মাও.মুহাম্মদ এমদাদুল হক
যে ব্যক্তি বার্ধ্যকের এই পর্যায়ে পৌছে গেছে যে, তার রোজা রাখার ক্ষমতা নেই কিংবা এরূপ অসুস্থ হয়ে পড়েছে যে তার আরোগ্য লাভের আশা নেই, এমন ব্যক্তি রোজা না রেখে প্রতিটি রোজার বিনিময়ে একজন মিসকিনকে সাদকায়ে ফিতর সমান খাবার দিবে অথবা সকাল সন্ধ্যা পেট ভরে খাওয়াবে। শরিয়াতের ভাষায় একেই ফিদইয়া বলে। অথবা খাদ্যের পরিবর্তে সমপরিমাণ টাকা কোন মিসকিনকে দেওয়াও জায়েজ আছে।
যদি সারা জীবন কোন ব্যক্তি রোজা রাখার মান্নত করে তার পর যদি সে দুর্বল হওয়ার কারণে রোজা রাখতে না পারে তাহলে ফিদইয়া দিতে হবে। ফিদইয়া রমজানের শুরুতে অথবা শেষের দিকে একসাথে দেওয়া যায়। ফিদইয়া দেওয়ার পর যদি সে রোজা রাখতে সক্ষম হয়ে যায় তবে আদায়কৃত ফিদইয়া বাতিল হয়ে যাবে এবং ঐ ব্যক্তির উপর ক্বাজা রোজা রাখা ওয়াজিব হয়ে যাবে। অসুস্থ বা সফরের কারণে যদি কেউ রোজা রাখতে না পারে এবং ঐ অবস্থায় মারা যায়, তাহলে তার উপর এই রোজার ক্বাজা ওয়াজিব হবে না। যদি সে ফিদইয়া আদায়ের অসিয়ত করে যায় তাহলে তার ওয়ারিশগণ তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি থেকে তা আদায় করবে।
অসুস্থ ব্যক্তি সুস্থ হয়ে গেলে কিংবা মুসাফির বাড়িতে ফিরার পর যদি এতটুকু সময় পায় যাতে সে রোজা রাখতে পারবে, তাহলে তার উপর রোজাগুলোর ক্বাজা আদায় করা ওয়াজিব হবে। যদি তার ক্বাজা আদায়ের পূর্বে মারা যাওয়ার উপক্রম হয় তাহলে তার উপর ওয়াজিব হল ফিদইয়া আদায়ের ওসিয়ত করে যাওয়া।
ওসিয়ত না করে যদি সে মারা যায়, তাহলে তার ওয়ারিশগণ নফল হিসাবে ফিদইয়া আদায় করলে আদায় হয়ে যাবে। কিন্তু ওসিয়ত করা ছাড়া তাদের জন্য আদায় করা ওয়াজিব নয়।
নামাজ না পড়ে থাকলে তার ফিদইয়াও এরূপই আদায় করতে হয়। আমাদের সমাজে অনেক লোক আছেন সামান্য অসুস্থতার করণে রোজা ছেড়ে দেই, কিন্তু ফিদইয়াও দেই না, তাহলে মনে রাখতে হবে আপনার উপর এই অনাদায় রোজার ফরজ থেকে গেল। তার হিসাব দিতে হবে। সামর্থবান হয়ে থাকলে ফিদইয়া দেওয়ার অভ্যাস করুন। আপনার নিকটস্থ ইমাম বা উলামায়ে কেরামকে জিজ্ঞাস করুন।
লেখক. প্রিন্সিপাল হযরত খাদিজাতুল কুবরা ইসলামিয়া বালিকা মাদরাসা আপ্তাবনগর, সুনামগঞ্জ।


