সু.খবর ডেস্ক
জাতিগত নিধনযজ্ঞের শিকার রোহিঙ্গাদের সাহায্যে এগিয়ে আসতে এবং তাদের আশ্রয়দানকারী বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে ২৩ অক্টোবর সম্মেলন ডেকেছে জাতিসংঘের তিনটি সংস্থা। জাতিসংঘের সংবাদ সম্প্রচার সাইট ইউএস নিউজ সেন্টার’র প্রতিবেদনে একথা বলা হয়েছে। এক যুক্ত বিবৃতিতে জাতিসংঘ জানিয়েছে, শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্রান্ডি, জরুরি ত্রাণ সমন্বয়ক ও মানবাধিকার বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল মার্ক লোকোক ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন বিষয়ক এজেন্সি ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আওএম) এর মহাপরিচালক উইলিয়াম লেসি সুইং আগামী ২৩ অক্টোবর এ সম্মেলন করার পরিকল্পনা নিয়েছেন।
রাখাইনের সাম্প্রতিক সহিংসতায় পালিয়ে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা ছয় লাখ ছুঁয়েছে। তাদের সহায়তা নিশ্চিতে বাংলাদেশ সরকার, স্থানীয় দাতব্য সংস্থা, স্বেচ্ছাসেবক, জাতিসংঘ ও এনজিওগুলো কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু এই সহায়তাকে যথেষ্ট মনে করছে না জাতিসংঘ।
যুক্ত বিবৃতিতে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবিক সহায়তা, নিরাপত্তা ও মৌলিক আশ্রয় নিশ্চিতের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। এতে বলা হয়, অনেক স্থানে এখনও বিশুদ্ধ পানির সুবিধা ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নেই। এতে আশ্রয়গ্রহণকারী ও স্থানীয়দের উভয়ের জন্য বৃদ্ধি পাচ্ছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি। বিভিন্ন এনজিও সেখানে বড় ধরনের মহামারি দেখা দেওয়ারও আশঙ্কা করছেন।
এই পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ সম্প্রতি প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর জন্য ৪৩৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থ সহায়তা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে।
সোমবার তিন সংস্থার যুক্ত বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে তাদের সীমান্ত খুলে দিয়েছে। পালিয়ে আসা মানুষদের জন্য নিশ্চিত করেছে নিরাপত্তা আর আশ্রয়। রোহিঙ্গাদের প্রতি স্থানীয়দের দয়া ও ভালোবাসা আমাদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।’
এবার জেনেভায় মানবাধিকার সমন্বয় সংস্থা (ওসিএইচএ), আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ও জাতিসংঘের শরণার্থী কমিশন ইউএনএইচসিআর সম্মেলনে বসছে। ওই বৈঠকে বিভিন্ন দেশের সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করবে। দায়িত্ব ভাগ করে নেবে।
এরই মধ্যে সম্মেলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও কুয়েত। তাদের দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই সংকট সারা বিশ্বের সরকারগুলোর কাছে দায়িত্ব পালনের সংহতি ও এই দায় ভাগাভাগি করে নেয়ার সুযোগ এনে দিয়েছে। এ লক্ষ্যে একটি জয়েন্ট রেসপন্স প্লান এরই মধ্যে হাতে নেওয়া হয়েছে।
গত ২৫ আগস্ট শুরু হওয়া নতুন সংকটে রাখাইন প্রদেশ থেকে প্রায় ছয় লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। ছয় সহ¯্রাধিক রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের প্রায় অর্ধেক গ্রাম পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।


