বিশ^ম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের রামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কিছু জায়গা বেদখল হয়ে যাচ্ছে বলে গত শুক্রবার দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত একটি সংবাদ থেকে জানা যায়। বিদ্যালয়টি ১৯৬০ সনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সংবাদের তথ্য অনুসারে বিদ্যালয়ের মাঠের দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে একাধিক দোকান কোঠা নির্মাণ ও পুকুর খনন করে জায়গা দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। অবৈধ দখলদার হিসাবে স্থানীয় আব্দুল হান্নান, আব্দুল লতিফ, আব্দুল হাই, আব্দুল হাকিম ও আব্দুর রহমানের নাম সামনে এসেছে। সকলের চোখের সামনে একটি বিদ্যালয়ের জায়গা বেদখল হয়ে যাওয়া দুর্ভাগ্যজনক। বিদ্যালয় হলোÑ শিক্ষা বিস্তারের জায়গা। এলাকার কোমলমতি শিশুরা এই বিদ্যালয়ে শিক্ষা জীবনের প্রথম পাঠ গ্রহণ করে। এই বিদ্যালয়ে অর্জিত প্রাথমিক শিক্ষাকে অবলম্বন করেই এলাকার বহু শিক্ষার্থী বিভিন্নভাবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। বিদ্যালয়টি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে শিক্ষার আলো জ¦ালিয়ে যাবে। এরকম একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সকলেরই ভালবাসা ও সম্মানের জায়গা হওয়া উচিৎ। এর পরিবর্তে কতিপয় অসৎ-উদ্দেশ্যসন্ধানী ব্যক্তি যখন বিদ্যালয়ের নিজস্ব জায়গা দখল করতে চান তখন প্রথমেই তো স্থানীয়ভাবে এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে উঠার কথা। কিন্তু তা তো হয়নি। বরং স্বয়ং উপজেলা নির্বাহী অফিসার, বিশ^ম্ভরপুরও দুই দুইবার সার্ভেয়ার পাঠিয়ে বিদ্যালয়ের সীমানা নির্ধারণের কাজ শেষ করতে পারেননি। সলুকাবাদ ইউনিয়নটি একেবারে জেলা সদরের সন্নিকটে অবস্থিত। এই ইউনিয়ন বিশ^ম্ভরপুরের সমৃদ্ধ অঞ্চল। এই ইউনিয়নের বহু মানুষ সমাজের নানা জায়গায় গণমুখী ভূমিকায় নিয়োজিত রয়েছেন বলে আমরা জানি। অথচ এই ইউনিয়নেরই একটি বিদ্যালয়ের জমি অন্যরা আত্মসাৎ করতে উদ্যত রয়েছে, বিষয়টি ভেবে আমাদের অবাক হতে হয়। বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি কোথায়? কোথায় উপজেলা শিক্ষা প্রশাসন? সলুকাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান-মেম্বাররাই বা কী করছেন এ বিষয়ে?
বিদ্যালয়ের জায়গা উদ্ধারে কঠোর অবস্থান বজায় রাখতে হবে। সকল জায়গায়ই কিছু ধুর্ত লোক থাকে যারা অন্যের জায়গা দখলে নিতে সবসময় তৎপর থাকে। এই ভূমিখেকোরা সমাজ ও সভ্যতার শত্রু। স্থানীয় অপরাধ বিস্তারে এদের ভূমিকা অগ্রগণ্য। বেশির ভাগ অপরাধের সূত্র ভূমি বিরোধের জের থেকে উৎসারিত হয়। ভূমি সংক্রান্ত বিরোধকে নিয়ন্ত্রণ করা গেলে সমাজের অপরাধপ্রবণতাও উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমে আসবে, বিশেষজ্ঞরাও এরকম অভিমত প্রকাশ করেন। সংবাদসূত্রে জানা যায়, রামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানা নির্ধারণ ও বেদখল জায়গা উদ্ধারের জন্য স্থানীয় ২৯ ব্যক্তি জেলা প্রশাসক ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের নিকট আবেদন করেছেন। আমরা চাই এই আবেদনের ভিত্তিতে বিষয়টির মিমাংসা করা হোক।
একই সংবাদ থেকে জানা যায়, বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটি নিয়েও বিরোধ রয়েছে। এই বিরোধের কারণে বিদ্যালয়ের লেখাপড়ার পরিবেশ দূষিত হচ্ছে বলে জানা গেছে। চলমান ভূমি বিরোধ ব্যবস্থাপনা কমিটির ভিতর দ্বন্দ্ব তৈরি করেছে কি-না আমরা জানি না। তবে করে থাকলে অবাক হওয়ার কিছু থাকে না। অপকৌশলকারীরা এরকম কৌশল গ্রহণ করে যাতে প্রতিষ্ঠানের ভিতর অন্তর্দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। বিরোধ থাকলে বেদখল জমি নিয়ে কথা বলার জায়গা সংকুচিত হবে, এরকমই ভেবে থাকতে পারে তারা। তাই ব্যবস্থাপনা কমিটির এই বিরোধও জরুরিভাবে নিরসন করা উচিৎ। এখন সরকারি বিদ্যালয়গুলোতে নানাভাবে তহবিল দেওয়ার সুযোগ আছে। আমরা কামনা করব, উপজেলা শিক্ষা প্রশাসন দ্রুত বিদ্যালয়ের সীমানা নির্ধারণ করে চতুর্দিকে পাকা দেয়াল করে দিবেন। তাহলে ভূমি বিরোধের স্থায়ী সমাধান করা যাবে। সরকারি প্রশাসনের সাথে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও জনপ্রতিনিধিদের সহায়ক মনোভাব নিয়ে সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসতে হবে। মনে রাখতে হবে রামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক ইঞ্চি জমি আত্মসাতের সুযোগ করে দেয়ার অর্থ হবে এলাকার শিক্ষার্থীদের প্রতি তাচ্ছিল্য দেখানো যা আখেরে একটি এলাকার শিক্ষাবিরোধী মনোভাবকেই সকলের সামনে উন্মোচন করে দিবে।

