শহীদ নূর আহমেদ
মদনপুর থেকে দিরাই বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত সড়কের দূরত্ব প্রায় ২৭ কিলোমিটার। দীর্ঘ এই রাস্তা দিয়ে প্রতিনিয়ত যাতায়াত করছেন দিরাই, শাল্লা, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, সদর উপজেলার কয়েক লক্ষাধিক মানুষ। চলাচলের এক মাত্র সড়কটি এখন যাত্রীদের দুভোর্গের প্রধান কারণ। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে সিলেট, ঢাকাগামী বাসসহ জেলার বিভিন্ন প্রান্তে যাওয়া লেগুনা, জিএনজি টেম্পু ও মালবাহী যানবাহন। পাকা সড়কটি প্রায় জায়গায় মৃত্যুঝুঁকি উঁকি দিয়ে রয়েছে। সড়কে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ স্ট্যান্ড, বাজার ও মোড়ের পাকা অংশ ভেঙ্গে সড়ক ছোট হয়ে গেছে। সরে গেছে সড়কের দুপাশের মাটি। মাটি সরে যাওয়ায় শূন্যে দাঁড়িয়ে আছে সরকের ভঙ্গুর পাকা আস্তর। সড়কের প্রায় স্থানে পাকা ভেঙ্গে তৈরী হয়েছে মৃত্যু খাদ। মরণ খাদে পড়ে যানবাহন উল্টে যেকোন সময় ঘটতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। সড়কে এমন বেহাল দশার দেখা যে কেউ নেই।
মদনপুর-দিরাই সড়কের সংস্কারকাজ অচিরেই শুরু না হলে জনভোগান্তির মাত্রা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা যাত্রী, চালক যানবাহন মালিক সমিতির। তবে সড়কের টেন্ডার মূল্যায়ন চলছে ,বছরের শুরুর দিকে মদনপুর- দিরাই সড়কের কাজ শুরু হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন সওজ কর্তৃপক্ষ।
সরেজমিনে জানা যায়, সুনামগঞ্জ- সিলেট ও দিরাই-মদনপুর সড়কের সংযোগস্থল মদনপুর এলাকা থেকে দিরাই বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত দীর্ঘ এই সড়কটির বেহাল অবস্থা। পুরো সড়কের বিটুমিন ভেঙ্গে গেছে। রাস্তা উপরে তৈরী হয়েছে হাজারো ছোট বড় গর্ত । গর্তগুলোর আকার দিন দিন বেড়েই চলছে। ভাঙ্গা এই রাস্তা দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহনে চলাচল করছেন যাত্রীরা। গাড়ীর ঝাঁকুনিতে কষ্টের শেষ নেই তাদের। মদনপুর দিরাই সড়কের দুই পাশে রয়েছে, নোয়াখালি, গনিগঞ্জ, পাথারিয়া বাজারসহ একাধিক হাটবাজার, রয়েছে নারাইনপুর, বগলাখাড়া,ভাটিপাড়া রাস্তা,শরীপপুর, সাদিরপুরসহ অসংখ্য যাত্রী উঠানামার স্ট্যান্ড ও মোড়। হাটবাজার, স্ট্যান্ড ও মোড়গুলোর অবস্থা আরো করুণ। নোয়াখালি ও পাথারিয়া বাজার সড়কের পাকা অংশের ভাঙ্গন মাত্রাতিরিক্ত। গনিগঞ্জ ও পাথারিয়া বাজারে মূল সড়কের দুপাশের মাটি সরে গিয়ে বিপদ খাদে পরিণত হয়েছে। ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন ্ ক্রস করতে দেখা যায় অনেক চালককে। একটু উনিশ-বিশ হলেই ঘটনার ভয়াবহতা কেমন হবে তা ব্যাখ্যার প্রয়োজন হয় না।
রাস্তা চলাচলে দুর্ভোগের বিষয়ে কথা হলে যাত্রীরা বলেন,ভাঙ্গা রাস্তার কারণে যানবাহনে অধিক ঝাঁকুনি সহ্য করতে হয়। গাড়ীর ঝাঁকুনিতে শরীরে ব্যথা অনুভব করেন যাত্রীরা। ভাঙ্গা রাস্তা ক্রসিংয়ের সময় সার্বক্ষণিক আতঙ্কে থাকেন তারা। মুমূর্ষু রোগী কিংবা গর্ভবর্তী মাদের জেলা শহরে আনতে পোহাতে হচ্ছে অধিক বিরম্ভনা। থাকছে মৃত্যু আশঙ্কা ।
আব্দুল আলী নামে এক যাত্রী বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গাড়ী চলাচল করতে হয়। পুরো রাস্তা ভাঙ্গা। দিন দিন রাস্তার অবস্থা আরো খারাপ হচ্ছে। কখন কোন দুর্ঘটনা ঘটে তা বলা যায় না।
আমেনা বিবি নামে ৭০ বছরের এক বৃদ্ধার সাথে রাস্তার অবস্থা সম্পর্কে কথা হলে তিনি বলেন, শহরে যাইরাম চিকিৎসা খরাইতাম। অখন গাড়ীর ঝাখারে জান জায়গি। গাইড়ে মাঝে মাঝে ফাল মারে। শরিলে দুক পাইরাম।
সুমন মিয়া নামে এক গাড়ি চালক বলেন, বাধ্য হয়ে গাড়ি চালায়রাম। রাস্তায় অসংখ্য গর্ত রয়েছে। পাকা রাস্তার অবস্থা আরো খারাপ। গাড়ি চালানোর সময় অনেক ঝাঁকুনি সহ্য করতে হয়। গাড়ির সকল পার্টস নড়ে ওঠে।
এদিকে মদনপুর-দিরাই সড়ক সংস্কারে দীর্ঘদিন যাবৎ বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উঠলেও
সড়কটির সংস্কার কাজ শুরু করতে তেমন কোন উদ্যোগ দেখা না গেলেও সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বললেন অন্য কথা। তিনি বলেন মদনপুর-দিরাই সড়ক সংস্কার কাজের টেন্ডার হয়েছে। এখন টেন্ডারের মূল্যায়ন চলছে। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শুরু করা যাবে। তিনি বলেন,সড়কের যেখান মাটি সরে গেছে সেখানে মাটি ভরাট করা হবে।
- জাতিসংঘের তরুণ সেচ্ছাসেবক মধ্যনগরের কামরুল হাসান
- দিরাই-শাল্লায় ঝটিকা সফর সুরঞ্জিতের আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ মুকুটের


