রাস্তা তুমি কার ?

স্টাফ রিপোর্টার
শহরতলীর লক্ষ্মণশ্রী ইউনিয়নের হালুরয়ারগাঁও নতুন জেল গেট থেকে ৫শ’ ফুট কাঁচা রাস্তার কারণে ৪ গ্রামের মানুষ ভোগান্তিতে রয়েছেন। নতুন জেলা কারাগার থেকে বারঘর গ্রামের প্রবেশ পথ পর্যন্ত প্রায় ৫০০ ফুট সড়কের এমন বেহাল দশা। এলজিইডি বলছে, এই অংশটুকু সড়ক বিভাগের, তারা এখানে কাজ করাতে পারবে না। সড়ক বিভাগ বলছে, এই অংশ আমাদের নয়। এই অবস্থায় এলাকাবাসী পড়েছেন মহাসংকটে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নতুন জেল গেট থেকে বারঘর গ্রামে যাওয়ার ৫০০ ফুট রাস্তা খুব করুণ দশায় রয়েছে। আশেপাশের অন্যান্য সড়কে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগলেও এই অংশ মাটির রাস্তাই আছে। এ কারণে জেল গেটের সামনেই যানবাহনকে থামতে হয়। বর্ষাকালে বাকি পথ হেঁটে আসতে হয় গ্রামবাসির।
জানা যায়, ২০০৮ সালে এলজিইডি বারঘর গ্রামের সড়কটি পাকা করে। এসময় ৫০০ ফুট রাস্তার মালিকানা সড়ক বিভাগের হওয়ায় ওই অংশ পাকা করেনি এলজিইডি কর্তৃপক্ষ।
এলাকাবাসি বলছেন, বর্ষা মৌসুমে এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করা যায় না। এ কারণে ৪ গ্রামের ৫ হাজার মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। জরুরী প্রয়োজনে কোনো রোগীকে শহরে আনতে হলে চাঙারি বা পলোয় করে আনতে হয়। এছাড়া স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের চলাচল করতেও অসুবিধায় পড়তে হয়।
বারঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তুলিকা ঘোষ চৌধুরী বলেন, ৫০০ ফুট সড়কের কারণে শিক্ষার্থীসহ আমাদের সকলেরই ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বর্ষাকালে কাঁদা মাড়িয়ে স্কুলে আসতে হয় শিক্ষার্থীদের।
হালুয়ারগাঁওয়ের ইনছানা অটোরাইস মিলের মালিক মো. শহীদ মিয়া বলেন, হালুয়ারগাঁও-বারঘর সড়কের পুরো সড়কই পাকা হয়েছে। সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কে যুক্ত হওয়ার কিছু অংশের কারণে গ্রামের পাকা রাস্তার সুবিধা ভোগ করতে পারছে না এলাকাবাসী। বর্ষাকালে ধান বহন করার বড় গাড়ি কাঁচা সড়কের কারণে ভেতরে আসে না।
বারঘর গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধি শিক্ষার্থী রুমি রানী দে বলেন, আমি সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের দর্শন বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। এখন কলেজ যাওয়া সম্ভব হলেও বর্ষা মৌসুমে যাওয়া যায় না। ৫০০ ফুট রাস্তায় হাঁটু পরিমাণ কাদা থাকে।
লক্ষ্মণশ্রী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার হিরা তালুকদার বলেন, আমার ৫০০ ফুট মাটির রাস্তার জন্য ভোগান্তিতে আছি। এনিয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নিবার্হী প্রকৌশলীর কাছে অনেকবার গিয়েছি। কিন্তু কোনো কাজ হয় নি। অনেক সময় দেখাই করেন নি তিনি। এগারো বছর ধরে নিজেরা চাঁদা তুলে সড়কটি চলাচল উপযোগী করে রাখছি।
এলজিইডি সদর উপজেলার প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, বারঘর গ্রামের ভেতরে রাস্তা করা হয়েছে। আর জেল গেট থেকে ৫০০ ফুট রাস্তা সড়ক বিভাগের মালিকানাধীন, তাই আমরা করি নি।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ সহকারী প্রকৌশলী মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নতুন জেল গেট থেকে বারঘর গ্রামের ৫০০ ফুট রাস্তা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নয়।