন্ত্রী


